মৌলভীবাজারে একটি আলোচিত বিয়ে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৯
সাধারণ একটি বিয়ের অনুষ্ঠান। কিন্তু এটি এখন অন্যরকম আলোচনায় গোটা মৌলভীবাজার জুড়ে। রাজনৈতিক অঙ্গনের ভিন্ন মত ও পথযাত্রীদের এক কাতারে আনা বিয়ের অনুষ্ঠানটি সবার মুখে মুখে। বিপরীতমুখী নেতৃত্ব সেদিন এক টেবিলে বসে আপ্যায়ন করেছেন, খোশগল্পে মেতেছেন। আর তাইতো অনুষ্ঠানে ধারণ করা স্টিল ক্যামেরার ছবি ও সেলফিগুলো নেট দুনিয়ায় ছড়িয়েছে মুহূর্তে।

অনেকে প্রশংসা করেছেন, কেউবা বাঁকা চোখে দেখার চেষ্টা করেছেন, সে মতেই কমেন্ট করেছেন। রাজনীতিতে ভিন্নমতাবলম্বীদের সামাজিক অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে উপস্থিতি নতুন ঘটনা নয়। রাজনৈতিক সম্প্রীতির উর্বর ভূমি সিলেটে এমনটা হরহামেশাই ঘটতো। এক সময় এটাকে সিলেটী ঐতিহ্যে বা রেওয়াজের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের নানা ঘটনা এবং জাতীয় রাজনীতির ‘জটিল’ সমীকরণে সিলেটেও এটি কমে আসছিল। মৌলভীবাজার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে শুক্রবারের আয়োজন লুপ্ত হওয়ার পথে থাকা সেই ‘রেওয়াজ’ বা ‘ঐতিহ্য’কে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। আয়োজক এবং অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের  ভাষ্য, ওই বিয়ের অনুষ্ঠানটি ছিল নানা কারণে আলোচিত।

কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে পরস্পরবিরোধী নেতৃবৃন্দের এমন উজ্জ্বল উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে মৌলভীবাজারে এটিই প্রথম, বিশেষ করে ৩০শে ডিসেম্বরের আলোচিত নির্বাচনের পর। বরযাত্রী হিসেবে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচিত এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নেছার আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফইজুল করিম ময়ূন, সহ-সভাপতি এমএ মুকিত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, জামায়াত, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্র্মী এবং সমর্থকরাও অংশ নেন।

সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, সাবেক এক অতিরিক্ত সচিব, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন। মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শাহ আবদুল ওয়াদুদের কন্যা তানজিনা তাবাস্‌সুম হিয়াকে পাত্রস্থ করার আয়োজন ছিল এটি। বর সিলেটের প্রাক্তন সিভিল সার্জন খ্যাতিমান চিকিৎসক আবু জাফর মাহবুব আহমেদের আমেরিকা প্রবাসী পুত্র মাহরুফ আহমেদ জাকি। আয়োজন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর জাকি সুলতান মনসুরের আপন ভাতিজা এবং সিলেটের নাসিম হোসাইনের ভাগিনা।   কন্যাপক্ষেরও সামাজিক এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ বেশ পুরনো । এ কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক ফ্লেবার পেয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

FEROZ

২০১৯-০২-২৪ ১০:০১:৪৪

খুব ভালো লেগেছে বিষয়টি ।

আপনার মতামত দিন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে বামভোট নাকি মেরুকরণের রাজনীতি

মোদিকে থামাও

হিমালয়ান ভায়াগ্রা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আটকে গেলো হাইকোর্টে

কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপন সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক : মওদুদ

ভোট গণনায় কারচুপি ঠেকাতে ইসি’র দ্বারস্থ মোদি বিরোধী জোট

প্রেমিকার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ উদ্ধার

ভারতে বিরোধীদের মধ্যে অস্থিরতা!

কুষ্টিয়ায় ধর্ষণ মামলায় প্রধান শিক্ষকের যাবজ্জীবন

সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবিতে নাটোরে বিএনপির স্মারকলিপি

সারাদেশের পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের

গাজীপুর সিটির ১৪ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্র বৈধ

হুয়াওয়ের ওপরকার বিধিনিষেধ শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

১০ গ্রামের মানুষের ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো

দেশে ফিরেছেন ভূমধ্যসাগরে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১৫ বাংলাদেশি