সংসদীয় কমিটিতে অভিযোগ

পরীক্ষা ছাড়াই ভিকারুননিসায় ভর্তি

শেষের পাতা

কাজী সোহাগ | ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৮
ভর্তি পরীক্ষা দেয়নি। তাই চূড়ান্ত রেজাল্ট তালিকায় নাম নেই। তারপরও ভর্তি করা হয়েছে। আর এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে। অন্যদিকে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলা ভার্সনে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল এক শিক্ষার্থী। এখন ভার্সন পরিবর্তন করে যেতে চায় ইংলিশে। কিন্তু যেতে পারছে না। কারণ ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ঘুষ দিতে পারেননি। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মের মধ্যে না থাকায় তাকে পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না। দু’টি ঘটনাই ঘটেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখায়। তবে এ নিয়ে কেউ দায় নিতে চাননি।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম জানিয়েছেন, এ ধরনের ভর্তি হয়ে থাকে চাপের মুখে। তাই এ দায় তার নয়। কারণ সবকিছু হয়ে থাকে গভর্নিং কমিটির সিদ্ধান্তে। তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে  কোনো ধরনের ভর্তি বা ট্রান্সফার সম্ভব নয়। অন্যদিকে পরিচালনা কমিটির শীর্ষ ব্যক্তিও এ ধরনের ঘটনার দায় নিতে চান না। তিনি বলেন, চান্স না পেয়েও ভর্তি হয়েছেন এটা যাচাই করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের উচ্চ মহলের চাপ ও অনুরোধে অনেককে ভর্তি করা হয়ে থাকে। তাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ভিকারুননিসায় ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেখানে ১৯ জন ছাত্রীর তালিকা টাঙানো হয়। সেখানে নাম না থাকা সত্ত্বেও ভর্তি করা হয়েছে এক ছাত্রীকে। কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ভর্তি করানো হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। ছাত্রীটি উইল্‌স লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে টিসি নিয়ে এসে ভর্তি হয়। সংসদীয় কমিটির কাছে দেয়া অভিযোগে ওই ছাত্রীর টিসি’র কপি ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রেজাল্ট শিটের তালিকা সংযুক্ত করা হয়। এ প্রসঙ্গে  ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমাদের ওপর এত প্রেসার থাকে, এত উপর লেভেল থেকে রিকোয়েস্ট থাকে তখন না করে উপায় থাকে না। এটা সত্য কথা। এসব তো আপনারা বুঝেন।

যা কিছু হয়েছে গভর্নিং বডির নলেজে থেকেই হয়েছে। এখানে আমার একক সিদ্ধান্তে কোনো কাজ হয় না। গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবকিছু মেনে আমাকে কাজ করতে হয়। একই প্রসঙ্গে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এর ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার মানবজমিনকে বলেন, রেজাল্ট তালিকায় নাম না থাকার পরেও ভর্তির বিষয়টি আগে থেকে জানতাম না। আজ শুনলাম। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বদলিজনিত কারণে ঢাকায় এলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করে তার সন্তানকে ভর্তি করাতে। এটা আসলে হয় বিশেষ ক্ষেত্রে। এটাকে আবার পুঁজি করে অনেকে চাপ দেয়। মন্ত্রণালয় বলে দিয়েছে, আসন শূন্য থাকলে ভর্তি করানো যাবে। কিন্তু মন্ত্রণালয় যখন অনুরোধ করে তখন তাদের জানা উচিত যে, কোনো আসন শূন্য আছে কি না।

তিনি বলেন, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে ভর্তির অনিয়ম নিয়ে আমার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমি জানার চেষ্টা করবো এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না। প্রিন্সিপালের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইবো। এদিকে গভর্নিং কমিটির বিরুদ্ধে গত ৭ই মার্চ শিক্ষা সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ আবদুল মজিদ। অভিযোগে তারা জানান, বর্তমান গভর্নিং কমিটি অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচন না দিয়ে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড হতে ৩-৬ মাসের মেয়াদ বাড়িয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে আরও ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ প্রদান করতে পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। ২০১৭-২০১৮ ও ২০১৮-২০১৯ সালে প্রচুর অবৈধভাবে ভর্তি বাণিজ্য হয়েছে। এতে বলা হয়, যেখানে একটি ক্লাসে ৫০-৬০ জন ছাত্রী থাকার কথা সেখানে বর্তমানে ১০০-১১০ জন ছাত্রী ক্লাস করছে। যা একজন শিক্ষকের পক্ষে কোনোভাবেই শিক্ষাদান করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাও শিক্ষা গ্রহণে হচ্ছে অমনোযোগী।

বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ৪ঠা মে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সার্বিক বিবেচনায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজটি নারীর শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান। এখানে বর্তমানে ২৪ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাই ৪৮ হাজার অভিভাবক বিশ্বাস করেন গতানুগতিক গভর্নিং কমিটির পরিবর্তে বিশেষ কমিটি দ্বারা এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে প্রতিষ্ঠানটি তার শিক্ষার পরিবেশ ধরে রাখতে পারবে। অভিভাবক ফোরাম জানিয়েছে, নির্বাচিত কমিটির ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক প্রতিনিধি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে নির্বাচিত হন। পরে তিনি ভর্তি বাণিজ্য ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে নির্বাচনে তার বিনিয়োগ করা অর্থ উঠিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। এর ফলে প্রতিটি শ্রেণিতে ৩০-৪০ জন ছাত্রী জোরপূর্বক ভর্তির জন্য বাধ্য করেন। এতে ছাত্রীর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় শিক্ষার মান ও পরিবেশ কোনোটিই ধরে রাখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থের বিনিময়ে অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করলেই বের হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রিয়তি ধর্ষণ চেষ্টা, তদন্তে ইন্টারপোল!

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জাতীয় সংসদের বিশেষ আয়োজন

প্রার্থী হচ্ছেন না খালেদা জিয়া

সাকিব আবার শীর্ষে

দোষী ৬৭ জন ১৮ থেকে ২৩ তলা অবৈধ

নারী হতে বাংলাদেশির অস্ত্রোপচার গুজরাটে

সিমলায় আটকে আছে তদন্ত!

অনির্বাচিত সরকারকে গ্রহণ করার মূল্য দিচ্ছে জনগণ

ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু অনলাইনে চরম ভোগান্তি

চাল আমদানিতে শুল্ক কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ

বান্ধবীর বাসায় আশিকের মৃত্যু নানা রহস্য

সিলেটের ৫ গুণীজনকে রত্ন ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে বিশ্বাঙ্গনে একত্রে লড়বে দুই দেশ

অধ্যক্ষ ফের দুই দিনের রিমান্ডে

ঢাকার ৮৪ ভাগ বহুতল ভবনই ত্রুটিপূর্র্ণ

পা হারানো রাসেলকে বাকি টাকা দেয়নি গ্রীনলাইন তীব্র ক্ষোভ হাইকোর্টের