মৌলভীবাজারের ৭টি উপজেলার নির্বাচন

আছে সব আয়োজন, নেই ভোটার

অনলাইন

ইমাদ উদ দীন, মৌলভীবাজার থেকে | ১৮ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ১২:০৭ | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৭
ভোটের সব আয়োজন থাকলেও নেই ভোটার। শুরু থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত  জেলার ৭টি উপজেলার অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রগুলোর ভোটার উপস্থিত ছিল একেবারেই কম। যেখানে সারিবদ্ধ ভোটার উপস্থিতি উপচে পড়ার কথা, সেখানে দু’চার জন ভোটার পায়চারি আর সেলফিতে ব্যস্ত থাকার দৃশ্য চোখে পড়ে।

সকাল থেকে মৌলভীবাজার শহর ও জেলা শহরের অনান্য উপজেলাগুলোরও ভোটে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির একই দশা। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের জন্য সব আয়োজন থাকলেও যাদের জন্য এই আয়োজন নেই সেই ভোটার। এমন দৃশ্যে হতাশ প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা।  কেন্দ্রেগুলোর প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, প্রার্থীদের এজেন্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবাই অপেক্ষায় ভোটারদের। কিন্তু কাঙ্খিত সেই ভোটার উপস্থিতি সকাল ১১টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি। দু’চার জন ভোটার এক সঙ্গে আসলে হাসি ফুটছে সংশ্লিষ্টদের।


মৌলভীবাজার জেলার ৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ৩৫ এবং ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ২৮ জনসহ মোট ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এই জেলার ৭টি উপজেলার ৫টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়নে মোট ১২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৭১ জন ভোটার রয়েছেন। মোট ভোট কেন্দ্র ৫১৯ টি।

মৌলভীবাজার পৌর এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলো একেবারেই ফাঁকা। কেন্দ্রেগুলো হচ্ছে হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোবিন্দশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসা, কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ, বাজার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়,বড়কাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহারমর্দন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলোতেও ভোটারের উপস্থিতি একেবারে কম বলে জানা গেছে। সকাল ১১ টা পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ২৫-৩০টি ভোট পড়েছে। মৌলভীবাজার শহরের কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে পুরুষ ও মহিলা বুথ রয়েছে ৯টি, মোট ভোটার ২০৯৯৭ জন, সকাল ১১ পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭টি। এই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের দ্বায়িত্বে রয়েছেন নীলাদ্রী শেখর দাস। মোস্তফারপুর ইউনিয়নের উত্তর জগন্নাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৫৬০টি ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৫৮টি। ওই কেন্দ্রে প্রিসাইডিংয়ের দ্বায়িত্বে আছেন মনিরুল ইসলাম। একই অবস্থা জেলা উপজেলা ভোট কেন্দ্রগুলোর। তবে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি না থাকলেও  আইনশৃংখলা বাহিনী ও নির্বাচন সংক্রান্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।  

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, জুড়ী ও বড়লেখার রির্টানিং অফিসারের দ্বায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আশরাফুর রহমান। অপরদিকে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়ার রির্টানিং অফিসারের দ্বায়িত্বে রয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল হক। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‌্যাব মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। তারমধ্যে ২ হাজার পুলিশ, ৬ হাজার আনসার, ১৮ প্লাটুন বিজিবি মাঠে কাজ করছেন। স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল দিচ্ছে। ভোট কেন্দ্রগুলোর ভোটার উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এমন প্রত্যাশা প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

হিমু

২০১৯-০৩-১৯ ০০:৪৩:৩৪

ব্যাপক বিনোদনের মধ্যে আছি আমরা ভোট হচ্ছে জনগনের অধিকার আমরা অধিকার থেকে বঞ্চিত।

nurul alam

২০১৯-০৩-১৮ ১৬:০২:০২

ওরা তিনজনতো আছেনই ! তাহলে ভাবনা কী ! আর রাতের বেলায় ঐ ঐখানে যে বাক্সগুলো ইয়ে করা হয়েছে মানে পূর্ণ করা হয়েছে সেগুলোতো আছেই !

Sarwar

২০১৯-০৩-১৮ ১৫:২৪:১৪

Why government is fail to make a false que and false voter? All the credit is for CEC. He presented a peaceful election. His office is free from all problems

Shajusa

২০১৯-০৩-১৮ ০১:১০:৩৯

ত্রত হাজার হামলা মামলা দিলে ভোটার কি ভাবে আসবে ক্ষমতার জন্য জনগনের গুম হারাম করে দিযেছে

ইনায়েত

২০১৯-০৩-১৮ ০১:০৪:৩১

এটার জন্য দায়ী কে, সরকারে চাটুকার সিইসি বেহুদা সাহেব।

আপনার মতামত দিন