জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সব কিছু করা সম্ভব: ড. কামাল

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৬ মে ২০১৯, রোববার
দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সব কিছু করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইতিহাস বলে, বাংলাদেশে এমন কোনো সমস্যা নেই যা জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সমাধান করা যায়নি। স্বাধীনতার যুদ্ধেও আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে স্বাধীন হয়েছি। অর্থাৎ অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, এটা আমরা বারবার প্রমাণ করেছি। আমাদের যে লক্ষ্য আছে সেটাকে অর্জন করতে হলে, স্বাধীনতার ঐক্যকে রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ঘরে ঘরে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আজকে সবাই ঐক্যর কথা বলেছেন। ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই।
দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংবিধানের মধ্যে আছে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা দেশ চালাবে। দেশের মালিক জনগণ। জনগণকে দেশের মালিকানা ভোগ করতে হবে। নির্বাচনের অর্থ হল অবাধ নিরপেক্ষা নির্বাচন। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকেন। সংবিধানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তাহলে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে যারা সরকারে বসে আছে তারা কেউ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। জোর জবরদস্তি করে তারা ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সংবিধানকে কেটে তছনছ করে দিয়েছে। মানুষের সমস্ত মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংগ্রামী নেতা, যিনি বার বার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, কারাবরণ করেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, যাকে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের মাতা বলে অভিহিত করেছেন, সেই নেত্রীকে তারা দীর্ঘকাল ধরে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। একটি মাত্র কারণে তাকে করাগারে রাখা হয়েছে। সরকার জানে খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তাদের সব ষড়যন্ত্র বাঞ্চাল হয়ে যাবে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকাল ১১টায় নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। এতো বড় একটা জঘন্য নির্বাচন গেল। আমরা সবাই দুই তিন দিন আগে থেকে জানি নির্বাচনে কি হচ্ছে। আর উনি জানেন না। এই ঘটনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের লজ্জা হওয়া উচিৎ। আসিফ নজরুল বলেন, আমরা যখন রাজনীতিই বুঝতাম না, সেই ছোটবেলা থেকে আমরা দেখে আসছি দেশে একজন সাধারণ মানুষ মারা গেলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে কর্মসূচি দিতো। আজকে দেশের পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, প্রতিদিন দেশে শিশু-কিশোরী, নারী ধর্ষণ ও মানুষ খুন হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার মতো কোনো সাহস রাজনৈতিক দলগুলোর নেই।

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সালাম ও আসিফ নজরুল বলেছেন নির্বাচনের পর হরতাল হওয়া উচিত ছিল। আমি এটার সমর্থন করি। আমি এটার প্রস্তাবক ছিলাম। আবার সালাম বলেছেন, তখন দিতে পারিনি বলে এখন দিতে পারবো না? অবশ্যই পারবো, কেনো পারবো না। অনেক ইস্যু আছে আমাদের সামনে। শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, খালেদা জিয়া চলাফেরা করতে পারেন না। তাকে বিনা কারণে কারাগারে রাখা হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতেও তো হরতাল হতে পারে।
তিনি বলেন, আন্দোলন যদি চালাতে চাই তাহলে অতীতের ভুলগুলো আমি জানাতে চাই। নিশ্চয় ভুল হয়েছে। অনেক বলা যাবে। কিন্তু আরো ভালো হয় ভুলগুলো একপাশে ফেলে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
ইফতার ও আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দিলারা চৌধুরী, গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্প ধারার সভাপতি নুরুল আমীন বেপারী প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম পথিক, গণদলের সভাপতি গোলাম মাওলা চৌধুরী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন