টাঙ্গাইলে বেড়াতে এসে পাকিস্তানি তরুণী ধর্ষিত

প্রথম পাতা

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | ২০ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫২
মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে দাদার বাড়ি বেড়াতে এসে প্রথমে অপহরণ ও পরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক পাকিস্তানি তরুণী (১৭)। ঘটনাটি ঘটেছে গোপালপুর উপজেলার পৌর এলাকার উত্তর গোপালপুর গ্রামে। প্রথমে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামে।

সেখানেই ধর্ষণের শিকার হয় কিশোরী। গত মঙ্গলবার রাতে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ভোরে ওই কিশোরীকে জামালপুরের মহিষাকান্দি গ্রাম থেকে উদ্ধার করে গোপালপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী  হয়ে কিশোরীর চাচাতো ভাই আল আমীন (১৯)কে প্রধান আসামি করে তার মা আনোয়ারা বেগম (৪৭) ও অজ্ঞাত আরো এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার মূল হোতা আল আমিনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই কিশোরীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামতসহ প্রতিবেদন দিতে সময় লাগবে।

জানা যায়, উত্তর গোপালপুর গ্রামের এক বাসিন্দা প্রায় ২০ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচিতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই তিনি এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের একটি মেয়ে সন্তান হয়। করাচিতে তার একটি গার্মেন্ট ব্যবসা রয়েছে। গত পাঁচ বছর আগে কিশোরীর বাবা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে তার স্ত্রী মেয়েকে সঙ্গে করে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। উত্তর গোপালপুর গ্রামে তার ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে উঠেন তিনি। কিছুদিন পর থেকেই ওয়াদুদের ছেলে আল আমীন ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। পারিবারিকভাবে বিষয়টি ফায়সালার চেষ্টাও করা হয়। এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই নারী ও তার মেয়ে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ কথা জানার পর আল আমীন ক্ষুব্ধ হয়। গত ১৬ই এপ্রিল রাতে তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ওই তরুণীকে অপহরণ করে আলআমিন।

পরে জামালপুরে একটি বাড়িতে আটকে রেখে সে দফায় দফায় ধর্ষণ করে তরুণীকে। ঘটনা জানার পর বুধবার রাতে পাকিস্তানি ওই তরুণীর মা বাদি হয়ে আল আমীন ও তার মা আনোয়ারা বেগমসহ তিনজনকে আসামি করে গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোপালপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামের একটি বাসা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আল আমীনের মা আনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পালিয়ে যায় আল আমিন।

গতকাল পর্যন্ত্তও পুলিশ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন জানান, মেয়েটিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আল আমীনের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আল আমিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মেয়েটি উর্দুভাষী হওয়ায় তার জন্য আদালতের কাছে দোভাষী চাওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য ২২ ধারায় রেকর্ড করা হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Sarwar

২০১৯-০৪-২০ ১৪:২০:৫৩

Government should declare red alert for female baby to 80 years women.

মোঃ ফজলুল হক

২০১৯-০৪-১৯ ২১:৪৫:১৬

আমি টাঙ্গাইলের ছেলে ভাবতে খুবই খারাপ লাগছে,আমাদের টাঙ্গাইলেও পুশু তুল্য জানুয়ার আছে,আমি দ্রুত এর বিচার চাই৷৷

আপনার মতামত দিন

বগুড়ায় নৌকা প্রতীক পেলেন এস এম টি জামান নিকেতা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে

দুর্নীতির আগে ব্যবস্থা নেয়া দুদকের কাজ : ইকবাল মাহমুদ

লেনদেন সীমা বাড়ল মোবাইল ব্যাংকিংয়ে

ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রপ্তানি করা হবে: অর্থমন্ত্রী

মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস

ঠিকাদারি বিল বন্ধের নির্দেশ, দুই তদন্ত কমিটি

‘আগ্রাসন ও পরিণতি’ নিয়ে জিসিসি, আরব লীগের জরুরি বৈঠক ডেকেছে সৌদি আরব

হাসপাতালের মর্গে লাশ, স্ত্রীর দাবি জীবিত, কর্মচারিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি (ভিডিও)

পাকিস্তানে আজ সবার চোখ থাকবে বিলাওয়াল, মরিয়মের দিকে

পারস্য উপসাগরে তেলস্থাপনায় হামলায় গভীর উদ্বেগ বাংলাদেশের

মুক্তিযোদ্ধার বয়স নির্ধারণে সংশোধিত পরিপত্র বেআইনি

জীবন্ত মাটিচাপা দেয়া শিশুকে উদ্ধার করল কুকুর (ভিডিও)

আমরণ অনশনে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা

আর্নল্ড সোয়ার্জেনেগারকে লাথি মারলো যুবক (ভিডিও)

কৃষক ক্ষেতে আগুন দিচ্ছে, সরকার নির্বিকার: দুদু