পশ্চিমবঙ্গে নাগরিক পঞ্জি নিয়ে হুঙ্কার পাল্টা হুঙ্কার

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১২ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার
পশ্চিমঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে নাগরিক পঞ্জী তথা এনআর সি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ইস্যু হয়ে উঠেছে। রীতিমত শুরু হয়েছে বাগযুদ্ধ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের জনসভা থেকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, মমতাজি সর্বশক্তি দিয়ে বাধা দিলেও পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি ঠেকাতে পারবেন না। অসমের মতো এ রাজ্যেও নাগরিক পঞ্জি হবেই। অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে সাগরে ফেলে দেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যে হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈন শরনার্ষীরা এসেছেন তাদের কাউকে তাড়ানো হবে না। সেই সঙ্গে তিনি মমতার দলকে অনুপ্রবেশকারীদের তুষ্ট করার দল হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে কালিম্পংয়ে এক সভাতে অমিত শাহ বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করতে বিজেপি দায়বদ্ধ।

বাঙালি শরণার্থীদের দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ,  জৈন এবং খ্রিস্টান ধর্মের যে-সব মানুষ অত্যাচারিত হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা আমাদের সহোদর। তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন। তাঁদের সবাইকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে অমিত শাহর হুঙ্কারের পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে দার্জিলিংয়ে এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়ে বলেছেন, বাংলায় এনআরসি কিছুতেই হতে দেবো না। এর আগেও মমতা একাধিকবার বলেছেন, রাজ্যে তিনি এনআর সি হতে দেবেন না। চ্যালেঞ্জের সুরে গত মঙ্গলবার রায়গঞ্জে এসে তিনি বলেছেন, ক্ষমতা থাকলে এ রাজ্যে এক জনের গায়েও হাত দিয়ে দেখান। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও এদিন অমিত শাহকে কটাক্স করে বলেচেন, উনি যতই হুঙ্কার দিন, বাংলায় কারোর ক্ষমতা নেই এনঅফারসি চালু করবে।

বাংলার মানুষ বিভিদের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।প্রথম থেকেই মমতা নাগরিকপঞ্জী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের  বিরোধীতায় সরব হয়েছেন। তবে বিজেপি নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে এনআরসিকেই ইস্যু করে প্রচারে নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বৃহষ্পতিবার আসামের শিলচরের জনসভায় নাগরিকত্বপঞ্জীকেই হাতিযার করে প্রচার করেছেন। তিনি বলেছেন, ফের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদে পেশ করা হবে। এবার পাশও হবে বলে তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেছেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md Hidayat Ullah

২০১৯-০৪-১৩ ২৩:৪৩:০৩

NRC একটি জঘন্য মুসলিম বিদ্বেষী আইন। কিন্তু এ ব্যাপারে জাতীয় কংগ্রেস ও বাম ফ্রন্টের অবস্থান পরিস্কার নয়।

আপনার মতামত দিন