জাবির স্কুল এন্ড কলেজকে ঘিরে সক্রিয় কিশোর গ্যাং

শিক্ষাঙ্গন

জাবি প্রতিনিধি | ১ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:১৮
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত স্কুল এন্ড কলেজকে ঘিরে অন্তত তিনটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোটখাটো বিষয়ে তারা জড়িয়ে পড়ছে বিবাদে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা কলাবাগান কেন্দ্রিক সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সাথে আমবাগান কেন্দ্রিক গ্যাং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এই গ্যাং কালচারের বিষয় নজরে আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা কলাবাগান,আমবাগান ও রাঙামাটি কেন্দ্রিক অন্তত তিনটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে স্কুল এন্ড কলেজকে ঘিরে। যাদের সবাই জাহাঙ্গীরনগর স্কুল এন্ড কলেজের  এসএসসি পরীক্ষার্থী ও একাদশ বর্ষের ছাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কলাবাগান এলাকায় সক্রিয় সবচেয়ে বড় গ্যাং। এই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব্ েরয়েছে সবুজ ইসলাম বাবু, আবুু সুফিয়ান আকাশ,উজ্জ্বল সিয়াম,মোঃ রবিন,কামরুল হাসান রনি। এরা নিজেদের ‘ডিফারেন্ট বয়েজ’ নামে পরিচয় দিলেও গ্রুপের ছেলেরা জিআই পাইপ নিয়ে ঘুরে বলে এরা ‘জিআই পাইপ’ গ্রুপ নামে পরিচিত।  এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীর সন্তান।

দ্বিতীয় বড় গ্যাংটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগান এলাকা কেন্দ্রিক। এই গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছে ফারভিদ মিরাজ নামে এক কিশোর।
সে স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ছেলে। এই গ্রুপে আরও রয়েছে ইশতিয়াক আহমেদ রুদ্র,মোতাহের হোসেন তাসিম, সালমান হোসেন রাতিন, রাকিব হোসেন, শারাফ শাফিন ইমন প্রমুখ।
২০১৫ সালে সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন সময়ে কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে তারা। মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে বাইক শোডাউন করে এই গ্যাংটি। এই গ্যাং মূলত আমবাগান কেন্দ্রিক হলেও গ্যাংয়ের রাঙামাটি এলাকার সদস্যদের লিড দেয় হৃদয় নামে আরেক কিশোর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙামাটি এলাকায় সক্রিয় আরেকটি গ্যাং। এই গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছে সজীব আহমেদ,আজীজ আহমেদ,রাহাত খান,রাজীব হোসেন অপি,মেহেদি হাসান রাজা। এর মধ্যে আজিজ পাথালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও রাহাত খান পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক। রাহাত ছাড়া সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীর ছেলে। রাহাতের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই গ্যাংয়ের সাথে জাবি ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী আশরাফুল ইসলাম দ্বীপের ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। দ্বীপকে গত ডিসেম্বরে ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার কারণে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এই তিন গ্যাং গত একবছরে অন্তত ৬-৭ টি বড় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের মার্চে  কলবাাগানের আবু সুফিয়ান কে সিনিয়র হিসেবে সম্মান না দেওয়ার কথিত কারণে শান্ত সরকার নামে এক ছাত্রকে কলাবাগানের ছেলেরা রড়,জিআই পাইপ দিয়ে জগম করে। পরে শান্তকে আশংকাজনক অবস্থায় স্কুল কলেজের পেছনের জঙ্গলে ফেলে চলে যায়। এই ঘটনায় সবুজ ইসলাম বাবু,উজ্জ্বল সিয়াম,আবু সুফিয়ানসহ ৬জন জড়িত থাকার তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিস সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনার দিন তাদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা অফিস জিআই পাইপ ও ইয়াবা খাওয়ার কয়েন ও ফ্রয়েল পেপার উদ্ধার করে।
এই ঘটনার পর ২৬ এপ্রিল আরেকটি মারামারি ঘটনায় শহীদ রফিক-জাব্বার হলের মালি আবদুল ওহাবের ছেলে কাউছার উদ্দীন,শেখ হাসিনা হলের ক্লিনার রেজিয়া বেগমের ছেলে সবুজ ইসলাম বাবু,কামাল উদ্দীন হলের কর্মচারী নজরুল ইসলামের ছেলে নাজিরুল ইসলাম,আল বেরুনী হলের গার্ড খোরশেদ আলমের ছেলে আল আমিন হোসেন,মওলানা ভাসানী হলের গার্ড জামশেদ আলীর ছেলে সোহলে রানাকে তাদের অভিভাবক নিরাপত্তা অফিস থেকে মুচলেকা দিয়ে নিয়ে যায়। এরা সবাই কলাবাগানের গ্যাংয়ের সদস্য।
অন্যদিকে আমাবাগানের ছেলেরা বাইরে থেকে কেউ কলেজ এলাকায় ঘুরতে এলে,ঠিকঠাক মতো  তাদের ম্যানার না মানলে,তাদের সামনে সিগারেট খাওয়াসহ তাদের কথিত প্রেমিকার দিকে তাকালে যে  কাউকে যেকোন সময় ধরে মারধর করে। এক ভুক্তভোগী তরুণ জানান, স্কুল থেকে ছোট বোনকে নিতে এসে তিনি নিচে দাড়িয়েছিলেন। তখন কিছু ছেলে এসে এই এলাকায় কেন এসেছি,কথা বলার সময় হাত নড়ছে কেন,মুখে মুখে কথা বলছি কেন এসব কথা বলে তাকে বিনা কারণে মারধর করে কলাবাগানের ছেলেরা।
সম্প্রতি আমিন মডেল স্কুলের দুই ছেলে জাবি স্কুলের আদ্রিতা নামে এক ছাত্রীকে নিয়ে স্কুল এলাকায় ঘুরে বেড়াছিলো। সে সময় তাদেরকে আমবাগানের ছেলেরা লাঞ্ছিত করে বলে কলাবাগানের ছেলেদের কাছে অভিযোগ করে আদ্রিতা। এই ঘটনার জেরে ২৯ জানুয়ারি কলাবাগানের ছেলেদের সাথে আমাবাগানের ছেলেদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংষর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে আমবাগানের মিরাজকে ৬ মাসের বহিষ্কার  করা হয়। সেই সাথে আদ্রিতাসহ দুই গ্যাংয়ের ছয়জনকে স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ শোকজ করে।          
জাবি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল জলিল ভূঞা এসব বিষয়ে জানান,এই ধরনের দলে উপদলে ভাগ হয়ে মারামারির কথা শুনছি আমি। কিন্তু এই গ্যাং মূলত বাইর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়,তাদের পেছনে এলাকার সিনিয়ররা আছে তাই অ্যাকশনে যেতে পারি না।
 যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল হাসান বলেন,কোমলমতি কিশোররা এই ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া খুবই দুঃখজনক। এই কিশোরদের পরিবার,সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি আরোপ করা জরুরী।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রিফাতের খুনীদের গ্রেপ্তারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: কাদের

রাঙামাটিতে জেএসএস’র দু’গ্রুপের গুলিবিনিময়, সংস্কারপন্থী নেতা নিখোঁজ

হত্যাকারীরা যেন দেশ ছাড়তে না পারে, আইজিপিকে সতর্ক থাকতে বললেন হাইকোর্ট

একশ্রেণির মানুষের উন্নয়নে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: সিপিডি

ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের সামনে থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার

রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

আমরণ অনশনের ঘোষণা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই নাগরিকত্ব দিতে হবে- জাতিসংঘের তদন্তকারী

ইমরান বিরোধী আন্দোলন, নেই জামায়াতে ইসলামি

দেশের জনগণ তো এমন ছিল না, মন্তব্য হাইকোর্টের

লাঠিসোটা ও পচা ডিম নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধদের অবস্থান, হঠাৎ আগুন

মারকেল তখন কাঁপছিলেন

রিফাতের দুই হত্যাকারীর যত অপকর্ম

ইরানের জবাব হবে কড়া

নতুন ২ বিয়ে, পিতার বিরুদ্ধে কন্যার মামলা

রণদা প্রসাদ হত্যায় টাঙ্গাইলের মাহবুবুরের ফাঁসি