ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু অনলাইনে চরম ভোগান্তি

শেষের পাতা

শাহনেওয়াজ বাবলু | ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২১
মধ্যরাত থেকে কাউন্টারের সামনে মানুষের অপেক্ষা। আকাঙ্ক্ষিত টিকিটের জন্য। হট্টগোল। কাউন্টারের ধীরগতি। টিকিট প্রত্যাশী মানুষের দীর্ঘলাইন। সবমিলিয়ে প্রতিবারের মতো চিরচেনা রুপ নিয়ে গতকাল থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে কমলাপুরে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩১শে মে’র টিকিট। এই দিনের টিকিট পেতে প্রতিটি কাউন্টারের সামনে থেকে টিকিট প্রত্যাশী মানুষের দীর্ঘলাইন ঠেকেছে স্টেশনের বাইরে পর্যন্ত। নারীদের জন্য আছে আলাদা কাউন্টার। কিন্ত ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে এবারই প্রথম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে চারটি জায়গা থেকে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ই-টিকেটিংয়ের জন্য ৫০ শতাংশ টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সকাল থেকেই রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন অনেকে। তাই ই-টিকিট সংগ্রহ করতে না পেরে সকালে অনেকেই ছুটছেন স্টেশনের দিকে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিদর্শনের পর রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, সেবা দাতা সংস্থা সিএনএসবিডিকে পাঁচ দিন সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ই-টিকেটিং সেবা ঠিক না হলে অবিক্রিত টিকিটগুলো ২৭শে মে কাউন্টারে দেয়া হবে। সিএনএসবিডি কাঙ্খিত যাত্রী সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সেপ্টেম্বরে তাদের সঙ্গে যে চুক্তি হওয়ার কথা তা আর হবে না।

এর আগে বেলা ১০টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে আসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ শুনেন। তারপর রেল স্টেশন ম্যানেজারসহ রেলের ও সিএনএসবিডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘টিকিট না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে আমরা এসেছি। তবে অভিযোগগুলো অ্যাপের মাধ্যমে ও অনলাইনে টিকিট কিনতে না পারার। কাউন্টারে টিকিট বিক্রি নিয়ে তেমন অভিযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা সিএন?এসবিডির কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাইনি। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কমিশনে আমাদের প্রতিবেদন জমা দিবো।’

সকাল থেকে অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গৃহিণী আসমা আরা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঈদের আগে দিনাজপুর যাবো। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের জন্য সকাল থেকে চেষ্টা করছি। পারলাম না। অ্যাপে ঢোকাই যাচ্ছে না। এজন্য আমি এখানে চলে এসেছি।’
মাহবুব কবির মিলন নামে একজন বলেন, সকাল নয়টা থেকে রেলওয়ের অ্যাপ খালি ঘুরছে আর ঘুরছে। টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সিএনএসবিডির অনলাইন অব্যবস্থাপনা এজন্য দায়ী।

কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অগ্রিম টিকিট কাটতে আসা যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। কাউন্টারের সামনে বসেই অনেকে সেহরি খেয়েছেন। টিকিট পাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাদের অনেকে কাঙ্খিত টিকিট পেয়েছেন। সকালের দিকে আসা অধিকাংশ লোকই টিকিট পাবেন বলে আশা করছেন।

একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন রফিক। রাজশাহীতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে যাওয়ার জন্য টিকিট কিনতে এসেছেন তিনি। মহাসড়কে যানজট এড়াতে ট্রেনে করেই রাজশাহী যাওয়ার টিকিট নিতে এসেছেন তিনি। টিকিট নামের সোনার হরিণ পাওয়ার পর রফিক জানান, প্রথম দিনের হলেও টিকিট পাব কি না তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। সকালেই টিকিট পেয়ে ভালোই লাগছে। টিকিটের জন্য গতকাল সন্ধ্যার পরই লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। যাক এখন নিশ্চিত বাড়ি যেতে আর ঝামেলা পোহাতে হবে না।

সিএনএসবিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনির উজ-জামান চৌধুরী বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারকারী টিকিট নিতে চেষ্টা করছে। ফলে সার্ভারের উপর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অনেকেই ইন্টারনেট থেকে ও অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট নিতে পারেননি। তবে টিকেট বিক্রি বন্ধ নেই।

তার দাবি, বুধবার কাউন্টারের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার ২৩৫টি টিকিটের মধ্যে বেলা ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ১০ হাজার ৫৪০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা বরাদ্দকৃত টিকিটের ৫২ শতাংশ। আর ই-টিকেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ ১১ হাজার ১৪৫টির মধ্যে একই সময় পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৮০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৫৭ শতাংশ। ঢাকা থেকে ৩৩টি আন্তঃনগর এবং চারটা বিশেষ ট্রেনসহ ৩৭টি ট্রেনের ২৮ হাজার ২২৪টি টিকিট বিক্রি হবে। কমলাপুর স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াতকারী ১৬টি ট্রেনের ১৪ হাজার ৯৫টি টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে কাউন্টার থেকে পাঁচ হাজার ৯৪৪টি এবং অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপসে আট হাজার ১৫১টি টিকিট বিক্রি হবে।

বিমান বন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ৭টি আন্তঃনগর ট্রেনের চার হাজার ৮৭৯টি টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে দুই হাজার ৫৪৮টি অনলাইনে এবং দুই হাজার ৩৩১টি টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে। তেজগাঁও স্টেশন থেকে জামালপুরগামী পাঁচটি ট্রেনের তিন হাজার ৪৪৪টি টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ৬৪৪টি অনলাইনে এবং ৬১৪টি কাউন্টারে বিক্রি হবে।

বনানী রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জ রুটের দুটি ট্রেনের এক হাজার ২৫৮টি টিকিট বিক্রি হবে। ৬৪৪টি টিকিট অনলাইনে বাকি ৬১৪টি টিকিট কাউন্টারে দেয়া হবে। ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলভবন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটের সাতটি আন্তঃনগর ট্রেনের চার হাজার ৫৪৮টি টিকিট বিক্রি হবে। এরমধ্যে দুই হাজার ২৫১টি টিকিট অনলাইনে এবং দুই হাজার ২৯৭টি টিকিট কাউন্টারে বিক্রি হবে।

একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এজন্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। মঙ্গলবার থেকে বাড়তি চাপ সামাল দিতে স্টেশনে বসানো হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প। টিকিট বিক্রিতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে মনিটরিং টিম ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি কাজ করছে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গাদের নামে এনআইডি তৈরিতে ইসির  ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত: এনআইডির পরিচালক

জি কে শামীম ও খালেদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

রাজধানীর ফু-ওয়াং ক্লাবে পুলিশের অভিযান

ছাত্রদলের উপর হামলায় ফখরুলের নিন্দা

ট্রাম্পের সঙ্গে ইমরান খানের বৈঠক আজ

এবার ময়লা ছুঁড়ার জবাব গোলে দিলেন নেইমার

নায়িকার সঙ্গে আড্ডা

ইয়াবাসহ আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র গ্রেপ্তার

‘অভিযান নিয়ে যেন আতঙ্ক না ছড়ায়’

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত-২০

‘অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে, অনেককেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে’

মোদির বিরুদ্ধে পররাষ্ট্রনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

‘নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আটক দু’ভাই জেএমবি’র সদস্য’

ম্যাসেজ পার্লারে আলো-আঁধারের আড়ালে

ছবিতে এমি অ্যাওয়ার্ডস

শামীমের টাকার ভাগ পেতেন প্রভাবশালী কয়েক নেতা