হঠাৎ বেড়েছে গুলির ঘটনা

প্রথম পাতা

শুভ্র দেব | ২৭ মার্চ ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:২১
সারা দেশে হঠাৎ করেই বেড়েছে প্রকাশ্য গোলাগুলির ঘটনা। গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা, নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। শুক্রবার রাত ও শনিবার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তানে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন। একই দিন বিকালে কুমিল্লার বরুড়ায় উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তার ঠিক দুদিন আগে মেরুল বাড্ডায় বোনের সামনে গুলি করে এক ভাইকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দিনেদুপুরে প্রকাশ্য এসব গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা বেড়ে গেলে প্রকাশ্য গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে এবং এসব অস্ত্র বহনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুলকে প্রকাশ্য গুলি করে পালিয়ে যায় দুবর্ৃৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

১৯শে মার্চ নরসিংদির রায়পুরার মির্জারচর ইউনিয়নের বালুরচর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনায় ইকবাল (৩২) ও আমান উল্লাহ (৩১) নামের দুজন নিহত হয়েছেন। মির্জারচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাফর ইকবাল মানিকের সমর্থকদের সঙ্গে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুকুল ইসলাম ফারুক সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাঙ্গামাটির আলিক্ষ্যং এলাকার বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঙ্গচঙ্গ্যাকে পরিবারে সদস্যদের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দিন সকালে সুরেশ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে  নৌকায় করে বিলাইছড়ি যাওয়ার সময় নদীতে নৌকা থামিয়ে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এর ২৪ ঘণ্টা আগে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও দুজন আনসার সদস্যসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন।

১৮ই মার্চ রাত ৯টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম মেরুল বাড্ডায়  অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে জুলহাস মোল্লা (৩৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি সাভার রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় প্রাইভেটকার চালাতেন।  ঘটনার রাতে একটি ফার্মেসির সামনে যাওয়ার পর ২৫/২৬ বছর বয়সী দুই যুবক বোনের সামনে জুলহাসকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ১৪ই মার্চ বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পৃথক এলাকা থেকে ইমরান হোসেন ও লিটু নামের  দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মাসের ২৩ তারিখ কক্সবাজারের পেকুয়ায় চিংড়ি ঘেরের দখল নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নেজাম উদ্দিন (৪০) ও মো. আজিজ ওরফে রাখাল (২২) নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ঘটনায় সময় অন্তত শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার ও সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সন্ত্রাসীদের কাছে সব সময়ই অবৈধ অস্ত্রের মজুত থাকে। আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতার প্রভাব দেখানো, সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড, জমি দখল, ছিনতাই, টার্গেট কিলিং, অপহরণ, নির্বাচনের সময় প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাসহ নানা কাজে এসব অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে শুরু করে চলতি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে।

অপরাধ বিজ্ঞানী তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, অপরাধীদের কাছে সবসময়ই অস্ত্রের মজুত থাকে। শুধু তারা সময় সুযোগ মতো জানান দেয়ার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু প্রকাশ্য গুলাগুলির ঘটনাগুলোই ভীতির কারণ তৈরি করে দিচ্ছে। জনগণের মধ্যে একটা আতঙ্ক বা ভীতি কাজ করবে। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন মূল বিষয়টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। দেখতে হবে তারা কতটুকু তৎপর। কারণ সিন্ডিকেটরাই দেশে অস্ত্রের চালান নিয়ে আসে।

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোয়েন্দা) মো. মনিরুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, বেশ কয়েকটি গোলাগুলির ঘটনা হয়েছে কিন্তু একটির সঙ্গে আরেকটির কোনো যোগসূত্র নাই। সবকটি ঘটনা আলাদা আলাদা কারণে হয়েছে। রাঙ্গামাটির ঘটনা আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদীর ঘটনা, নরসিংদির ঘটনা স্থানীয়দের আধিপত্য বিস্তারের, আর মেরুল বাড্ডার ঘটনাটি পেশাদার কিলাররা ঘটিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে নিহত ওই ব্যক্তি মাদকের কোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করেছে বলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধ কখনই নির্মূল করা যায় না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমরা প্রত্যেকটা অপরাধকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এগুলোর তদন্ত করে আসামিদের শাস্তির আওতায় আনা হয়। এসব কারণে বিগত এক বছরে তেমন কোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনা খুবই কম। আর এই কয়েকটি গোলাগুলির ঘটনায় চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নাই।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সমম্বিত সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত বাংলাদেশ ও ব্রুনাই

সরকারের ১০০ দিন উদ্যম উদ্যোগহীন

দোটানায় বিএনপির নির্বাচিতরা

সিইসি যে কারণে বিব্রত

ক্রিকেটপাগল জায়ান সঙ্গ পেয়েছিল সাকিবের

জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

শোকে স্তব্ধ শ্রীলঙ্কা আইএস’র দায় স্বীকার

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি প্রকৃতপক্ষে কমেছে

মুখ চেপে সেলফি, জীবন দিলো স্কুলছাত্রী

ঢাকা আসছেন ৭ মার্কিন কর্মকর্তা

ওসি’সহ পুলিশের গাফিলিতির বিষয়ে ফের তদন্ত কমিটি

বাংলাদেশের মিডিয়ায় কাজ করতে চান নূর

রাজধানীতে বেপরোয়া বাসের চাপায় প্রাণ গেল ২ জনের

পাঁচ দফা দাবিতে সাড়ে ৪ ঘণ্টা নিউমার্কেট মোড় অবরোধ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের

হয়েছে ধর্ষণ, পুলিশ মামলায় লিখেছে ধর্ষণচেষ্টা

একাদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ