ছাতকে দু’পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১, ওসিসহ আহত ৪০

বাংলারজমিন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ১৬ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার
সুনামগঞ্জের ছাতকে নৌপথে টোল আদায় নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশসহ দু’পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০ ঘটিকার সময় ছাতক পৌর শহরের হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইট-পাটকেলের ছোড়াছুড়িসহ শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে দুপক্ষের মধ্যে। এসময় ছাতক হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গুলিবিদ্ধ হন ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল, ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম, এসআই সৈয়দ আব্দুল মান্নান, কনেস্টবল ফাহিম, কনেস্টবল সাকিরসহ ৮ পুলিশ সদস্য। ওসি মোস্তফা কামালসহ আহত ৩ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শাহাব উদ্দিন, সেলিম চৌধুরী, কহিন চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, কামাল চৌধুরী, ফরহাদ চৌধুরী, আবুল খয়ের টুটুল, সোহাগ দাস, সাজু,  শাওন, সানী, গিয়াস মিয়াসহ আহত ২৫ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ছাতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ শাহাব উদ্দিন চিকিসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। তার বুকে গুলি লেগেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। শাহাব উদ্দিন বাগবাড়ি এলাকার আব্দুস সোবহানের পুত্র। পেশায় সে একজন শ্রমিক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুরমা নদীতে টোল আদায় নিয়ে গত কদিন ধরে বাগবাড়ী গ্রামের মৃত আরজ মিয়া চৌধুরীর পুত্র আহমেদ শাখাওয়াত চৌধুরী সেলিম ও শামীম আহমদ চৌধুরী পক্ষ এবং তেরা মিয়া চৌধুরীর পুত্র শাহিন চৌধুরী ও মণ্ডলীভোগ এলাকার বাসিন্দা পৌর কাউন্সিলর তাপস চৌধুরীসহ ৯ কাউন্সিলর পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত দুদিন ধরে উভয় পক্ষের লোকজন ফেইসবুক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তারা ফেসবুকের বিভিন্ন স্ট্যাটাসে একপক্ষ অপর পক্ষকে চাঁদাবাজ বলে আখ্যায়িত করে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে সুরমা নদীতে শাহিন চৌধুরী পক্ষের দুটি নৌকায় লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাতকের বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সাহেল ও বাগবাড়ী এলাকার খোকন মিয়া জড়িত ছিল বলে জানান শাহিন চৌধুরী। এ নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর বাগবাড়ি  স্কুল এলাকায় খোকন মিয়াকে ধাওয়া করে শাহিন চৌধুরীর লোকজন। পরে শাহিন চৌধুরী ও তাপস চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে আহমেদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী পক্ষের খোকন মিয়া এবং শাহাব উদ্দিন সাহেলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। রাত ১০টার দিকে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুপক্ষের লোকজন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি দুপক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৬৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ৫২ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ জামাল চৌধুরী, কামাল চৌধুরী, ইলিয়াছ চৌধুরী, আশরাফ চৌধুরী, পল্টু দাস, দিলোয়ার হোসেন, শামীম আহমদ, গিয়াস মিয়া, রহিম আলীসহ ২৮ জনকে আটক করেছে।  সংঘর্ষ, আটক ও সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করে এএসপি সার্কেল ছাতক জোন বিল্লাল হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সিগারেট চুরির অপবাদ, অতঃপর...

জেলা প্রশাসকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অভিযোগ ছাড়া কোনো পরিবহন থামানো যাবে না : আইজিপি

জামিনে মুক্ত বিএনপির রবি

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় দুদক

পাকুন্দিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক

‘ইরানিদের হুমকি দেবেন না, সম্মানের সঙ্গে কথা বলুন’

খালেদা জিয়ার আদালত স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারে নোটিশ

মক্কায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরান সমর্থিত হুতিকে অভিযুক্ত সৌদির

বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন, ব্যাখ্যা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে বামভোট নাকি মেরুকরণের রাজনীতি

মোদিকে থামাও

পাকিস্তানের বাংলাদেশ মিশনে ভিসা ইস্যু বন্ধ হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হিমালয়ান ভায়াগ্রা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আটকে গেলো হাইকোর্টে

কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপন সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক : মওদুদ