‘নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেকসই উন্নয়নের দাবি’

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ৭:৪৬ | সর্বশেষ আপডেট: ৮:০৯
নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্ন্তভূক্তিমূলক পূনর্বাসন পলিসি গ্রহণ এবং স্থানীয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক বিষয়গুলোকে রক্ষাকল্পে বহুমূখী কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য রবি মৌসুমের নতুন ফসলগুলোর জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রয়োজনীয় বীজ ও চারা সরবরাহ করা। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সমন্বিত টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বলেন।
ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আকমল শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: শাহ্ কামাল এবং বাংলাদেশ এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব কে এম আব্দুস সালাম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংস্থার প্রকল্প ব্যবস্থাপক এনামুল হক সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম. রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন, তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও উপজেলায় নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবিকায়ন অবস্থা বিষডল 'Vulnerability, Social Dignity and Livelihood Choices of the River Bank Erosion Victims in Bhola District of Bangladesh' গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি জানান, ভোলা জেলার  ৯৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ নদী ভাঙ্গণের ফলে স্থানান্তরিত হয়েছে। তারধ্যে একটা পরিবারের সর্বোচ্চ ১১ বার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
তিনি আরো জানান, নদী ভাঙ্গণের ফলে মধ্যবিত্ত ও সম্ভ্রান্ত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে তাঁদের সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদায় আমূল পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, বিকল্প কর্মসংসস্থান না থাকায় ৮৪ দশমিক ৬ ভাগ মানুষ নদীতে মাছ ধরাকে নিজেদের জীবিকায়নের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মসূচি ও নীতিতে নদী ভাঙ্গণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য বেশ কিছু কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে টেকসই উদ্যোগকে খুব একটা বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়না। নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিন্তা করা প্রযোজন। যেমন নদীভাঙ্গণ ক্ষতিগ্রস্তবান্ধব দারিদ্র দূরীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ, কমিউনিটি ভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ, দুর্যোগোত্তর সমষ্টিভিত্তিক অর্ন্তভূক্তিমূলক কর্মসূচি এবং সর্বোপরি নদী ভাঙ্গণ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সঠিক খাদ্য নীতি গ্রহণ করা।

দক্ষিণাঞ্চলের লবনাক্ত এলাকায় জলবায়ু উপযোগী ফসলের উপর ১ বছরব্যাপী গবেষণা চালান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘Action Research for introducing/ promoting climate adaptive and resilient crops at Tayumuddin, Bhola' । তিনি জানান, ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার ২টি ভিন্ন অঞ্চলে কৃষকের জমিতে প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে বছরব্যাপী গবেষণায় দেখা যায়, এই এলাকায় কৃষকদের প্রচলিত রবি শস্য মুগডাল, আলু, মরিচ, বাদাম ইত্যাদির পরিবর্তে টমেটো, সূর্যমূখী, ভূট্টা, বার্লি, সয়াবিন ও গমের ফলন এবং লাভ অনেক বেশি হয়। খরিফ-১ মৌসুমে অধিকাংশ কৃষক জমি পতিত রেখে দেয় কিন্তু উপরোক্ত গবেষণায় দেখা গেছে যে, খরিফ-১ মৌসুমে পাট, খরিফ ভুট্রা, তিল ও ধৈঞ্চা লাভজনকভাবে চাষ করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, জুলাই মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে আমন ধানের চাষ করা হলে এবং সঠিক জাত নির্বাচন করা হলে অধিক ফলন এবং লাভ পাওয়া সম্ভব। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য রবি মৌসুমের নতুন ফসলগুলোর জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রয়োজনীয় বীজ ও চারা সরবরাহের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আয়োজকরা জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে ভোলা জেলার একটি বিশাল জনগোষ্ঠী জীবন যাত্রায় পরিবর্তন হয়েছে। ফলে ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশ ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় জলবায়ু ঝুকিপূর্ণ হতদরিদ্র সম্প্রদায়ের জন্য সমন্বিত টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প ‘Integrated Sustainable Development Program for Climate Vulnerable Ultra Poor Communities of Southern Bangladesh’ ISD Climb UP' শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, যা ৩০০০ হাজার পরিবারের উন্নয়নে কাজ করে।

প্রকল্পটির চূড়ান্ত মূল্যায়ন দলের প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার জানান, প্রকল্পভূক্ত ৩ হাজার পরিবারকে এককালীন ১৬ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের ফলে তারা পছন্দমতো আয়বৃদ্ধিমূলক কাজে সম্পৃত্ত হতে পেরেছে। ফলে তাদের মাসিক আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৬৩ শতাংশ, প্রকল্পের শুরুতে তাদের গড় আয় ৩৫১১ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১২ হাজার ৭ শত ৬৩ টাকা হয়েছে। সংস্থার ৩০০০ টি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা এবং ৫২টি গভীর নলকূপ স্থাপনের ফলে অতি-দরিদ্র পরিবারের মধ্যে পানিবাহিত সংক্রামক রোগ ব্যাধি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য ১২টি টয়লেট, ২ বছর যাবত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান শিক্ষার্থীদের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘নিজের সঙ্গে যুদ্ধে জিতেছি’

রেকর্ড ম্যান সাকিব

এই লিটনকেই দেখতে চায় বাংলাদেশ

মারা গেলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরসি

বিরোধিতার মুখে ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

লাল-সবুজের ‘ফেরিওয়ালা’ বিলেতি নারী

‘যে’ কারণে রুবেল নয়, লিটন

স্বরূপে মোস্তাফিজ, ফর্ম জারি সাইফুদ্দিনের

ভাগ্নেকে ফিরে পেতে সোহেল তাজের সংবাদ সম্মেলন

বছরে বিশ্বজুড়ে আড়াই কোটি শরণার্থী পাড়ি দেন ২শ’ কোটি কিলোমিটার পথ

দুশ্চিন্তায় সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা

‘গণপিটুনির ভয়ে পলাতক ছিলেন’

ব্যাংকে টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই

‘রোল মডেল’ হতে চায় সিলেট বিএনপি

ভুল করেই পাসপোর্ট সঙ্গে নেননি পাইলট ফজল

দেশে ফিরতে রাজি ভূমধ্যসাগরে আটকা ৬৪ বাংলাদেশি