চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সিলেটে মাঠে ৫ বিদ্রোহী আওয়ামী লীগে দ্বিধাবিভক্তি

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৯
বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় সিলেটের পাঁচ উপজেলার নৌকার প্রার্থীরা। রাজনীতির চেয়ে এলাকাভিত্তিক ভোটের হিসাব-নিকাশ শুরু হওয়ায়  নৌকার প্রার্থীরা এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছতে পারেন নি। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিভক্তি। পাশাপাশি জেলাপর্যায়ের নেতারাও বিদ্রোহী নিয়ে কোনো কথা বলছেন না। তারা এখনো ভোটের মাঠ পর্যবেক্ষণ করছেন। সিলেট সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ। সিলেটের পরিচিত এ রাজনীতিবিদ এবার বিদ্রোহী অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিরাজীকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই মাঠে সক্রিয় হয়েছেন অ্যাডভোকেট সিরাজী। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের একাংশও মাঠে কাজ করছে।
আশফাক আহমদ বিগত ১০ বছরের শাসনে সিলেটে অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু এসব উন্নয়ন কাজে দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত না করার কারণে তার প্রতি ক্ষোভ বেড়েছে। সিলেট সদর উপজেলা নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু রফিক শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হননি।

কিন্তু রফিকের ঘনিষ্ঠজন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিরাজী মাঠ ছাড়েন নি। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে নির্বাচনে সক্রিয় রয়েছেন। সিরাজীর সঙ্গে সুজাত আলী রফিক ছাড়াও জেলা পরিষদ সদস্য মো. শাহ নুরসহ কয়েকজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাঠে রয়েছেন। সিরাজীর বাড়ি সদর উপজেলায় হওয়ার কারণে টুকেরবাজার, কান্দিগাঁও, হাটখোলা, মোগলগাঁও ও জালালাবাদ ইউনিয়নে তার আধিপত্য রয়েছে। তবে, আওয়ামী লীগের একাংশ দূরত্ব কমিয়ে তারা একক প্রার্থী রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম পাঁচ বিদ্রোহীর মুখোমুখি। এর মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল বাছিরের ছেলে হাজী শামীম আহমদ। নির্বাচনী মাঠে শামীমের ডামি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন তার পিতা আলহাজ আব্দুল বাছির ও শামীমের স্ত্রী জরিনা বেগম। ইয়াকুব আলীসহ আরো দুইজন প্রার্থী হিসেবে থাকছেন। কোম্পানীগঞ্জে শামীমের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এককভাবে দলীয় ভোট পাচ্ছেন না। পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়াও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। শামীম আহমদ জানিয়েছেন, সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কোম্পানীগঞ্জের মানুষের সুখে দুঃখে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ কারণে তিনি প্রথমে নৌকা চান। কিন্তু প্রতীক না পেয়ে মানুষের ভালোবাসার উপর ভরসা রেখে প্রার্থী হয়েছেন।

ভোটাররা তাকে হতাশ করবে না বলে জানান তিনি। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এবার নিজের এলাকা গোয়াইনঘাটে এসেছিলেন। সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও তিনি নৌকা পান নি। এরপর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। উপজেলা নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হওয়ার পর তিনি নৌকার মনোনয়ন চান। এখানেও বঞ্চিত হন তিনি। নৌকার প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল। তবে, মাঠ ছাড়েন নি ফারুক আহমদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফারুকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারাও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

এদিকে, জৈন্তাপুরে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে জমে উঠেছে নির্বাচন। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী। তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল আহমদ। কামাল আহমদ দলীয় ভোটের চেয়ে এলাকাভিত্তিক ভোট টানার চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন। কামালের এলাকার বাসিন্দা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন এবার প্রার্থী না হওয়ায় কামাল আহমদের পক্ষে তার নিজ এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা মুখোমুখি হওয়ার কারণে দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে লিয়াকত আলী জানিয়েছেন, এই উপজেলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে। এ কারণে নৌকার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।  জৈন্তাপুরকে আলোকিত এলাকা গড়ে তুলতে তিনি কাজ করবেন বলে জানান।

কানাইঘাটে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা আলহাজ আব্দুল মোমিন চৌধুরী। তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বিগত ১০ বছর ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। দুইবারই তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে যান। এ কারণে এবারের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পান তিনি। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মোস্তাক আহমদ পলাশ। তিনি বিগত ১০ বছর ধরে কানাইঘাটের রাজনীতিসহ সরকারের নানা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। পলাশের পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা সক্রিয় রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোমিন চৌধুরীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন মোস্তাক আহমদ পলাশ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

পর্নো তারকা মিয়া খলিফার পক্ষ নিলেন নাইজেরিয়ার মিউজিক মুঘল

উত্তাল সমুদ্রে ১৩০০ যাত্রী নিয়ে জাহাজের বিপদসংকেত, উদ্ধারে ৫ হেলিকপ্টার ও কয়েকটি জাহাজ

সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে বাস থেকে ফেলে ‘হত্যা’

প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব নুরের আপত্তি

যারা ভয় পান তারা দায়িত্ব ছেড়ে দেন

ঢাকায় গাড়ি চোরের ৫০ সিন্ডিকেট

গণহত্যা বিষয়ক জাতিসংঘ দূত ঢাকায়

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে নানা জল্পনা

তৃতীয় ধাপের ১১৭ উপজেলায় ভোট আগামীকাল

স্বর্ণ আমদানির দুয়ার খুলছে

দেনমোহরের দাবিতে বাংলাদেশে ফিলিপাইনের নারী

দু’দশকে বন্ধ হয়েছে এক হাজারের বেশি সিনেমা হল

ঢাকায় সড়ক পারাপারে বিশৃঙ্খলা কমছে না

শীর্ষ আলেমদের জন্য দেহরক্ষী চাইলেন আল্লামা শফী

যারা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না তারা কীভাবে গণতন্ত্রের কথা বলে

চিকিৎসা নিতে গিয়ে আটক ছিনতাইকারী