নয়া ইতিহাস

খেলা

সামন হোসেন | ১৮ মে ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫১
শুরুটা করেন সৌম্য। শেষটা হয় মোসাদ্দেকের ব্যাটে। এই দুই তরুণের ঝড়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বারের মতো কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। সৌম্যের ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন মোসাদ্দেক। এই দুই ঝড়ো ইনিংসেই গতকাল আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইতিহাস গড়া ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় পাঁচ উইকেটে।

বৃষ্টি বিঘিœত ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪ ওভারে করে ১৫২ রান। হিসাবটা ছিল জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০ রান। ক্রিকেটের অদ্ভূত বৃষ্টি আইন এটা। ডাকওয়ার্থ আর লুইস তৈরি করেছেন এই গাণিতিক হিসাব-নিকাশ।
এই হিসাব নিকাশে পরেই শঙ্কা জেগেছিল। এর আগে ছয়বার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। বার বার হতাশার চাদরে মুড়িয়েছেন টাইগাররা। ২০০৯ সালে দেশে ত্রিদেশীয় এক টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কাকে বাগে পেয়েও শেষ ওভারের গোলমাল পুড়িয়েছিল। ২০১২ সালে এশিয়া কাপ ফাইনালে দেশেই পাকিস্তানের কাছে ওই শেষ ওভারের হতাশা, ২ রানের হার। ২০১৬ সালে আবার এশিয়া কাপ। এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের কাছে ট্রফি হাতছাড়া। সর্বশেষ গেল বছর ওয়ানডে এশিয়া কাপেও বাংলাদেশকে শেষ ওভারের হতাশায় পুড়িয়েছে ভারত। গত বছর জানুয়ারিতে ফেভারিট হয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে ফাইনালে নাস্তানাবুদ হওয়ার ইতিহাস আছে। আছে সে বছরই নিদহাস কাপ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের কাছে শেষ বলে ছক্কা খেয়ে কেঁদে মরার ঘটনা।

এই ক’বছর এতগুলো তেতো স্মৃতি যাদের আছে। ফাইনাল আর শেষ ওভার শব্দ শুনলেও তাদের বুকে ধড়ফড় করারই কথা। গতকালের ফাইনালে কিন্তু সেটা মনে হয়নি। বৃষ্টির কারণে যখন বাংলাদেশের নতুন টার্গেট নির্ধারন হলো ২১০। তখনও সাহস হারাননি দুই টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। বিশেষ করে সৌমের ব্যাট ছিল বিধ্বংসি। তার ব্যাটেচড়েই ৪.৫ ওভারে দলীয় হাফ সেঞ্চুরির দেখা পায় বাংলাদেশ। হঠাৎ করেই ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে ঘটে ছন্দপতন। গ্যাব্রিয়েলকে দুটি বাউন্ডিরে মেরে পরের বলেই হোল্ডারের তালুবন্দিহন তামিম। ওই ওভারেই কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে এলবি হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সাব্বির রহমান। জোড়া আঘাতের পর মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে জুটি গড়েন সৌম্য সরকার। তুলে নেন সিরিজে টানা তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। মাত্র ২৭ বলে দশম হাফ সেঞ্চুরি দেখা পান তিনি। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ৩৩ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়ে আউট হন এই বাহাতি ওপেনার। ৪০ বলে নয় চার ও তিন ছয়ে ৬৬ রান করে রেইফারের প্রথম শিকারে পরিনত হন সৌম্য। দারুন খেলতে থাকা মুশফিকুর রহীমও আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হন। সাব্বিরের মতো লেগ সাইডের একটি বলে তাকেও এলবিডাব্লিউ দিয়ে বসেন ইংল্যান্ডের আম্পায়ার রিচার্ড ক্যাটেলব্রোগ। ২২ বলে ৩৬ রান করে ফেরেন মুশফিক। দলীয় ১৪৩ রানে চাপে পরে মিথুনও আনাড়ি ব্যাটম্যানের মতো অ্যালেনের একটি সাদামাটা বলে এলবির ফাদে পরেন। সেখানে থেকে দলকে টেনে তোলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ২২তম ওভারে ২৫ রান নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌছেদেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। ফ্যাবিয়েল অ্যালনকে তুলোধুনো করে মাত্র ২২ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলেনেন মোসাদ্দেক। দুই চার ও পাঁচ ছয়ে ২৪ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে। ৭ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা হন মোসাদ্দেক।

একটি শিরোপার জন্য বহু দিনের অপেক্ষা বাংলাদেশের। এই টুর্নামেন্টের আগে ছয়টি আসরের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিটি ফাইনালেই খালি হাতে ফিরেছে টাইগাররা। গতকাল খেলা শুরুর আগে থেকেই ডাবলিনের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। গ্যালারিতে দর্শকদের ছাতা মাথায় দিয়েও থাকতে দেখা গেছে। যদিও পরিস্থিতি খেলার উপযোগী থাকায় এগিয়ে চলছিল বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাইনাল। তবে ২১তম ওভারে আর সম্ভব হয়নি। প্রথম বলের পরই বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের সময়টা শুধুই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বাংলাদেশের বোলাররা অনেক চেষ্টা করলেও পায়নি কোনও উইকেট। ক্যারিবিয়ান দুই ওপেনার শাই হোপ ও সুনিল অ্যামব্রিসের জুটি ভাঙতে পারেনি টাইগাররা। বুষ্টির আগ পর্যন্ত হোপ অপরাজিত ছিলেন ৬৮ রানে, আর অ্যামব্রিস খেলছিলেন ৫৯ রানে। ইনিংসের শুরুর ২০ ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক ছয়জন বোলারকে ব্যবহার করেও উইকেটের দেখা পাননি। ২০.১তম ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এদিন বল হাতে সবচেয়ে মলিন নৈপুণ্যটা ছিল শীর্ষ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের। আগের ম্যাচে ১০ ওভারের স্পেলে ৪৩ রানে চার উইকেট নেন তিনি। আর গতকাল উইকেটশূন্য মোস্তাফিজ দেন ৩ ওভারে ৩৬ রান। বৃষ্টি শেষে আবার খেলা শুরু হলে মোস্তাফিজ দারুন ভাবে ম্যাচে ফেরান বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওভারে ৫০ রানদেন এই পেসার। সঙ্গে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র উইকেট তুলেনেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ২২ রান খরচায় এক উইকেট তুলে নেন এই অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত হোম ৭৪ ও অ্যামব্রিস করেন ৬৯ রান। এই দু’জনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ২৪ ওভারে ১৫২ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতেই ডার্ক এন্ড লুইস মেথডে বাংলাদেশের টার্গেট দাড়ায় ২১০।

ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে নামার আগেই দুঃসংবাদ দেন অধিনায়ক মাশরাফি। টস করার সময় তিনি নিশ্চিত করেন, ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ট্রফি জেতার লড়াইয়ে নামতে পারছেন না বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে পাওয়া চোটটাই ছিটকে দেয় সাকিবকে। এদিন সাকিবের জায়গায় একাদশে ফিরেন মোহাম্মদ মিঠুন। ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় আইরিশদের বিপক্ষে ছিলেন না এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তবে আগের ম্যাচে ৫ উইকেট পেলেও ফাইনালের একাদশে জায়গা হয়নি আবু জায়েদ রাহীর। চমৎকার হাফসেঞ্চুরি করেও যেমন জায়গা ধরে রাখতে পারেননি লিটন দাস। এই ওপেনারের মতো বাদ পড়েছেন পেসার রুবেল হোসেনও। তাদের জায়গায় একাদশে ফেরেন সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Imran Ahmed

২০১৯-০৫-১৮ ১৫:২৮:১২

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে আশাকরি অনেক ভাল করবে । সৌম্য সরকার এই বিশ্বকাপে ভাল করবে ওর উচ্চতা ফিটনেস world class batsman মধ্য একজন ।

আপনার মতামত দিন