বরিশালে দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ নিহত ৭

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে | ২৩ মার্চ ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৭
বরিশাল নগরীতে বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ ৭ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন মাহিন্দ্রা চালকসহ আরো অন্তত ৪ যাত্রী। তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতেরা হলেন-ঝালকাঠির নলচিঠি উপজেলার বাসিন্দা ও বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) মাস্টার্সের গণিত প্রথম বর্ষের ছাত্রী শীলা হালদার (২৪), বাকেরগঞ্জের ইউনুস সিকদারের ছেলে ও নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা রং মিস্ত্রি মানিক সিকদার (৪০), নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর এলাকার ইনছাফ আলীর ছেলে অটোরিকশাচালক খোকন (৩৫), বরিশালের কাশিপুরের গণপাড়া এলাকার ইদ্রিস খানের ছেলে মাহিন্দ্রাচালক সোহেল (২৫), বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশার মোখলেস হাওলাদারের স্ত্রী পারভীন (৩৫), পারভীনের শিশুপুত্র তাইয়ুম (৭) ও ৫০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত নারী। আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, সকালে দুর্জয় পরিবহনের একটি বাস বানারীপাড়া থেকে বরিশাল আসছিল। পথে বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় বানারীপাড়াগামী একটি মাহেন্দ্রের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যায়। এর মধ্যে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের মাস্টার্সের গণিত প্রথম বর্ষের ছাত্রী শীলা হালদার (২৪) রয়েছেন।
আহতদের দ্রুত শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ডিউটিরত চিকিৎসক একের পর এক করে চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে তিনজনই নারী। দুজন নারীর পরিচয় পাওয়া গেলেও একজনের পরিচয় এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। গতকাল সকালে নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গড়িয়ারপাড় এলাকায় বরিশাল বানারীপাড়া সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান মুকুল জানিয়েছেন, নগরীর নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০ যাত্রী নিয়ে একটি মাহিন্দ্রা বানারীপাড়ার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে বরিশালের উদ্দেশে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা দুর্জয় পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্রাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জন মারা যায়।  আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এরপর চিকিৎসাধীন অবন্থায় আরো চারজন মারা যায়।

এদিকে নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে শেবাচিম হাসপাতালে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। ক্ষুব্ধ স্বজনদের অভিযোগ, বাসের চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই প্রাণ গেছে ৭ যাত্রীর। মুখোমুখি সংঘর্ষের পরও বাসটি সেখানে না থামিয়ে চালক মাহেন্দ্রটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।

ওসি আবদুর রহমান মুকুল বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি। তবে বাসটি শনাক্ত করে চালক আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনারগাঁয়ে মা-মেয়েসহ ৩
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে  গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মল্লিকপাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় পারভীন আক্তার সানজিদা (৩০) ও মেয়ে ফেরদৌসী আক্তার জান্নাত (৯) নিহত হয়েছে। এ সময় মোটরসাইকেল চালক জসিম উদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছে। আহত জসিমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

সরজমিনে গেলে আহত জসিম উদ্দিনের বাবা সামসুদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তার সানজিদা তাদের ছেলে আসিফকে (১১)কে দেখতে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার মাদরাসায় যায়। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মল্লিকপাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও মেয়ে জান্নাত (৯) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জসিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে কথা বলতে পারছে না, ইশারায় বলার কথা বলে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি বলেন, আমার দুই ছেলে, শাহীন ও জসিম। জসিম পেশায় হেলপার। তার স্ত্রী পারভীন আক্তার সানজিদা পৌরসভার টিপরদী এলাকায় চৈতী কম্পোজিটে চাকরি করতো। আসিফ (১১) ও ফেরদৌসী আক্তার জান্নাত (৯) নামের এক ছেলে ও এক মেয়ে। আসিফ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় একটি মাদরাসায় ও নিহত ফেরদৌসী আক্তার জান্নাত দড়িকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইয়ুম জানান, রাতে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে স্ত্রী মেয়ে নিয়ে নিজ বাড়ি দড়িকান্দি যাচ্ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী জসিম। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মল্লিকপাড়া এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি বাস ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। গুরুতর অবস্থায় মোটসাইকেল চালক জসিমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে মা ও মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত শেষে লাশ এখনো বাড়িতে আনা হয়নি।

এদিকে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় গতকাল সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় আবু নাঈম (২৭) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সমম্বিত সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত বাংলাদেশ ও ব্রুনাই

সরকারের ১০০ দিন উদ্যম উদ্যোগহীন

দোটানায় বিএনপির নির্বাচিতরা

সিইসি যে কারণে বিব্রত

ক্রিকেটপাগল জায়ান সঙ্গ পেয়েছিল সাকিবের

জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

শোকে স্তব্ধ শ্রীলঙ্কা আইএস’র দায় স্বীকার

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি প্রকৃতপক্ষে কমেছে

মুখ চেপে সেলফি, জীবন দিলো স্কুলছাত্রী

ঢাকা আসছেন ৭ মার্কিন কর্মকর্তা

ওসি’সহ পুলিশের গাফিলিতির বিষয়ে ফের তদন্ত কমিটি

বাংলাদেশের মিডিয়ায় কাজ করতে চান নূর

রাজধানীতে বেপরোয়া বাসের চাপায় প্রাণ গেল ২ জনের

পাঁচ দফা দাবিতে সাড়ে ৪ ঘণ্টা নিউমার্কেট মোড় অবরোধ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের

হয়েছে ধর্ষণ, পুলিশ মামলায় লিখেছে ধর্ষণচেষ্টা

একাদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ