বান্দরবানে আওয়ামী লীগ নেতাকে অপহরণ

অনলাইন

বান্দরবান প্রতিনিধি | ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৪:০০ | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৫৯
বান্দরবানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেএসএস ও মগ বাহিনীর কিলিং মিশনে এবার আওয়ামী নেতা সাবেক পৌর কমিশনারকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের উজি হেডম্যান পাড়া খামার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে তাকে ধরে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অপহৃত ব্যক্তির নাম চথোয়াই মং মারমা (৫২)। তার বাবার নাম মৃত মংমং মারমা।

তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার অপহরণের সময় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা চথোয়াইর স্ত্রীকেও চড় থাপ্পড় ও লাথি মেরে হুমকি দেয়।

বুধবার রাতে ঘটনার পর সরজমিনে গেলে মেচাচিং মারমা বলেন, খামারবাড়িতে রাতে টিভিতে সংবাদ দেখার পর রান্নাঘরে বসে গল্প করছিলেন চথোয়াই মং। এ সময় হঠাৎ করে ৮-১০ জনের অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে চথোয়াইকে অস্ত্রের মূখে জিম্মী করে। পরে তার ব্যবহৃত এনড্রয়েট মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে খামারবাড়ির দক্ষিণ দিকে ত্রিপুরা পাড়া থেকে পশ্চিম দিকে নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীকে খবর দেয়। পরে রাত ৯টায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দূর্গম পাহাড়ে অভিযান শুরু করেছে।

আজ সকালে পুলিশ সুপারের নেতিত্বে উজি হেডম্যান পাড়া, বুড়িপাড়া ঝদ্দানপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলে। বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার অপহরণের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অপহৃত চথোয়াইকে উদ্ধারে বান্দরবান সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযান চলছে।  

আইনশৃংখলা বাহিনীর কড়া অভিযানের মাঝেও অপহরণের ঘটনাটি জেলা শহর জুড়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা চথোয়াই অপহরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা করেছে আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেবী ইসলামসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধু মুক্ত মঞ্চে গিয়ে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাহাড়ের পরিবেশকে অশান্ত করতে জেএসএস এর সন্ত্রাসীরা একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা ও অপহরণ করছে। তাই অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং চথোয়াই মংকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেয়ার দাবি জানান তারা। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে ঘটনারপর উজি হেডম্যান পাড়া এলাকায় আতঙ্ক চড়িয়ে পড়েছে। ছোটখাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও বিভিন্ন বসত বাড়িতে পুরুষরা নিরাপদ দূরত্বে থাকছেন। স্থানীয়রা অপহরণের এই ঘটনার জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) কে দায়ী করছে।

প্রসঙ্গত ওই এলাকায় বর্তমানে জেএসএস ছাড়াও মগ বাহিনী ও ইউপিডিএফের কিছু সদস্য সক্রিয় রয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাড়ার কয়েক বাসিন্দা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ৭ই মে সন্ত্রাসীরা জনসংহতি সমিতির কর্মী বিনয় তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করে। একইদিন অপহরণ করা হয় ফোলাধন তংচঙ্গা নামের অপর কর্মীকে। এখনও তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এছাড়া ৯ই মে সন্ত্রাসীরা জনসংহতি সমিতির সমর্থক জয় মনি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করে। ১৯ মে বান্দরবানের রাজবিলায় আওয়ামী লীগের সর্মথক ক্য চিং থোয়াই মারমাকে (২৭) অপহরণের পর গুলি করে হত্যা করা হয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ছাত্রদলের ভোট শুরু

সেই যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

অভিযানে যুবলীগ নেতা খালেদের বাসায় যা পাওয়া গেল

পার্লামেন্ট স্থগিত নিয়ে রায় দেয়ার ক্ষমতা নেই আদালতের: সরকার পক্ষ

কী হবে যুবলীগের ট্রাইব্যুনালে?

দেশের অর্থনীতিতে বেক্সিমকোর অবদান অনস্বীকার্য: টিআইবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা

শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে এনআরসি নিয়ে আলোচনা হবে

অর্থশাস্ত্রকে সামাজিক বিজ্ঞানে পরিণত করতে হলে পুনর্বিন্যাস জরুরি

নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১, লাশ দাফনে বাধা

পিয়াজের দাম আর কত বাড়বে?

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৫৩৬

৯ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় মাকসুদা বেগমের আকুতি

তারা টকশোর অ্যাংকর নাকি অনভিজ্ঞ বক্তা?

‘টাকা দিয়ে ছাত্র প্রতিনিধি এর নাম কি রাজনীতি’