ছয় শতাধিক কারখানায় বেতন বোনাস নিয়ে সমস্যা

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২৫ মে ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬
ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যায় আছে ছয় শতাধিক কারখানা। খাত সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানান, ঈদের আগে শিল্প-কারখানাগুলোয় ৭টি কারণে শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়। এর মধ্যে ঈদ উপলক্ষে যথাযথ সময় ও চাহিদা অনুযায়ী ছুটি না পাওয়া। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান না করে হঠাৎ ঈদের প্রাক্কালে শিল্প-কারখানা বন্ধ অথবা লে-অফ ঘোষণা করা। শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন ও হয়রানি করা। সর্বোপরি রমজানে শ্রমিকদের সাধ্যাতীত কার্যাদেশ প্রদান ও রমজান মাসে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করা।
শিল্প পুলিশের আওতায় সারা দেশের ৬টি এলাকায় কারখানা আছে ৭ হাজার ৪৬৭টি। এর মধ্যে শিল্পঘন এলাকার শিল্প খাত মিলিয়ে  
৬৭৪টি কারখানায় অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।
সারা দেশের ৬টি এলাকা হলো- নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও খুলনা। এর মধ্যে অসন্তোষপ্রবণ কারখানার হার বেশি গাজীপুরে।
সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জে বেতন-বোনাস নিয়ে অসন্তোষ হতে পারে এ ধরনের কারখানার সংখ্যা ১৩৭। আশুলিয়া এলাকায় মোট কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ১৩৬। এর মধ্যে অসন্তোষপ্রবণ ৭৪টি। এ হিসাবে এ এলাকায় মোট কারখানার ৬.৫ শতাংশ অসন্তোষপ্রবণ।
শিল্প পুলিশের হিসাবে, পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া, পাদুকাসহ সব খাত মিলিয়ে গাজীপুরে কারখানা আছে ২ হাজার ১৮৩টি। এর মধ্যে অসন্তোষপ্রবণ কারখানার সংখ্যা ২৬৮। এ হিসাবে শিল্প এলাকাটির মোট কারখানার ১২.২ শতাংশ অসন্তোষপ্রবণ।
নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সব শিল্পের কারখানা রয়েছে ২ হাজার ৪০০টি। এর মধ্যে অসন্তোষ প্রবণ কারখানা ১৩৭টি। অর্থাৎ এ এলাকায় অসন্তোষপ্রবণ কারখানার হার ৫.৭ শতাংশ। ময়মনসিংহ এলাকায় মোট কারখানা আছে ২৮৩টি, যার মধ্যে ২৫টি অসন্তোষপ্রবণ। অর্থাৎ এলাকাটির ৮.৮৩ শতাংশ কারখানায় অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম এলাকায় ১ হাজার ১২৯টি কারখানার মধ্যে ১৩৫টি অসন্তোষপ্রবণ বলে মনে করছে শিল্প পুলিশ। এ হিসাবে চট্টগ্রামে অসন্তোষপ্রবণ কারখানার হার ১১.৯৫ শতাংশ। এছাড়া খুলনা এলাকায় বিভিন্ন খাতের কারখানা রয়েছে ৩৩৬টি। এর মধ্যে ৩৫টি অর্থাৎ ১০.৪১ শতাংশ অসন্তোষপ্রবণ।
শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বরাবরের মতো ঈদের সময় শ্রম অসন্তোষের বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি আমরা। আশা করছি, বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই ঈদ উদযাপন করতে পারবে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ।
ঈদের আগে শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অসন্তোষপ্রবণ কারখানার মধ্যে শ্রমঘন পোশাক কারখানাই বেশি। শিল্প অধ্যুষিত ৬টি এলাকায় অসন্তোষপ্রবণ পোশাক কারখানা আছে ৪১৬টি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানা রয়েছে ৩২৭টি ও বিকেএমইএর সদস্য ৮৯টি। বস্ত্র খাতের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্য কারখানার সংখ্যা ১৯। এর বাইরে অন্য খাতের অসন্তোষপ্রবণ কারখানা রয়েছে ২৩৯টি।
শিল্পভিত্তিক অসন্তোষপ্রবণ কারখানার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আশুলিয়া এলাকায় এ ধরনের কারখানার মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ৪৩টি ও বিকেএমইএ সদস্য ৫টি। অন্যান্য শিল্পের কারখানা রয়েছে ২৬টি। গাজীপুর এলাকায় অসন্তোষপ্রবণ ২৬৮টি কারখানার মধ্যে ১৬৫টিই বিজিএমইএর সদস্য। এছাড়া বিকেএমইএর সদস্য ১৮, বিটিএমএর সদস্য ছয় এবং অন্যান্য শিল্প-কারখানা রয়েছে ৮৯টি।
নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অসন্তোষপ্রবণ ১৩৭টি কারখানার মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ৩৩, বিকেএমইএর সদস্য ৫৬, বিটিএমএর সদস্য ছয় এবং অন্যান্য শিল্পের কারখানা রয়েছে ৪২টি। ময়মনসিংহ এলাকার ২৫টি অসন্তোষপ্রবণ কারখানার মধ্যে ১৯টি বিজিএমইএর সদস্য। এছাড়া বিটিএমএর সদস্য কারখানা ৫ এবং অন্যান্য শিল্প-কারখানা আছে একটি।
চট্টগ্রাম এলাকায় অসন্তোষপ্রবণ ১৩৫টি কারখানার মধ্যে ৬৭টি বিজিএমইএর সদস্য। বিকেএমইএর সদস্য অসন্তোষপ্রবণ কারখানা রয়েছে ১০, বিটিএমএর সদস্য দুই ও অন্যান্য শিল্পের ৫৬টি। এছাড়া খুলনা এলাকায় অসন্তোষপ্রবণ ৩৫টি কারখানার বেশির ভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন