পাকুন্দিয়ায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত কলা চাষ

বাংলারজমিন

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) থেকে | ১৩ মার্চ ২০১৯, বুধবার
পাকুন্দিয়া উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োজন হয় না, পোকা-মাকড় আক্রমণ করতে পারে না। ফলে রোগ ও বিষমুক্ত থাকায় কলা উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতবছর উপজেলার আঙ্গিয়াদী গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন ও ফজলু মিয়া এবং পার্শ্ববর্তী খামা গ্রামের কৃষক রাজ্জাক মিয়া প্রথমে তিন বিঘা জমিতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ শুরু করেন। এ পদ্ধতিতে তারা ব্যাপক সফলতা পান। তাদের এ সফলতা দেখে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের মাঝে এ পদ্ধতিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ কারণে কলাচাষির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের জমিগুলোতে সারি সারি কলা গাছ রোপণ করা হয়েছে।
গাছগুলোতে ঝুলছে বিশেষ ধরনের পলিথিন ব্যাগ। এ পলিথিন ব্যাগ দিয়েই মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কলার কাদি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কলার প্রধান শত্রু হলো বিটল পোকা। পোকাটি দেখতে আকারে ছোট, গায়ের রং বাদামি ও শক্ত। এদের পাগুলো কাঁটাযুক্ত। কলা গাছে যখন মোচা বের হতে থাকে তখনই মোচাগুলোতে বিটল পোকা আক্রমণ করে থাকে। এ সময় ওরা কলার ফুলের রস চুষে খেয়ে ফেলে। এতে অধিকাংশ কলা আকারে চিকন ও ছোট হয়ে যায়। পাশাপাশি কলার ফলনও কমে যায়। এছাড়াও বিটল পোকা তার কাঁটাযুক্ত পায়ে যখন অপরিপক্ক কলার ওপর হাঁটাহাঁটি করে তখন তার পায়ের আঘাতে কলার গায়ে দাগ পড়ে যায়। দাগগুলো দেখতে অনেকটা বসন্ত রোগের দাগের মতো। কলা যখন বড় হতে থাকে দাগগুলোও সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে। এজন্য কলাগুলোকে দেখতে খুবই বিশ্রী দেখায়। ফলে বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া যায় না। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে ওই বিটল পোকা আর আক্রমণ করতে পারে না। ফলে কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। এতে কলা উৎপাদনে কৃষকের খরচ কমে যায়। কৃষক বাজারে দামও ভালো পান। লাভও ভালো হয়। কলা থাকে নিরাপদ ও বিষমুক্ত।
আঙ্গিয়াদী গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, কলার আকার বড় ও রং ফর্সা করতে এবং পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আগে কলায় প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করতাম। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করায় কলায় আর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে কলা উৎপাদন করলে বিষমুক্ত কলার পাশাপাশি মানুষ রোগ বালাই থেকে রক্ষা পাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল হাসান আলামিন বলেন, এ উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ দিন দিন জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এ পদ্ধতিতে কলা চাষে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। ফলে কৃষকের খরচ কম হয়। এতে কৃষক লাভবান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ফের গুগলকে বড় অঙ্কের জরিমানা

সিরাজগঞ্জে ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারের লাশ উদ্ধার

নিয়োগ পেলেন ১ হাজার ২২১ কর্মকর্তা

চট্রগ্রামকে অস্থিতিশীল না করতে শিক্ষার্থীদের ডিসির অনুরোধ

মজা করতে গিয়ে বিপত্তি (ভিডিও)

সিরাজগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩, আহত ২০

ঢাবিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে মারধরের প্রতিবাদে আরেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর অবস্থান কর্মসূচি

ময়মনসিংহে দুই সহোদর হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদন্ড

ঘাতক বাসের চালক ৭ দিনের রিমান্ডে

আবরারের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি সফল, পরিবারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

আশ্বাসের জবাবে শিক্ষার্থীরা বললেন ‘ভুয়া ভুয়া’

শাহবাগ অবরোধ ঢাবি শিক্ষার্থীদের, বিভিন্ন সড়ক বন্ধ

রামপুরা ব্রিজ এলাকা অবরোধ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বসুন্ধরা এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ (ভিডিও)

নিরাপদ সড়ক: কতটা বিপজ্জনক বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাট