পাঁচ জেলায় পাঁচ শিশু ধর্ষিত

বাংলারজমিন

বাংলারজমিন ডেস্ক | ২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার
রংপুর, লাকসাম, কালিহাতি, তারাকান্দা ও লক্ষ্মীপুরে ৫ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, রংপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধর্ষক মিন্টু রায়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ ধর্ষক মিন্টু রায়কে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জের চন্দ্রপুর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করে। মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আলতাফ হোসেন জানান।

তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পর আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সম্ভুরায়, টেংকু রায় ও প্রতিবেশী মেহেদুল ইসলামসহ ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ধর্ষক মিন্টুকে সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার আদালতে হাজির করা হয়। মিন্টু রায় ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে।  
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ১৬ই এপ্রিল নগরীর ৪নং ওয়ার্ডের পাণ্ডার দিঘি ধাপ কামারপাড়া এলাকার ঝরু রায়ের পুত্র দুই সন্তানের জনক মিন্টু রায় একই এলাকার দিনমজুরকে তার জমিতে শ্রমিকের কাজ দেয়। এ সময় ওই শ্রমিকের স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজের জন্য যাওয়ায় তার বাড়িতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী একা ঘরে টিভি দেখছিল।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মিন্টু রায় ওই ছাত্রীর বাসায় ঢুকে মুখ চেপে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এক সময় ছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ধর্ষক মিন্টু পালিয়ে যায়।

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, লাকসামে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার বিকালে পৌরসভা উত্তর লাকসাম ধর্ষকের শ্বশুর বাড়িতে। এ ঘটনার পর ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর ধর্ষক আবু তাহের পালিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ তার স্ত্রী জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। পৌর এলাকার উত্তর লাকসামে একটি ভাড়া বাসাতে তাদের পরিবার বসবাস করত। একই বাসাতে ধর্ষক আবু তাহেরের শ্বশুর ওই বাসাতে ভাড়া থাকত। ধর্ষক আবু তাহেরের স্ত্রী ও সন্তানরা একই বাসাতে থাকে। ঘটনার দিন বিকালে ওই ছাত্রী বাড়ির সামনে খেলাধুলা করার সময় বাস চালক আবু তাহের তাকে হাত ধরে এদিকে আসো বলে তার রুমে নিয়ে যায়। এরপর তার স্ত্রী জেসমিন বেগম ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে রাখে এবং পরনের হাফ প্যান্ট খুলে ফেলে। ওই সময় ধর্ষক আবু তাহের তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ওই ছাত্রী চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ও তার মা ছুটে আসে। এরই মধ্যে ধর্ষক আবু তাহের পালিয়ে যায়। ধর্ষক আবু তাহেরের বাড়ি আজগরা ইউনিয়নের শোকতলা গ্রামে। সে তিশা বাসের চালক। সে ৬ সন্তান জনক। ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে। ঘটনার পর মেয়ের মা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওইদিন ধর্ষককারীর স্ত্রী জেসমিন বেগমকে আটক করে।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে শিক্ষা গ্রামে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বখাটে মোহন হোসেনকে আসামি করে রামগতি থানায় মামলা দায়ের করেছে নির্যাতিত শিশুটির বাবা। গতকাল বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন। এর আগে অভিযুক্ত মোহন হোসেনকে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ ও নির্যাতিত শিশুর বাবা জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শিশুটি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় একই এলাকার বখাটে মোহন হোসেন কৌশলে মেয়েটিকে বাগানে ডেকে নেয়। পরে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় বখাটে মোহন। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা ও ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আরিচুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বিয়ের প্রলোভনে ৯ম শ্রেণির এক মাদরাসার ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিত ছাত্রী ভাই ফাজায়েল আলম বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। জানা গেছে, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের দোহার (কান্দাপাড়া) গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র সুজন মিয়া (১৮) বিয়ের প্রলোভনে সানুরা ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) কে গত বুধবার ওই ছাত্রীর বাড়িতে ধর্ষন করে।  

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে ধর্ষণের বিষয়টি স্থানীয় মাতব্বরা মোটা অঙ্কের টাকায় বিনিময়ে মীমাংসার কথাও জানা গেছে। তবে মীমাংসার পুরো টাকা ওই ছাত্রীর পরিবারকে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ছাত্রী উপজেলার এলেঙ্গাতে অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। তার বাবা এখানেই বাসা ভাড়া করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং তারা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বাসিন্দা। ধর্ষক আনোয়ার হোসেন এলেঙ্গা হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র ও নেত্রকোনা জেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার এলেঙ্গা পৌর এলাকার সেমকো সিএনজি পাম্পের পূর্ব পার্শ্বে বাসা ভাড়া নিয়ে এলেঙ্গাতে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে।





এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রয়াণ দিবসে হুমায়ূন স্মৃতি

‘নাটক নির্মাণে সাহস পাই না’

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ট্রাম্পের

হুমায়ূন আহমেদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী

বর্ণবাদী মন্তব্যের পর বেড়ে গেছে ট্রাম্পের সমর্থন!

সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি আমেরিকার

ইস্টার সানডে ‘জঙ্গি হামলা’ ঘটিয়েছে মাদক কারবারিরা: শ্রীলংকান প্রেসিডেন্ট

দুর্ভোগে বানভাসি মানুষ পাশে নেই কেউ

ধরন পাল্টানোয় চিন্তিত চিকিৎসকরা

ডেঙ্গু রোগীর চাপে হিমশিম কর্তৃপক্ষ

প্রতিদিনই বাড়ছে রোগী

এরশাদের চেয়ারে জিএম কাদের

ধর্ষণ মামলার বিচারে হাইকোর্টের ৬ নির্দেশনা

রিফাত হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নি জড়িত

হটলাইন কমান্ডো নিয়ে আসছেন সোহেল তাজ