হাউস অব কমন্সে ‘হাই ড্রামা’

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৪২
বৃটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে অনুষ্ঠিত হলো ‘হাই ড্রামা’। সরকারকে বিস্মিত করলেন এমপিরা। যেকোনো অবস্থায় কোনো চুক্তি ছাড়া তারা ব্রেক্সিট সম্পাদনকে প্রত্যাখ্যান করলেন। ৩১২-৩০৮ ভোটের ব্যবধানে এমপিরা চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট সম্পাদন না করতে সরকারকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। ফলে পর পর তিনবার হাউস অব কমন্সে শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে দিলেন তারা। প্রথমে জানুয়ারিতে ঐতিহাসিকভাবে তারা প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া প্রত্যাখ্যান করলেন। তারপর মঙ্গলবার আরেক দফায় সংশোধিত খসড়াও প্রত্যাখ্যান করলেন তারা। আর সর্বশেষ বুধবার তারা চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটকে অনুমোদন দিলেন না।
এমন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার আবার আরেকটি প্রস্তাবের ওপর ভোট হলো হাউস অব কমন্সে। তাতে ব্রেক্সিট সম্পাদনের জন্য সময় বাড়ানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অনুরোধ করা হবে কিনা সে প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবেন এমপিরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে এমপিরা চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন তা মানা বাধ্যতামূলক নয়। বর্তমান আইনের অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কোনো চুক্তি ছাড়াই এই জোট থেকে বৃটেন বেরিয়ে যেতে পারে আগামী ২৯শে মার্চ।

গতকাল ছিল ১৪ই মার্চ। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সরকার ও এমপিদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি করবেন। সময় বর্ধিত করার আবেদনে কি স্বল্প সময় চাওয়া হবে নাকি দীর্ঘ সময় চাওয়া হবে তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান ব্রেক্সিট চুক্তিতে এমপিদের সমর্থনের ওপর।

বিবিসি লিখেছে, গতকালকের প্রস্তাবের পক্ষে যদি  ভোট দেন সংসদ সদস্যরা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাতে সম্মত হয়, তাহলে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯শে মার্চের মধ্যে আর যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন  ছেড়ে গেলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত বৃটিশ নাগরিকদের জন্য বৃটেন একটি সুবিধাজনক চুক্তি করতে চাইছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের  দেশগুলোতে বৃটিশ ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলো কী ধরনের সুবিধা পাবে- সেটিও একটি বিষয়।

এর আগে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর একটি খসড়া চুক্তি করেছিলেন, যা বৃটিশ পার্লামেন্ট জানুয়ারি মাসের এক ভোটাভুটিতে বাতিল করে দিয়েছিল। এর আগে মঙ্গলবার আরেকটি ভোটাভুটিতে  ব্রেক্সিটের জন্য তেরেসা মে’র খসড়া চুক্তিটি দ্বিতীয় বারের মতো বাতিল করে দেয় বৃটিশ পার্লামেন্ট।

প্রথমবার যে ব্যবধানে তার চুক্তিটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, তার নজির বৃটিশ সংসদে নেই। তার নিজের রক্ষণশীল দলেরই ১১৮ জন এমপি ওই চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তারপর গত  কয়েক সপ্তাহ ইইউ নেতাদের সঙ্গে নতুন দেন-দরবার করে কিছুটা পরিবর্তিত আকারে চুক্তিটি আবার সংসদে এনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মে’।

‘বৃটিশ এক্সিট’ নামটিকে সংক্ষেপে ডাকা হচ্ছে  ব্রেক্সিট নামে। এটি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন  থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাবার প্রক্রিয়া। ৪০ বছরের  বেশি সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩শে জুন একটি গণভোট হয় বৃটেনে। সেখানে সেদেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকা উচিত নাকি উচিত না? সেই গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে, আর থাকার পক্ষে ছিল বাকি ৪৮ শতাংশ ভোট। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেক্সিট হয়ে যায় নি। এই বিচ্ছেদ ঘটার কথা  রয়েছে আগামী ২৯শে মার্চ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ফের গুগলকে বড় অঙ্কের জরিমানা

সিরাজগঞ্জে ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারের লাশ উদ্ধার

নিয়োগ পেলেন ১ হাজার ২২১ কর্মকর্তা

চট্রগ্রামকে অস্থিতিশীল না করতে শিক্ষার্থীদের ডিসির অনুরোধ

মজা করতে গিয়ে বিপত্তি (ভিডিও)

সিরাজগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩, আহত ২০

ঢাবিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে মারধরের প্রতিবাদে আরেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর অবস্থান কর্মসূচি

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

ময়মনসিংহে দুই সহোদর হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদন্ড

ঘাতক বাসের চালক ৭ দিনের রিমান্ডে

আবরারের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি সফল, পরিবারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

আশ্বাসের জবাবে শিক্ষার্থীরা বললেন ‘ভুয়া ভুয়া’

শাহবাগ অবরোধ ঢাবি শিক্ষার্থীদের, বিভিন্ন সড়ক বন্ধ

রামপুরা ব্রিজ এলাকা অবরোধ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বসুন্ধরা এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ (ভিডিও)