নির্বাচন কর্মকর্তা ৪১ ভোটও পড়েছে ৪১

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে | ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার
ভোটের শুরু থেকেই ওই কেন্দ্রের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল সময় গেলে ভোটার বাড়বে। না তাদের সে প্রত্যাশা আর পূরণ হলো না। বেলা বাড়লো ভোটের জন্য নির্দিষ্ট সময় ফুরালো। কিন্তু বাড়লো না কাঙ্ক্ষিত সেই ভোটার। জেলার ৭টি উপজেলার শহর কিংবা গ্রামের অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে এমন দৃশ্য ছিল লক্ষণীয়। মৌলভীবাজার পৌর শহরের সবক’টি কেন্দ্র পরিদর্শনে  দেখা গেল এমন ভোটারশূন্যতার দৃশ্য। ভোট কেন্দ্রগুলো ছিল একেবারেই ফাঁকা।
শহরের সঙ্গে একাত্রতা ছিল গ্রাম অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোরও। কিন্তু দিন শেষে শহরের অন্যান্য ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটের পরিসংখ্যান মোটামুটি  
থাকলেও ব্যতিক্রমী ছিল শহরের কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভোট গণনায় পাওয়া গেল ৪১টি ভোট। ওই কেন্দ্রে সারাদিনে ভোট পড়ে মাত্র ৪১টি। ৯টি বুথের মধ্যে ১টি বুথে কোন ভোটই পড়েনি। সকাল থেকে এই কেন্দ্র ভোটার শূন্য ছিল। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়ে মাত্র ৮টি। আর বিকেল ৪টায় তা দাঁড়ায় ৪১টিতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভোট গণনায় সময় লেগেছে মাত্র কয়েক মিনিট। তাই ফলাফলও ঘোষণা হয়েছে দ্রুত। জানা যায়, ওই কেন্দ্রে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন প্রিসাইডিং ১ জন, সহকারী প্রিসাইডিং ৯জন, পোলিং ১৮ জন, আনসার সদস্য ১১ জন ও ২ জন পুলিশ। মোট ৪১ জন। আর প্রার্থীদের এজেন্ট ছিলেন ২১ জন। আর মোট ভোট ছিল ২৯৯৭টি। বিশাল আয়োজনে ভোটার সংখ্যা কম হওয়া এই কেন্দ্রটি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। ভোটাররা ওই কর্মকর্তাদের পরিসংখ্যানের মান মর্যাদা রক্ষা করলেও পারেননি প্রার্থীর এজেন্টদের। ওই ভোট কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা শেষে  এখন এমন হাস্যরসের উদাহরণ দিচ্ছেন রসিকজনরা। আর শহরের প্রাণ কেন্দ্রের এই ভোট কেন্দ্রের এমন ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শহর জুড়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। তবে ওই কেন্দ্র নয় পুরো জেলার ভোটার উপস্থিতি নিয়ে হতাশ প্রার্থী ও রাজনীতিবিদরা। তারা এটাকে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করছেন তারা। এই চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওই কেন্দ্রে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলাউর রহমান টিপু (চশমা) পেয়েছেন ২৭ ভোট আর আব্দুল মতিন (বাল্ব) পয়েছেন ১৩টি। মহিলা ভাইস চেয়াম্যান পদে শাহীন রহমান (পদ্মাফুল) ১৯টি, মিলি আছিয়া রহমান (প্রজাপতি) ১৬টি, মিতা ভূইয়া (ফুটবল) ১টি, রাশিদা খানম (কলস) ৪টি ভোট পেয়েছেন। আর ১টি ভোট বাতিল হয়েছে। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নিলাদ্রী শেখর দাস জানান এই (মহিলা) কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৯৯৭ জন। এরমধ্যে ৪১টি ভোট পড়েছে। আর এই কেন্দ্রে মোট ৯টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন