চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

শেষের পাতা

বাংলারজমিন ডেস্ক | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৪
চার জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে ২ জন, খুলনা, কুমিল্লার তিতাস  ও ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ জন রয়েছে। শুক্রবার রাতে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-   

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, টেকনাফে বিজিবি ও র‌্যাবের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইয়াবা কারবারি ও রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে টেকনাফের দমদমিয়া ও সাবরাং কাটাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।  নিহত ইয়াবা কারবারি বেল্লাল হোসেন  (২৫) লক্ষ্মীপুর সদর থানার জিএম হাট শাকচর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে আর অপর নিহত ডাকাত নুরুল আলম (৩৮) টেকনাফের হ্নীলা মুছনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা মৃত মুহাম্মদ হোসেন ওরফে লাল বুইজ্জার ছেলে এবং আনসার কমান্ডার আলী হোসেন হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি।  

শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার দমদমিয়া ১৪নং ব্রিজ সংলগ্ন বেত বাগান এলাকায় র‌্যাব-১৫ এর টেকনাফ ক্যাম্পের কমান্ডার লে. মির্জা শাহেদ (পিপিএম, বার) বিএনএক্স-এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দলের সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
র‌্যাবের গুলিবর্ষণে ডাকাত দল পিছু হটে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুটি বিদেশি পিস্তল, ১৩ রাউন্ড বুলেটসহ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের এইচ ব্লকের এমআরসি নং-৩৪৮৮১, শেড নং-১২৩০, ৬নং রোমের বাসিন্দা ডাকাত নুরুল আলম (৩০)-এর মৃতদেহ উদ্ধার করে। লেদা রোহিঙ্গা বস্তির সভাপতি ও নিহত নুর আলম ডাকাতের মামা মাস্টার আব্দুল মতলব লাশ সনাক্ত করেন।

অপরদিকে, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)্থর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আছাদুদ-জামান চৌধুরী জানান, ২১শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সদস্যরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মরিচ্যা চেকপোস্ট থেকে বেল্লাল হোসেনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ২২শে ফেব্রুয়ারি ভোররাতে সাবরাং ইউপির কাটাবুনিয়া এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)র নায়েক হাবিল উদ্দিন এবং কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)র নায়েব সুবেদার ওহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে যৌথ টহলদল তাকে নিয়ে উল্লিখিত এলাকায় গিয়ে ওত পেতে থাকে। ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে কাটাবুনিয়া এলাকায় একদল ব্যক্তিকে দেখে যৌথ টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় চোরাকারবারির টহল দলের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এ সময় বিজিবির যৌথ টহল দল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গুলির শব্দ থামার পর ভোরের আলোতে যৌথ টহলদলের সদস্যরা এলাকা তল্লাশি করে বেল্লাল হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৯ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলা করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, কুমিল্লার তিতাসে ডিবি ও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মো. আল-আমিন (৩৮) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিতাস উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, ৫ রাউন্ড কার্তুজসহ একটি এলজি ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আল-আমিন ওই উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মাঈনুদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় ডিবির ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা, ডিবির এসআই সহিদুল ইসলামসহ ডিবির ৬ সদস্য আহত হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের রিয়াজ ট্রেড-এর ৫ জন সেলসম্যান সিএনজি অটোরিকশাযোগে বৃহস্পতিবার সকালে টাকা নিয়ে হোমনা যাওয়ার পথে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের দড়িকান্দি সেতু অতিক্রম করার সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল ছিনতাইকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় অস্ত্রের মুখে তাদের কাছ থেকে বিকাশ ডিলারের ৫৮ লাখ টাকা লুটে নেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের আল আমিন ও অমর নম নামের ২ ডাকাত সদস্যকে ১৫ লাখ টাকাসহ আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তদন্তে নামেন ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম পিপিএম। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারকৃত আল-আমিন ও অমর নমকে সঙ্গে নিয়ে জেলা ডিবি পুলিশ ও তিতাস থানা পুলিশ অবশিষ্ট টাকা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে। রাত পৌনে ৪টার দিকে কুমিল্লা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে ডিবির এসআই শহীদুল ইসলাম ও ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ হোসেনসহ একটি টিম এবং থানা পুলিশের পৃথক আরও একটি টিম দড়িকান্দি নামক এলাকায় পৌঁছলে একদল ডাকাত গাড়িতে হামলা চালিয়ে আটককৃত ডাকাত আল-আমিন ও অমর নমকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায় ও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে থানা ও ডিবি পুলিশ গুলি ছুড়লে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির এসআই শহীদুল ইসলাম জানান, ডাকাত দলের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের সময় ডাকাতদের একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আল-আমিনের বুকে লাগে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গ্রেপ্তাকৃত অপর ডাকাত অমর নম শুক্রবার বিকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে: জানান, খুলনায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ (৩৫) নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত তিনটা ২০ মিনিটের দিকে নগরীর নিরালা কবরস্থান সংলগ্ন দীঘির পাড় এলাকায় এ বন্দুকযদ্ধের ঘটনাটি ঘটে। মাসুদ মহানগরীর তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। নিহত মাদক ব্যবসায়ী মাসুদ রানা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার আবদুল হকের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, ছোরা, চাপাতি, ১০০ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির ৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ জানতে পারে নিরালা আবাসিকের দীঘিরপাড় এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দু’পক্ষের গোলাগুলিতে মাদক ব্যবসায়ী মাসুদ রানা গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে গুলিবিদ্ধ মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মাসুদ রানার বিরুদ্ধে মাদকের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানান কেএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু।
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ থেকে জানান, ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পাইপগান একশত গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১টার দিকে শহরের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ মাঠে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, ডিবির দুটি টিম ওসি শাহ কামাল আকন্দ এবং পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাতে শহরে অভিযান চালান। গোপন সূত্রে খবর পায়, শহরের পুরাতন ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হোমিও মেডিকেল কলেজ মাঠে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদক ক্রয়-বিক্রয় করছে- এ সংবাদে ডিবির দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছা মাত্রই মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ও ইটপাটকেল মারতে  থাকে। এতে দুজন কনস্টেবল আহত হয়। পুলিশ সরকারি সম্পদ ও আত্মরক্ষার্থে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায় বলে ওসি শাহ কামাল আকন্দ দাবি করেন।


পরে ঘটনাস্থল থেকে আ. রশিদ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১টি পাইপগান ও ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ওসি আরো জানান, আহত মাদক ব্যবসায়ীকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে কর্তব্যরত ডাক্তারতাকে মৃত ঘোষণা করেন।  তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সহ ৭ এর অধিক মামলা আছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

পর্নো তারকা মিয়া খলিফার পক্ষ নিলেন নাইজেরিয়ার মিউজিক মুঘল

উত্তাল সমুদ্রে ১৩০০ যাত্রী নিয়ে জাহাজের বিপদসংকেত, উদ্ধারে ৫ হেলিকপ্টার ও কয়েকটি জাহাজ

সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে বাস থেকে ফেলে ‘হত্যা’

প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব নুরের আপত্তি

যারা ভয় পান তারা দায়িত্ব ছেড়ে দেন

ঢাকায় গাড়ি চোরের ৫০ সিন্ডিকেট

গণহত্যা বিষয়ক জাতিসংঘ দূত ঢাকায়

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে নানা জল্পনা

তৃতীয় ধাপের ১১৭ উপজেলায় ভোট আগামীকাল

স্বর্ণ আমদানির দুয়ার খুলছে

দেনমোহরের দাবিতে বাংলাদেশে ফিলিপাইনের নারী

দু’দশকে বন্ধ হয়েছে এক হাজারের বেশি সিনেমা হল

ঢাকায় সড়ক পারাপারে বিশৃঙ্খলা কমছে না

শীর্ষ আলেমদের জন্য দেহরক্ষী চাইলেন আল্লামা শফী

যারা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না তারা কীভাবে গণতন্ত্রের কথা বলে

চিকিৎসা নিতে গিয়ে আটক ছিনতাইকারী