অন্তঃসত্ত্বাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গর্ভপাত

বাংলারজমিন

শেরপুর প্রতিনিধি | ১২ জুন ২০১৯, বুধবার
 জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শেরপুরের নকলায় ডলি খানম (২২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে বর্বর নির্যাতনে গর্ভের সন্তান নষ্টের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র ফাঁস হওয়ায় এলাকায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। ডলি খানম পৌর শহরের কায়দা এলাকার দরিদ্র কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী ও স্থানীয় চন্দ্রকোনা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল বিকালে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী শফিউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার বড়ভাই নেছার উদ্দিনের ইন্ধনে তার স্ত্রী লাখী আক্তার এবং অপর দুই ভাই আবু সালেহ ও সলিমউল্লাহসহ তাদের ভাড়াটে লোকজন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানমকে বর্বরোচিত নির্যাতন চালিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছে। এ ছাড়া তার প্রভাবেই থানা পুলিশের এসআই ওমর ফারুক মহিলা কনস্টেবলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডলি খানমকে উদ্ধারের পরও কোনো প্রতিকার পাইনি। জানা যায়, নকলা পৌর শহরের উপকণ্ঠ কায়দা গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহর সঙ্গে এক খণ্ড জায়গা নিয়ে তার সহোদর বড়ভাই আবু সালেহ (৫২), নেছার উদ্দিন (৪৮) ও সলিমউল্লাহর (৪৪) বিরোধ ও দেওয়ানী মোকদ্দমা চলে আসছে। এর জের ধরে গত ১০ই মে সকালে স্থানীয় গোরস্থান সংলগ্ন শফিউল্লাহর স্বত্ব দখলীয় জমির ইরি-বোরো ধান আবু সালেহ ও তার লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে কাটতে গেলে শফিউল্লাহ বাধা দেন। এতে তিনি প্রতিপক্ষের ধাওয়ার মুখে পিছু হটে নকলা থানায় ছুটে যান। ততক্ষণে আবু সালেহর নেতৃত্বে একদল লোক ধান কাটতে শুরু করলে শফিউল্লাহর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানম ডাক-চিৎকার দিয়ে বাধা দিতে গেলে আবু সালেহর হুকুমে তার ছোটভাই সলিমউল্লাহ, ভাই বউ লাখী আক্তারসহ অন্যরা তাকে ঘেরাও করে ফেলে। একপর্যায়ে তার চোখে মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে তাকে টানা-হেঁচড়া করে পাশের ক্ষেতের আইলে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছের সঙ্গে পেছনে হাত বেঁধে রাখে। সেই সঙ্গে পাশের অন্য গাছের সঙ্গে টানা দিয়ে বেঁধে ফেলে তার দুই পা। এখানেই শেষ নয়, এরপর যৌনাঙ্গসহ পেটে, বুকে, পিঠে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি-লাথির আঘাতে তাকে নিস্তেজ করে ফেলে। ওই নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে লাখী আক্তার। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী একজন স্বামী শফিউল্লাহকে ওই নির্যাতনের খবর জানাতে ছুটে যায় থানায়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় ডলি খানমকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত আবু সালেহ ও তার ছোট ভাইয়ের বউ লাখী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, নির্যাতনের কারণে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত হয়েছে। এই ঘটনায় অসহায় শফিউল্লাহ ৩রা জুন শেরপুরের আমলি আদালতে আবু সালেহসহ পাঁচ জনকে স্ব-নামে ও আরো অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করে একটি নালিশি মামলা করেন। বিষয়টি সম্পর্কে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, জমি-জমার বিষয় নিয়ে ভাই-ভাইদের মধ্যে বিরোধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে দু’পক্ষকেই শান্ত করা হয়েছিল। গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে জামালপুর পিবিআইয়ের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রাণী সরকার বলেন, মামলাটি এখনো হাতে পাইনি। পেলে অবশ্যই দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঢাকা শহরকে সরকার লাস ভেগাসে পরিণত করেছে: মঈন খান

অবৈধ জুয়ার আড্ডা বা ক্যাসিনো চলতে দেয়া হবে না: ডিএমপি কমিশনার

শুধু ক্যাসিনো নয়, সব অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে ৩ মামলা, গুলশান থানায় হস্তান্তর

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী হওয়া উচিত?

২ দিনের সফরে সৌদি আরবে ইমরান

ছিনতাইয়ের মামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২ জনের কারাদণ্ড

আফগানিস্তানে তালেবানের ট্রাকবোমা হামলায় নিহত ২০, আহত ৯৫

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকিয়া, যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির অভিযোগে দুদুর বিরুদ্ধে মামলা

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় বোঝা বাংলাদেশের দরিদ্রদের কাঁধে

গজারিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও ২ শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

‘সৌদি আরবে হামলায় সন্দেহাতীতভাবে ইরানের মদত রয়েছে’

বিএনপি নেতা দুদুর বাড়িতে ছাত্রলীগের হামলা

রাতভর ৪ ক্যাসিনোতে অভিযান