ভোটের সেই একই চিত্র

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৮
ভোটারশূন্য মৌলভীবাজার সদরের কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র। এ সময় এক এজেন্টকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায় -নিজস্ব ছবি
উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপেও সেই আগের চিত্রই দেখা গেছে। কম ভোটার উপস্থিতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেন ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই। আওয়ামী লীগ  মনোনীত প্রার্থীরাও নির্বাচন বর্জন করেছেন কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে। এদিকে প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে আরো কম ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে সারা দিনে হাতেগোনা কয়েকটি ভোট পড়েছে। ওইসব কেন্দ্রে ভোটশূন্য কক্ষও ছিল।

এদিকে রাঙামাটিতে ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছে। গুলিতে আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছে। বগুড়ার গাবতলীতে ভোটের আগের রাতেই বাক্স ভর্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে ভোট বর্জন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলো দিনভর ভোটার শূন্য ছিল। মৌলভীবাজার পৌর শহরের কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের দুটি ভোট কক্ষে কোনো ভোটই পড়েনি। এ জেলার রাজনগর উপজেলায় অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ভোট বর্জন করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আছকির খান। রাঙামাটিতে অনিয়মের অভিযোগে তিন উপজেলার পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। সিলেটের উপজেলাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তবে পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। এ ধাপে ৮টি ভোট কেন্দ্র অনিয়ম ও ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। সোমবার ভোট শেষে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলায় ভোট হয়।

ইসি সচিব জানান, এ ধাপের ৭০৩৯ কেন্দ্রের মধ্যে আটটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করার তথ্য দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বাকি সবখানে কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায় নি। দ্বিতীয় ধাপে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। এ ধাপে অধিকাংশ এলাকায় ভোটার উপস্থিতি ব্যাপক ছিল বলে তথ্য পেয়েছি। কোথাও কোথাও কম উপস্থিতি ছিল। তবে “সব মিলিয়ে প্রথম ধাপের (৪৩%) চেয়ে বেশি ভোটের হার হবে আশা করি” বলেন হেলালুদ্দীন আহমদ। এবার উপজেলার ভোট হচ্ছে পাঁচ ধাপে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ভোট শেষ হয় ১০ই মার্চ। নানা অনিয়মের কারণে সেদিন ২৮টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়; গ্রেপ্তার করা হয় অন্তত তিনজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে। তারপরও প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণকে ‘মোটামুটি শান্তিপূর্ণ’ বলেছে নির্বাচন কমিশন।

দলীয় প্রতীকে এই প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হলেও বিএনপিসহ বেশির ভাগ দলের বর্জনের কারণে প্রথম দফার ভোটে লড়াইয়ের আমেজ দেখা যায়নি। সেদিন ভোট পড়ে ৪৩ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় প্রথম ধাপে ২৮ জন ও দ্বিতীয় ধাপে ৪৮ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হন।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪শে মার্চ তৃতীয় ধাপে, ৩১শে মার্চ চতুর্থ ধাপের উপজেলাগুলোতে হবে ভোট। পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ই জুন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন