নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরানো হলো দুই কমিশনার সহ চার পুলিশ কর্তাকে

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৬ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫৬
রাজেশ কুমার, জ্ঞানবন্ত সিংহক ও অনুজ শর্মা
পক্ষপাতিত্বে অভিযোগ ওঠায় নির্বাচনের সব রকম দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার ও বিধাননগরের কমিশনারকে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ডায়মন্ড হারবার ও বীরভূমের পুলিশ সুপারদেরও। শুক্রবার রাতে এক নির্দেশনামায় এই চার পুলিশ কর্তাকে নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য সচিবকে পাঠানো নির্দেশে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। কমিশনের চিঠিতে অবশ্য সরানোর কোনও কারণ দেওয়া হয় নি।

তবে পর্যবেক্ষক মহলের মতে, কলকাতার সাবেক পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ি যাওয়ার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় যে ধরণায় বসেছিলেন তাতে উপস্থিত ছিলেন দুই পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও জ্ঞানবন্ত সিং। জানা গিয়েছে, বীরভূম ও ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপারদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছিল। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদে অনুজ শর্মার পরিবতে নিয়োগ করা হয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের এডিজি রাজেশ কুমারকে।

বিধাননগরের কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিংহকে সরিয়ে সেই জায়গায় নিযুক্ত করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের এডিজি (অপারেশন্স) নটরাজন রমেশ বাবুকে। ডায়মন্ড হারবারের এসপি এস সেলবামুরুগানের জায়গায় আনা হয়েছে কলকাতা সশস্ত্র পুলিশের তৃতীয় ব্যাটেলিয়নের ডিসি শ্রীহরি পান্ডেকে। বীরভূমের এসপি শ্যাম সিংহকে সরিয়ে সেই পদে পাঠানো হয়েছে বিধাননগরের ডিসি (এয়ারপোর্ট ডিভিশন) আভারু রবীন্দ্রনাথকে। নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের মতে, এই চার আইপিএস অফিসার স্বপদে থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব নয়। তাই সরানো হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, ওই চার জনের বিরুদ্ধেই বিজেপি-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি  অভিযোগ করেছিল। উল্লেখ্য, নির্বাচন শুরুর অনেক আগেই তিন বছরের বেশি পদে রয়েছেন এমন পুলিশ কর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবারের নির্দেশ খুই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, চার পুলিশ কর্তাকে নির্বাচনের কোনও কাজে যুক্ত করা যাবে না। নির্বাচনের মুখে কমিশনের নির্দেশে পুলিশকর্তাদের বদলির ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধীরা।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, কমিশন ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই পুলিশ অফিসারদের কেউ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্নায় বসেছিলেন, কেউ সোনা-কান্ডে অভিযুক্তকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন। ওঁদের দায়িত্বে রেখে নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব হতো না। বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল। অনেক পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ আসছে, তাঁরা যা ভূমিকা নিচ্ছেন, তাতে ওসি পর্যন্ত নানা স্তরে আরও অনেক বদল জরুরি।  তৃণমূল কংগ্রেসের এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া অবশ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সিগারেট চুরির অপবাদ, অতঃপর...

জেলা প্রশাসকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অভিযোগ ছাড়া কোনো পরিবহন থামানো যাবে না : আইজিপি

জামিনে মুক্ত বিএনপির রবি

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় দুদক

পাকুন্দিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক

‘ইরানিদের হুমকি দেবেন না, সম্মানের সঙ্গে কথা বলুন’

খালেদা জিয়ার আদালত স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারে নোটিশ

মক্কায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরান সমর্থিত হুতিকে অভিযুক্ত সৌদির

বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন, ব্যাখ্যা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে বামভোট নাকি মেরুকরণের রাজনীতি

মোদিকে থামাও

পাকিস্তানের বাংলাদেশ মিশনে ভিসা ইস্যু বন্ধ হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হিমালয়ান ভায়াগ্রা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আটকে গেলো হাইকোর্টে

কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপন সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক : মওদুদ