খালিশপুরে পাচারের শিকার স্কুলছাত্র পাঁচ মাসেও উদ্ধার হয়নি

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১৮ মার্চ ২০১৯, সোমবার
নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ মাসেও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি খুলনার খালিশপুরের শিশু রাব্বানীকে (১০)। গত ২১শে সেপ্টেম্বর’-১৮ সে নিখাঁজ হয়। সন্তানের খোঁজে পিতা-মাতা পাগলপ্রায়। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্ত হয়। দ্বিতীয়বার আবার হাজিরা দিতে গেলে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ভিকটিমের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম শেখ জানান, তিনি খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক সংলগ্ন জমিদার বাড়ির ভাড়াটিয়া। পেশায় রিকশা চালক।
গত ২১শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আশুরার দিন যশোরের উদ্দেশে তার ছেলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। আশুরা শেষে সকলে যশোর থেকে বাসায় ফিরে এলেও রাব্বানী ফিরে আসেনি। মোসলেম শেখ তার ছেলের খোঁজে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করে কোথাও না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় তিনি খালিশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (নং-১৩৭০, তাং-২৭.০৯.১৮ ইং)। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, রাব্বানীর উচ্চতা তিন ফুট দু’ইঞ্চি, গায়ের রঙ শ্যামলা, মুখমণ্ডল গোলাকার। পরনে ছিল কালো রঙ-এর ফুল প্যান্ট এবং হলুদ রঙ-এর গেঞ্জি। পরে তিনি এ ঘটনায় পাচার মামলা দায়ের করেন। আসামি করেন বেবী, সীমা, আনিছ, আক্কাস ও জোসনা বেগম নামের পাঁচজনকে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভয়নগর এলাকা থেকে এজাহার নামীয় আসামি জোসনা বেগম (৪০)কে গত ৬ই মার্চ গ্রেপ্তার করেছেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খালিশপুর থানার এসআই আব্দুল মান্নান। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত জোসনা অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের জগভবনের মোড় আল হেরা স্কুলের পাশের বাসিন্দা আলম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে সে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়। এ ঘটনার পর বাদীর আইনজীবী এডভোকেট জামাল হোসেন আসামির জামিন নামঞ্জুর করার জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালতে শুনানি শেষে গত ১৪ই মার্চ জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করে। পাচারের শিকার শিশুটি খালিশপুর আলফালাহ স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন