আস্থাহীনতায় দরপতন থামছে না শেয়ারবাজারে

দেশ বিদেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৬ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৮
শেয়ারবাজারে দরপতন থামছে না। আগের সপ্তাহে টানা চার কার্যদিবস বড় দরপতনের পর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবক’টি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। পতন দিয়েই নতুন বাংলা বছর শুরু করলো শেয়ারবাজার। মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে ৩০০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। গতকাল ডিএসইতে  লেনদেনের পরিমাণ দু’শ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস লেনদেনের পরিমাণ তিনশ’ কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারলো না ডিএসই। এতে করে এক মাসের বা ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসই‘র লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারেনি।

শেয়ারবাজারের এমন দুরবস্থার কারণে একটু একটু করে পুঁজি হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও চরম আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দফায় দফায় বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করলেও দরপতন ঠেকানো যাচ্ছে না। টানা দরপতনের কারণে গত সপ্তাহজুড়েই ব্রোকারেজ হাউজ ছেড়ে ডিএসই’র সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের মুখে গত মঙ্গলবার দফায় দফায় বৈঠকে বসে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকের মাধ্যমে দরপতন ও তারল্য সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিএসইসির কাছে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

বিএসইসির পক্ষ থেকে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক প্রতিনিধিদের কিছু দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। তারপরও দরপতনের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে শেয়ারবাজার। এমন পরিস্থিতিতে ১০ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যান দেখা করেন। এ সময় শেয়ারবাজারের বর্তমান মন্দাবস্থা দূর করতে করণীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য, বিএসইসি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংককে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইর চেয়ারম্যানের সাক্ষাতের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ১১ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে লেনদেন ২০০ কোটির ঘরেই আবদ্ধ থাকে। এরপর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়নি। সে হিসাবে গতকালই ছিল চলতি সপ্তাহের এবং বাংলা নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবস। গত বছরের শেষ কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখী হলেও নতুন বছরের শুরুতে তা অব্যাহত থাকেনি। সোমবার দুই বাজারেই লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায়। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৩টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১টির দাম।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় ডিএসই’র প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩০৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্য সূচকের এ পতনের দিনে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ তিনশ’ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছাতে পারেনি। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৮৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে এ দিন ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর পরেই রয়েছে মুন্নু সিরামিক। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ২৯ লাখ টাকার। ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের পরেই রয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস। লেনদেনে এরপর রয়েছে- ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, এস্কয়ার নিট, লিবরা ইনফিউশন, গ্রামীণফোন, মুন্নু জুট স্টাফলার্স এবং ইস্টার্ন কেবলস।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএসসিএক্স ১৪ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৮টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির।

এদিকে দরপতনে একদিনেই ডিএসইর বাজার মূলধন সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা কমেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ কোটি টাকা। গতকাল লেনদেন শেষে মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ১৭২ কোটি টাকায়। ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভীর মন্তব্যই সঠিক প্রমাণিত হলো বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। শনিবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাকিল রিজভী বলেন, বাজার আবার ৬০০ পয়েন্ট বাড়বে। আবার ৫০০ পয়েন্ট কমবে। এটাই শেয়ারবাজার। এভাবেই চলবে ....। কারণ বাজার সরল রেখায় চলে না। স্ট্যাটাসে তিনি জানান, যাদের দূর্বল হার্ট এবং অল্প পুঁজি তাদের আসা ঝুঁকি পুর্ণ। কারণ এটা পুঁজিপতিদের জন্য। আপনি কি করবেন? বাজার সব সময় ঠিক। আমাদের ভুল হয় বার বার। বাজার কেনারও সুযোগ দেয়, বিক্রি করারও সুযোগ দেয়। বাজারের এই সুযোগ সবাইকে দেয় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘নিজের সঙ্গে যুদ্ধে জিতেছি’

রেকর্ড ম্যান সাকিব

এই লিটনকেই দেখতে চায় বাংলাদেশ

মারা গেলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরসি

বিরোধিতার মুখে ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

লাল-সবুজের ‘ফেরিওয়ালা’ বিলেতি নারী

‘যে’ কারণে রুবেল নয়, লিটন

স্বরূপে মোস্তাফিজ, ফর্ম জারি সাইফুদ্দিনের

ভাগ্নেকে ফিরে পেতে সোহেল তাজের সংবাদ সম্মেলন

বছরে বিশ্বজুড়ে আড়াই কোটি শরণার্থী পাড়ি দেন ২শ’ কোটি কিলোমিটার পথ

দুশ্চিন্তায় সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা

‘গণপিটুনির ভয়ে পলাতক ছিলেন’

ব্যাংকে টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই

‘রোল মডেল’ হতে চায় সিলেট বিএনপি

ভুল করেই পাসপোর্ট সঙ্গে নেননি পাইলট ফজল

দেশে ফিরতে রাজি ভূমধ্যসাগরে আটকা ৬৪ বাংলাদেশি