পাঁচবারের চেষ্টাতেও মৃত্যু হয়নি যার

ষোলো আনা

নিলয় বিশ্বাস নীল | ৩ মে ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০৪
পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউই’র বাসিন্দা বিসন কৌলা। টানা তিনবার মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন তিনি। বিসন ঠাট্টা করে বলেছেন, আমার সৌভাগ্য জল্লাদ আমাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে এসে ক্লান্ত হয়ে যান।

দেশটিতে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের আইন বন্ধ আছে। মৃত্যুদণ্ডের আইন চালু থাকা অবস্থায় তার তিনবার ফাঁসির আদেশ হয়েছিল। তবে প্রত্যেকবারই তার পালা আসলেই জল্লাদ কোনো এক কারণ দেখিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

১৯৯২ সালের কথা। বিসনের বেড়ে ওঠা দক্ষিণ মালাউইতে। চাকরি করতেন জোহান্সবার্গে। পেতেন মোটা অঙ্কের বেতন। চাকরি ছেড়ে বিসন ফিরে আসেন নিজ এলাকায়। শুরু করেন চাষাবাদ। সেখানে কাজ করতেন পাঁচ জন শ্রমিক। তার এই খামারটি প্রতিবেশীরা ভালো চোখে নিতে পারেননি। একদিন এক প্রতিবেশী তার এক শ্রমিকের ওপর আক্রমণ করে। গুরুতর আহত হয় সেই শ্রমিক।

আহত শ্রমিকটি পড়ে গিয়ে ফের গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। এই কারণে তার বিরুদ্ধে আনা হয় হত্যার অভিযোগ। প্রতিবেশীদের মিথ্যা সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। আদেশ হয় ফাঁসির।

তৎকালীন সময় মালাউইর আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে মাত্র একজন জল্লাদ ছিল। পালাক্রমে বিভিন্ন দেশ ঘুরে ঘুরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতেন তিনি। যখন তিনি মালাউইতে আসতেন তখন বিসনের মতো অনেক আসামি ভাবতেন সময় শেষ হতে চলেছে।

বিসন জানান, আমার নাম প্রথমবার একেবারে শেষে ২১ নম্বরে পড়ে। একজন প্রহরী তাকে প্রার্থনা করতে বলে জানান, বেলা ১টার দিকে তার ফাঁসি কার্যকর হবে। সেদিন বেলা ৩টা পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কার্যক্রম চলছিল। তবে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে জল্লাদ তার কাজ বন্ধ করে দেন। সে যাত্রায় বিসনসহ তিনজন বেঁচে যান।

দ্বিতীয়বার বিসনের সঙ্গে ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। শেষবার বিসন ছাড়া সবার মৃত্যু কার্যকর হলেও আশ্চর্যজনকভাবে তার সময় এসে জল্লাদ আবারো কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। একদিক থেকে বিসন নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করতেন। তবে বারবার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ফিরে আসার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সে দুইবার আত্মহত্যারও  চেষ্টা চালান। তাতেও ব্যর্থ হন তিনি।

১৯৯৪ সালে মালাউইতে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। তখন সরকার মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত করে দেয়। যদিও এখনো হত্যার অভিযোগে মৃত্যুুদণ্ডের রায় শোনানো হয়। তবে বিগত ২৫ বছরে কোনো প্রেসিডেন্ট আদেশে স্বাক্ষর করেননি। এ কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করেন। এরই মধ্যে বিসনকে জম্বা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিসন নিজেকে সর্বদা কারাগারের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রাখেন। কিন্তু সেখানে তার মুক্তির কোনো পথই ছিল না। তবে ২০০৭ সালে একটি ঐতিহাসিক মামলা বিসনের জীবনের  মোড় পাল্টে দেয়। একজন মাদক ব্যবহারকারী তার সৎ ছেলেকে হত্যা করে। এই অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, সেই সময় তিনি সাময়িকভাবে উন্মাদ ছিলেন এবং আদালতের  রায়কে কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন। তার রায়ের পাশাপাশি মোট ১৭০ জন আসামির রায় পুনরায় বিচারের জন্য যোগ্য ঘোষণা করা হয়। এই ১৭০ জনের মধ্যে ১৩৯ জন মুক্তি পায়। তার মধ্যে ছিলেন বিসনও।

অবশেষে ২৩ বছর কারাভোগের পর ৬০ বছর বয়সে মুক্তি পান বিসন। কারাগারে থাকাকালীন অবস্থায় বিসনের স্ত্রী মারা যান। বিসনের  ছয়  ছেলেমেয়ে বড় হয়ে এখন বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি ৮০ বছরের বৃদ্ধা মায়ের পাশে থেকেই তার সেবা করে যাচ্ছেন।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গডফাদাররা নিরাপদে

কুকুরের মৃত্যুতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শোক, ফুলের মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক রোহিঙ্গা নিহত

আওয়ামী লীগ নেত্রী বলে কথা!

ভারতে সুপার ইমার্জেন্সি চলছে : মমতা

কাউকে যেন কোনো ধরণের হয়রানি না করা হয়- ডিএমপি কমিশনার

পাকিস্তানের প্রশংসা করলেন ভারতের রাজনীতিক শারদ পাওয়ার

শীর্ষ ২ টেলিকম কোম্পানিতে প্রশাসক বসাতে চায় বিটিআরসি

মুক্তিযুদ্ধে কলকাতার সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসায় বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী

খাদিম সু বাংলাদেশে বিধিবদ্ধ হয়েছে

ভারতে পৌঁছেছে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ

সৌদি আরবে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র

এগুলো হচ্ছে রোগের লক্ষণ, সেই রোগ গণতন্ত্রহীনতা

কাশ্মীর: মৃত্যু পর্যন্ত যুদ্ধ করবে পাকিস্তান

পাকিস্তান ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে

পাকুন্দিয়ায় বাসচাপায় দুই স্কুলছাত্র নিহত