গাবতলীতে রাতেই বাক্স ভর্তি স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

এক্সক্লুসিভ

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২
সকাল পৌনে ১০টা। বগুড়ার প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার জিলা স্কুল জনমানবশূন্য। নিরাপত্তা প্রহরী কয়েকজন ব্রেঞ্চে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। বুথের ভেতরে গিয়েও দেখা গেল একই চিত্র। সবাই অপেক্ষা করছেন ভোটারের। কিন্তু কোনো ভোটার আসছে না। ফলে গল্পগুজবেই সময় কাটাচ্ছেন এজেন্ট এবং নির্বাচন কর্মকর্তারা। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৯৭৫।
দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ৬টি। একই চিত্র দেখা গেল শহরের নারুলী উত্তরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বগুড়া সদর উপজেলার সবচেয়ে বেশি ভোট এই কেন্দ্রে। মোট ভোটার ৬ হাজার। সাড়ে আটটা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ১টি।
গাবতলী উপজেলার চকবোচাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল মতিন জানান, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ৪টি। এই সেন্টারে নৌকা মার্কা ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীদের এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শাজাহানপুর মাঝিড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ ঘণ্টায় ১২৩ ভোট। মোট ভোটার ৩৬০৮।
আদমদীঘি উপজেলার কুসুম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রবিউল আলম জানান, ২৭১৪ জন ভোটারের মধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত শতকরা ১ দশমিক ৪৭ ভাগ অর্থাৎ ৪০ ভোট কাস্ট হয়েছে।
আদমদীঘি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নৌকা মার্কার প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই উপজেলায় ভোট প্রদানে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ একেবারেই কম। সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজ বলাইল উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হাবিবুর রহমান আকন্দ জানান, ৩৯৪০ ভোটের মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২০ ভোট পড়েছে। সকাল ৯টায় শহরের ঝোপগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১০টি ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল মতিন। এই কেন্দ্রে ২৩৩৫ ভোটার রয়েছে। এখানে নৌকা মার্কার এজেন্ট দেখা গেলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মোটরসাইকেল মার্কার কোনো এজেন্ট নেই। শহরের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। ভোটার উপস্থিতি না থাকার কারণে তারা নিজেদের মধ্যে খোশগল্প করে সময় কাটিয়েছেন।
প্রিজাইডিং অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, ভোটার উপস্থিতি একেবারেই নাই। সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ৪টি। তবে ভোটার উপস্থিতি না থাকলেও ভোট কেন্দ্র এবং বাইরের পরিস্থিতি বেশ ভালো ছিলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলো সতর্ক অবস্থায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, এবার তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যেকোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমন করতে প্রস্তুত ছিল তারা।
বগুড়ার গাবতলীতে রাতেই বাক্সভর্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন: এদিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী রফি নেওয়াজ খান রবিন রাতে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করেছে। এমন অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডিসেন্ট আহমেদ সুমন নির্বাচন বর্জন করেছেন। সকাল সাড়ে দশটার দিকে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফি নেওয়াজ খান রবিন আগের রাতেই সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভর্তি করেছে। অন্যকোনো প্রার্থীর এজেন্টকে কোনো কেন্দ্রেই প্রবেশ করতে দেয়নি। হুমকি-ধামকি দিয়ে বের করে দিয়েছে। এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো কর্মীকেও কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করতে দেয়নি। তিনি আরো বলেন, বিষয়গুলো নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি বলেন, এমন ভোট ডাকাতির নির্বাচনে থাকার চেয়ে সরে যাওয়া ভালো। তাই নির্বাচন বর্জন করে পুনরায় সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করেন তিনি।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত) আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। কাউকে বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ দেয়া হয়নি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন