টাঙ্গাইলে হতাশাগ্রস্ত কৃষকের বিকল্প ফসলের চিন্তা

বাংলারজমিন

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | ১৬ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৩
টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ মাঠের পর মাঠ জুড়ে সোনালি ফসল। জেলার ১২টি উপজেলায়ই এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কেবল ধান কেটে ঘরে তোলার পালা। কিন্তু কৃষকের সে স্বপ্ন বিনষ্ট করে দিয়েছে সর্বনাশা ব্লাস্ট রোগ, শ্রমিক সংকট ও ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকা।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১ লাখ ৭০ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ৩৮০ হেক্টর, বাসাইলে ১১ হাজার ৯০ হেক্টর, কালিহাতীতে ১৮ হাজার ৪০২ হেক্টর, ঘাটাইল উপজেলায় ২০ হাজার ৬৫০ হেক্টর, নাগরপুরে ১৬ হাজার ৮৫ হেক্টর, মির্জাপুরে ২০ হাজার ৪৮০ হেক্টর, মধুপুরে ১২ হাজার ৪৫০ হেক্টর, ভূঞাপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৮১০ হেক্টর, গোপালপুরে ১৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর, সখীপুরে ১৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর, দেলদুয়ারে ৯ হাজার ৫২১ হেক্টর ও ধনবাড়ী উপজেলায় ১০ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। তবে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৫৮ ও ব্রি-৮১ জাতের ধানের আবাদই বেশি হয়েছে। এছাড়াও ব্রি-৫১, ব্রি-৫২ ও ব্রি-৫৭ জাতের ধানের চাষ করা হচ্ছে।
জেলার কালিহাতী উপজেলার বিলবর্ণী, পালিমা, ভিয়াইল, মরিচা, কোকডহরা, চারান, মশাজান, ঘাটাইল উপজেলার দিগর, ফুলবাড়ী, কাছরা, ভবনদত্ত, দেওনাপাড়া, কাচতলা, দিঘলকান্দি, দত্তগ্রাম, একাশি, হামিদপুর, দেউলাবাড়ী, গোপালপুর উপজেলার মাঝিপাড়া, নগদাশিমলা, মির্জাপুর, মোহনপুর, ধনবাড়ী উপজেলার টাকুরিয়া, পলশিয়া, ধরের বাড়ি; মধুপুরের সালিনা, পীরগাছা, বানরগাছি; ভূঞাপুরে অর্জুনা, গোবিন্দাসী, মাটিকাটা, বাসাইলের কাশিল, কলিয়া, ঝনঝনিয়া, কাঞ্চনপুর; মির্জাপুরের গোড়াই, গোড়াইল, বেতুয়া, জামুর্কি, নাটিয়াপাড়া, মহেরা, সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তণখোলা, ধুমখালী, গজারিয়া, কচুয়া, কালিয়া, দেবরাজ, বাঘিল, দাইন্যা, পোড়াবাড়ী, চারাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিকের অভাবের এসব ফসল তারা ঘরে তুলতে পারছেন না।
মাত্র ৩০ ভাগ ফসল গড়ে তুলতে পারলেও বাকি ৭০ ভাগ ফসল এখনো মাঠেই রয়ে গেছে। আর দিনমজুরের যে মূল্য তাতে অনেক কৃষকই ধান কাটা নিয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তিন বেলা খাবার আর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না দিনমজুর। আর ধানের যে দাম তাতে ২ মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি হচ্ছে না।
উপরের এলাকাগুলোর বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমান বাজারে বোরো চায়না ধান বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০, ব্রি ধান-৫৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০, ব্রি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা দরে। ধানের দাম কম থাকায় আগামীতে চাষিরা ধান চাষের পরিবর্তে বিকল্প ফসলের চিন্তা মাথায় রাখছে।
ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, আমি ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। এবার প্রতি বিঘা বোরো চাষে ধান কাটাসহ প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভালো ফলন হলে ১ বিঘা জমিতে সাধারণত ১৮ থেকে ২০ মণ ধান হয়ে থাকে। সে হিসেবে ৫০০ টাকা মণ হলেও ২০ মণ ধানের বিক্রি দাম হয় ১০ হাজার টাকা। তাই প্রতি বিঘায় প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি লোকসানে পড়েছে বর্গা চাষিরা। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক জমির মালিককে দেয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে

নৈরাজ্য

১৯ জনকে গণপিটুনি নিহত ৩

মার্কিন দূতাবাসের দুরভিসন্ধি

মিন্নির জামিন মেলেনি

পুঁজিবাজারে একদিনেই ৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন হাওয়া

মশায় অতিষ্ঠ মানুষ ঘরে ঘরে ডেঙ্গু আতঙ্ক

অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে অচল ঢাবি

যে কারণে সিলেটে মহিলা কাউন্সিলর লাকীর ওপর হামলা

৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন শাহজালাল বিমানবন্দর

সাত দিনের মধ্যে প্রথম কিস্তি পরিশোধের নির্দেশ

এ যেন খোঁড়াখুঁড়ির নগরী

বৃষ্টি হলেই জলজট

শিমুল বিশ্বাসের পাসপোর্ট প্রদানের নির্দেশ হাইকোর্টের

এক সিগন্যালেই ৬৭ মিনিট