লালমাইয়ে ফসলি জমিতে অবৈধ ইটভাটা

বাংলারজমিন

লালমাই (কুমিল্লা) সংবাদদাতা | ২৩ মার্চ ২০১৯, শনিবার
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের বেতুয়ায় তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করে ইট পোড়াচ্ছে ইউনাইটেড ব্রিকস। ভাটাটি চালু করায় আশপাশের কয়েকশ’ একর আবাদি জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের নিজ মালিকানা বেতুয়া মৌজায় ৪৫ শতক, তার ভাই আলকাছের রহমানের ৫১ শতক ও উত্তর বেতুয়ার নুর হোসেনের ৩০ শতক তিন ফসলি জমি ভাড়া নিয়ে আদর্শ সদর উপজেলার কাশিনাথপুরের এমদাদুল হক ইনাইটেড ব্রিকস নামে ইটভাটা করার উদ্যোগ নেয়। আইনের তোয়াক্কা না করে বিশেষ সুবিধা পেয়ে গত বছরের ৩রা মে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুর রহিম প্রস্তাবিত ইটভাটাকে অনাপত্তি পত্র দেয়।

একইদিন তড়িঘড়ি করে ভাটাটির নামে মাত্র ২শ টাকা ফি-তে ট্রেড লাইসেন্সও দেয়া হয়। তবে তিন ফসলি জমি হওয়ায় উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এলাকার কৃষি জমির মালিকরাও ইটভাটা স্থাপন বন্ধ করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এমদাদুল হক সরকারি অনুমতি ছাড়াই ভাটা নির্মাণ করে ইট পোড়ানো শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষতিগ্রস্ত একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধভাবে গড়ে উঠা ভাটার পূর্বপাশে ৫শ’ গজের মধ্যে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পশ্চিম পাশে আধা কিলোমিটারের মধ্যে একটি মাধ্যমিক, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি হাট-বাজার রয়েছে। তারপরও সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ভাটা মালিক এমদাদুল হক বলেন, অনুমোদন আছে কি নাই, আপনার কি দরকার। পরিবেশ অধিদপ্তরতো কিছু বলছে না। বাসায় আসেন, কথা বলবো।

লালমাই উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মহি উদ্দীন বলেন, ইউনাইটেড ব্রিকস আবেদন করেছে। কিন্তু তিন ফসলি জমি হওয়ায় আমরা অনাপত্তিপত্র দিইনি। লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ফসলি জমিতে ব্রিক ফিল্ড করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপ-পরিচালক সামছুল আলম বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র ছাড়া আমরা ব্রিক ফিল্ডের ছাড়পত্র দিইনা। অনুমোদন ছাড়া ব্রিক ফিল্ড করলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

জহিরুল ইসলাম

২০১৯-০৩-২২ ১১:৫০:১৭

সত্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক কে ধন্যবাদ৷

আপনার মতামত দিন