আবেগ দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না - ফখরুল

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ মার্চ ২০১৯, সোমবার
আবেগ দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ওবায়দুল হক স্মৃতি সংসদের আয়োজনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুল হকের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া বিএনপির ভুল না কি সঠিক সিদ্ধান্ত- দলীয় নেতাকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের যাওয়ার পূর্বে আমাদের নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশেই আমরা নির্বাচনে গিয়েছি। নির্বাচনের পরেও তার নির্দেশেই ঐক্য ধরে রাখতে কাজ করেছি। এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আবেগ দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না। দেশনেত্রীর নির্দেশেই আমরা নির্বাচনকে একটি হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, আমাদের সাধারণ সভায় দল মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্য গড়ে তুলতে তিনি পরিষ্কার করে বলে গিয়েছিলেন।
এই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে ঐক্য নিয়ে লড়াই করতে বলেছিলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, এখানে অনেকে অনেক কথা বলছেন। নেত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার পরে যখন আমরা কর্মসূচি দিয়েছি তখন কতজন এসেছেন আর কতজন আসেননি আমরা তা দেখেছি। কারা কারা কর্মসূচি থেকে আস্তে আস্তে চলে গেছেন, সেটাও দেখেছি। এই নির্বাচনের মধ্যে কারা বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ করেছেন সেটাও দেখেছি। সুতরাং শুধুমাত্র একটি আবদ্ধ ঘরের মধ্যে নিরাপদ জায়গায় এসব কথা বলে শত্রুকে পরাজিত করতে পারবো না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বিশ্বাস করি- এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম লড়াই করতে হলে সমস্ত জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। জনগণের ঐক্য এবং সম্মিলতি প্রয়াস ছাড়া এই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচারকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরাজিত করার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, আন্দোলন সংগ্রামে জয়ী হতে সকল মানুষকে এক করতে হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, আজকে সুপরিকল্পিতভাবে জনগণের ঐক্যকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ যেভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে বর্জন করেছে, সেই ঐক্যকে ভাঙতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, দেশনেত্রীর নির্দেশে এই ঐক্যকে আরো সুদৃঢ় করবো এবং এই শক্তিকে পরাজিত করবো। ঐক্য ভেঙে গেলে আর কোনোদিন এই সরকারকে সরাতে পারবো না। সেজন্য ছোটখাটো সমস্যাকে বড় করে না দেখে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনোদিন নিঃশেষ হবে না। বিএনপির রাজনীতি জনগণের রাজনীতি।
এর আগে অনেকে বিএনপিকে ভাঙতে চেয়েছিল।

এরশাদ সরকার ভাঙতে চেষ্টা করেছে। এর পরে আওয়ামী লীগও ভাঙতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। আবার এখনো ভাঙতে চেষ্টা করছে। কিন্তু একজন কর্মীকেও সরিয়ে নিতে পারেনি। এখন সময় কঠিন। এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে হবে অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহস নিয়ে। মির্জা আলমগীরের বক্তব্যের এক পর্যায় দর্শক সারি থেকে নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশ্ন করতে থাকেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব তাদের মঞ্চে এসে প্রশ্ন করতে বলেন। দর্শক সারি থেকে ঢাকা কলেজের সহসভাপতি এইচএম রাশেদ মঞ্চের কাছে এসে জানতে চান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সর্বশেষ যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাতে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়নি কেন? তখন মির্জা আলমগীর বলেন, কে বলেছে আপনাকে এই কথা। অবশ্যই মুক্তি চাওয়া হয়েছে। ডোন্ট টেল এ লাই। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয় না। আন্দোলন জমা থাকে। আন্দোলন কখনো হারিয়ে যায় না। সকল আন্দোলন যখন বিস্ফোরিত হবে সেদিন এই সরকার ভেসে যাবে। সময় আসছে, সুযোগ আসবে, সংগঠিত থাকুন। আর সেই সময়ের অপেক্ষা করুন। তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক দলের আন্দোলনে স্বৈরাচারকে উৎখাত করা যায় না। সমাজের রাষ্ট্রের সকল জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে স্বৈরাচারকে উৎখাত করতে হয়। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মনে করছেন এভাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকবেন? এটা অসম্ভব। হিটলার থাকেনি, মুসোলিনি থাকেনি, ফেরাউন নেই, আপনারাও থাকবেন না। ২০শে ফেব্রুয়ারি সকল মামলা প্রত্যাহার করে জনগণ যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এসেছিল খালেদা জিয়াও সেভাবে কারাগার থেকে মুক্ত হবে ইন্‌শাআল্লাহ। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি টিএস গিয়াসউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ বক্তব্য দেন।॥



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন