৪০০০০ টাকায় ধর্ষণের ফয়সালা, অর্ধেক মাতব্বরদের পকেটে

অনলাইন

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | ২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার, ১১:২৪ | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৪২
অভিযুক্ত ধর্ষক আনোয়ার হোসেন
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয় মাতাব্বরা ৪০ হাজার টাকায় ফয়সালা করে দিয়েছে। তবে ফয়সালার পুরো টাকা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত শিশুর বাবা।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রী উপজেলার এলেঙ্গাতে অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণীতে পড়ে। তার বাবা ওই এলাকাতেই বাসা ভাড়া করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তারা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বাসিন্দা।

অভিযুক্ত ধর্ষক আনোয়ার হোসেন এলেঙ্গা হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র ও নেত্রকোনা জেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার এলেঙ্গা পৌর এলাকার সেমকো সিএনজি পাম্পের পূর্বপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

এ বিষয়ে ছাত্রীটির বাবা বলেন, আমি এলেঙ্গাতে বাসা ভাড়া নিয়ে একটি সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বখাটে আনোয়ারের পরিবার আমাদের পাশের বাসায় ভাড়া থাকে। গত ১২ই এপ্রিল সকালে আমার মেয়েকে আনোয়ার তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় আমার মেয়ে চিৎকার দিলে আমার স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে ধর্ষক পালিয়ে যায়।

নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা আরও জানায়, আমি থানায় মামলা করতে যাবো শুনে ধর্ষকের বাবা ও বড় ভাই স্থানীয় মাতাব্বরদের বিষয়টি জানান। পরে তারা আমাকে মিমাংসায় বসতে বাধ্য করে। শালিসে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে আমাকে ২০ হাজার টাকা দিতে গেলে নিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে তারা আমার স্ত্রীর কাছে টাকাগুলো দিয়ে যায়। বাকি ২০ হাজার টাকা মাতাব্বররা নিয়ে যায়। আমাকে বারবার শালিসের কাগজে স্বাক্ষর দিতে বললেও আমি কোন স্বাক্ষর দেইনি।

মশাজান গ্রামের স্থানীয় মাতব্বর আবদুল জলিল মিমাংসার বিষয়টি শিকার করে জানান, ছেলে মেয়ে নাবালক হওয়ায় জালাল হাজী, নবাব আলী, দেলোয়ার হোসেন, মোহনসহ ১০-১২ জন মিলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করি। এ সময় ছেলে পক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারবে না জানালে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মেয়ের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন,  মেয়ের পরিবারকে ৪০ হাজার টাকা-ই দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ধর্ষক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার বাবা ও বড় ভাই মাতব্বরদের নিয়ে মিমাংসা করে দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি আর কিছুই জানি না।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আনোয়ারের বাবা মাহবুব হোসেন বলেন, ছোট একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় মাতাব্বরা আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে মিমাংসা করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে এলেঙ্গা পৌর সভার মেয়র নুর-এ-আলম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি। যদি কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসে বিষয়টি আমি দেখবো। কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Dupur

২০১৯-০৪-২৩ ১১:৫৬:২৮

Those village matbors r worse than urban political leaders..

আপনার মতামত দিন

বিল বন্ধের নির্দেশ দুই তদন্ত কমিটি

আমদানি খোলা রেখেই চাল রপ্তানির উদ্যোগ লাভ হবে ব্যবসায়ীদের

সৌদিতে ড্রোন হামলায় ঢাকার উদ্বেগ

বাজেটে কৃষিকে গুরুত্ব দিতে শাইখ সিরাজের সুপারিশমালা

বুথফেরত জরিপে মোদির বড় জয়ের ইঙ্গিত

এবার দ্বিতীয় ইনিংস খেলবো

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নিয়ে জারি করা পরিপত্র অবৈধ

মধ্যরাতে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের ওপর ফের হামলা

সিলেটের বশিরকে খুঁজছে নিখোঁজ জিল্লুরের পরিবার

চলমান মামলা নিয়ে সংবাদ প্রকাশে বাধা নেই: আইনমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিপণন কার্যক্রম শুরু

পশ্চিমবঙ্গে গুলি বোমা, সংঘর্ষ

বগুড়ায় নৌকা প্রতীক পেলেন এস এম টি জামান নিকেতা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে

নির্যাতিত তাতারদের জন্য কে কথা বলবে?