বুথ ফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিত

মোদীই ফের সরকার গঠন করবেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির হানা

ভারত

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে | ২০ মে ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৩
বুথফেরত সমীক্ষা যদি সত্যি হয় তাহলে আবারো সরকার গঠন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ঘাঁটিতে হানা দিচ্ছে তার দল বিজেপি। এখানে অভূতপূর্ব ফল করতে যাচ্ছে বিজেপি। বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, তারা এ রাজ্যে দ্বিতীয় বৃহৎ দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।  

লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে রোববার। এবার অপেক্ষা আগামী ২৩ মে নির্বাচন ফল ঘোষণার জন্য। তবে এই ফল ঘোষণার আগেই বুথফেরত সমীক্ষায় একটা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে কে বসবে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে।  বুথফেরত সমীক্ষা যে সবসময় মিলে যায় তা নয়। আবার অনেকটা সঠিক ইঙ্গিত দেওয়ার ক্ষেত্রে বুথ ফেরত সমীক্ষা আশ্চর্যজনকভাবে সফল হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে। সেফোলজিস্টরা অবশ্য এই সমীক্ষাকে চর্চা বলেই ধরার কথা বলেছেন। ভারতের লোকসভার মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৫৪২টি আসনে ভোট হয়েছে। ১টিতে ভোট হয় নি। সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক নাম্বার হচ্ছে ২৭২। রবিবার ভোট গ্রহণের শেষে ভারতের বিভিন্ন জাতীয় টিভি চ্যানেল বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থাকে দিয়ে যে সমীক্ষা করিয়েছে তার অধিকাংশতেই  বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট এনডিএ-র জয় নিশ্চিত করেছে। বিরোধী ও আঞ্চলিক দলগুলি যে আত্মপ্রত্যয় নিয়ে বিজেপিকে সরকার গঠনে বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার জন্য যে সূত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে তা এই বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশের পর অনেকটাই হতাশ করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, এবার ভারতে মোদীর পক্ষে প্রবল হাওয়া না থাকা সত্ত্বেও মানুষ মোদীর প্রতিই আস্থা জানিয়েছে।  টাইমস নাও-ভিএমআর-র সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেতে পারে ৩০৬টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ পেতে পারে ১৩২টি আসন এবং অন্যান্যরা পেতে পারে ১০৪টি আসন। এনডিটিভির সমীক্ষা অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩০৩টি আসন। ইউপিএ ১২৬ এবং অন্যান্যরা পেতে পারে ১১৩টি আসন। অন্যদিকে রিপাবলিক টিভি-সি ভোটারের  সমীক্ষাতেও বলা হয়েছে এনডিএ ২৮৭ আসন পাবে। অন্যদিকে ইউপিএ পাবে ১২৮ টি এবং অন্যান্যরা পাবে ১২৭টি আসন। নিউ নেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ২৮০-২৯০টি আসন, ইউপিএ পেতে পারে ১১৮-১২৬ এবং অন্যান্যরা পেতে পারে ১৩০-১৩৮টি আসন।  একমাত্র এবিপি আনন্দ- নিয়েলসেনের সমীক্ষাতেই এনডিএ ২৬৭টি আসন পেতে পারে বলে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ম্যাজিক নাম্বার ২৭২ থেকে এনডিএ ৫ আসন পিছিয়ে থাকছে। আর ইউপিএ পেতে পারে ১২৭টি আসন এবং অন্যান্যরা ১৪৮টি আসন।  বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে মোদীর রাজ্যে ভাল ফল করছে বিজেপি। গুজরাটে বিজেপির ২৫ থেকে ২৬টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা। অন্যদিকে, যে মধ্যপ্রদেশে সদ্য কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে, সেখানেও বেশির ভাগ আসন পেতে পারে বিজেপি। আসাম থেকেই বিজেপি-অগপ জোট ৭টি আসন পেতে পারে। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে ৭টির মধ্যে ৭টিতেই বিজেপির জয় নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সমীক্ষা । একমাত্র উত্তরপ্রদেশেই এসপি-বিএসপি-আরএলডি মহাজোটের কাছে বিজেপিতে হার স্বীকার করতে হচ্ছে। তবে যতটা খারাপ ভাবা গিয়েছিল তা হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে সমীক্ষা থেকে। নিয়েলসেনের সমীক্ষা অনুয়ায়ী উত্তরপ্রদেশে এনডিএ জোট পেতে পারে ২২টি আসন। তবে মহাজোট পেতে পারে ৫৬টি আসন। কংগ্রেস প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মাঠে নামিয়েও ২টির বেশি আসন পাচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বারে বিজেপি একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ২৮২টি আসন। আর এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৩৬টি আসন। অন্যদিকে গতবার ইউপিএ জোট পেয়েছিল মাত্র ৬০টি আসন। অন্যান্যরা ১৪৭টি আসন।  

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে
বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে হানা দিতে পারে বিজেপি। তারা এখানে অভূতপূর্ব ফল করতে পারে বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রায় সব সমীক্ষাতেই বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি গতবারের আসন সংখ্যা ২ থেকে বেশ কয়েকগুন বাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আসন কমতে পারে। গত নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৩৪টি আসন। এবার তা কমে ২৪-২৮টিতে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি পেতে পারে ১১-১৬টি আসন। টাইমস নাউ’-এর সমীক্ষাতে বলা হয়েছে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ১১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ২৮টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস পেতে পারে ২টি এবং বামফ্রন্ট ১টি আসন। ইন্ডিয়া নিউজের সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপি পেতে পারে ১৪টি আসন, তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ২৬টি আসন এবং কংগ্রেস পেতে পারে ২টি আসন। রিপাবলিক টিভির মতে, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি আসন পেতে পারে। সেখানে বিজেপি পাবে ১১টি এবং কংগ্রেস পাবে ২টি আসন। এনডিটিভির মতে, বিজেপি ১৬টি আসন পেতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ২৪টি এবং  কংগ্রেস ২টি আসন। এবারের নির্বাচনে দিল্লির রাজনীতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী রাজ্যের ৪২টির মধ্যে ৪২টি আসন পাবার লক্ষ্যেই লড়াইয়ে নেমেছিলেন। অন্যদিকে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভাল সংখ্যক আসন পাওয়ার লক্ষ্যে প্রথম থেকেই রাজ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মোদী নিজে পশ্চিমবঙ্গে  রেকর্ড ১৯ বার প্রচারে অংশ নিয়েছেন। আর বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ প্রায় পড়েছিলেন এ রাজ্যে। তারা সেই সুফল পেতে চলেছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় মমতা বলেছেন, আমি এই গসিপে বিশ্বাস করি না। বরং ইভিএমে যাতে কোনও কারচুপি করা না হয় সেজন্য বিরোধীদের একজোট হওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সিলেটে বিএনপির সমাবেশ যথা সময়ে হবে : ডা. জাহিদ

ক্লাবগুলো কলঙ্কিত করলো যারা

আচমকা দৃশ্যপট বদলে গেল

প্রধানমন্ত্রী বলে গেছেন অভিযান অব্যাহত রাখতে

মোল্লা আবু কাওছার বিদেশে

ব্যাংক হিসাব জব্দ শামীমের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি টাকা

ক্যাসিনোপাড়ার শতাধিক বিদেশি লাপাত্তা

প্রতি রাতে উড়তো কোটি কোটি টাকা

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

নারায়ণগঞ্জে নব্য জেএমবি’র দুই সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩

নেতাকর্মীদের আগ্রহ নেই

যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক নজরদারিতে

আফগানিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটিতে সেনা অভিযানে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ফু ওয়াং ক্লাবে পুলিশের অভিযান

ভারতে দেহব্যবসায় বাধ্য করানো ৮ বাংলাদেশি যুবতীকে উদ্ধার

গোল্ডেন ড্রাগন বারে চলছে পুলিশের অভিযান