৩০শে এপ্রিল শাহবাগে ঐক্যফ্রন্টের গণজমায়েত

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৭
ফাইল ছবি
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দেশে সভ্যতা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। গতকাল বিকালে মতিঝিলে তার নিজ চেম্বারে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এক বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। আমরা মনে করি এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরো জোরদার করতে হবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। আজকের বৈঠকে আমরা ঐক্যমতে পৌঁছেছি যে আমাদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামতে হবে। দেশে সভ্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করছি। যারা আইন ভঙ্গ করছে তাদের ব্যাপারে তারা নিষ্ক্রিয়। যারা নাগরিকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ধরণের তৎপরতা দেখছি না। অন্যদিকে যারা বিভিন্নভাবে মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে তৎপরতা দেখাচ্ছে। তাই আমরা মনে করি জরুরি ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ একটা উদ্যোগ নিয়ে দেশের মানবাধিকার রক্ষা করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, কিন্তু মোকাব্বির খানের বিষয়ে কেন কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, এটা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক। এখানে দলীয় বিষয়ে প্রশ্ন না করা ভালো। এসময় গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, মোকাব্বির খানের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেটি গণমাধ্যমকর্মীরা জানেন।

পরে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, মোকাব্বির খানের বিষয়ে গণফোরাম একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আজকে দেশে একটি শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে। এইভাবে কোনো বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব না। নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পুলিশকে বিরক্ত করবেন না। তার অর্থ হল পুলিশ যাহা করুক তারা আমাদের ভোট কেটে দিয়েছে। তাদের ডিস্টার্ব করো না।  আজকে হয়রানিমূলকভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়া ছাড়া অন্যায়ভাবে আটককৃত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সকল রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী যারা কারাগারে আছে নিঃশর্তভাবে তাদেরও মুক্তি দিতে হবে।

নতুন করে সকল প্রকার মিথ্যা, হয়রানি ও গায়েবি মামলা বন্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে দায়ের করা মামলায় যারা গ্রেপ্তার তাদের মুক্তি দিতে হবে। নারী নির্যাতনের বিষয়ে রব বলেন, তিন মাসে ১ শত ৬০টি শিশু ধর্ষিত হয়েছে! তবে পুলিশ যদি সক্রিয় থাকতো এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতো তাহলে নারী ও শিশুদের ওপরে এভাবে নির্যাতন হতো না।  আ স ম রব বলেন, আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন দেশের বাইরে ছিলেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখনো আছে এবং ঐক্যফ্রন্ট থাকবে। আমরা আজকের বৈঠকে অনেকগুলো কর্মসূচি নিয়েছি। সমসাময়িক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- নুসরাত হত্যাসহ সকল নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং হত্যার প্রতিবাদে আগামী ৩০শে এপ্রিল শাহবাগে গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরে নোয়াখালী ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে গণশুনানী করা হবে। গণশুনানির তারিখ পরে জানানো হবে। এছাড়া, রমজান মাসে ইফতার মাহফিল ও শুধী সমাবেশ করা হবে।

শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,  হামলায় আমাদের বাংলাদেশের জায়ান চৌধুরী মারা গেছেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আর তার বাবা আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন, আমরা তার আশুরোগ মুক্তি কামনা করছি। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠক প্রায় সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদুর রহমান, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ প্রমুখ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভিপি নুরের ইফতারে ছাত্রলীগের বাধা, রেস্টুরেন্টে তালা

বাংলাদেশ দলের নিউক্লিয়াস

সৌভাগ্যের কার্ডিফে টাইগারদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু

ছোট নৌকায় দ্বিগুণ যাত্রী তুলে ভাসিয়ে দেয় সাগরে

রাজনৈতিক দলে না থাকলেও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকবো

ওদের কান্নার যেন শেষ নেই

দ্বিতীয় মেঘনা, গোমতী সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নরসিংদীতে অভাবের তাড়নায় দুই কন্যাকে হত্যা করেছে বাবা

একদিনে দুই ইফতার

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রয়োজন বৃহত্তর ঐক্য

ফ্রান্সের লিওনে পার্সেল বোমা বিস্ফোরণ আহত ১৩

কসাইখানা থেকে কলেজে মহিষ...

নগরীতে ‘বাস বে’ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ: ডিএনসিসি মেয়র

জীবন উৎসর্গ করা ১২ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি জাতিসংঘের সম্মাননা

লোকসভায় বেড়েছে মুসলিম এমপি

বান্দরবানে অপহৃত আওয়ামী লীগ নেতার লাশ উদ্ধার