দুর্ঘটনা লেগেই আছে

চট্টগ্রামেও আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

এক্সক্লুসিভ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৫
চট্টগ্রামেও আবাসিক এলাকাগুলোতে বাড়ছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, কোচিং সেন্টার, বিউটি পার্লার, গার্মেন্ট, বায়িং হাউজ, গেস্ট হাউজ, ছাত্রী হোস্টেল ও এনজিও প্রতিষ্ঠান বেশি।

২০১৩-২০১৫ সালের শেষের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও, মোহাম্মদপুর, পাঁচলাইশ, নাসিরাবাদ, কাতালগঞ্জ ও মৌসুমি আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গুদাম ও হাসপাতালের যন্ত্র থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

একাধিক নোটিশ পেয়েও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে না নেয়ায় ২০১৫ সালের শেষের দিকে কয়েকটি আবাসিক এলাকায় অভিযানও চালায় সিডিএ। কিন্তু কোনো এক রহস্যজনক কারণে ২০১৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোনো অভিযান চালায়নি সিডিএ।

বুধবার রাতে রাজধানীর চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর চট্টগ্রাম মহানগরীর আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি আবারো সামনে চলে আসে। ফলে এ নিয়ে আবারো নড়েচড়ে বসে সিডিএ।
সিডিএর ইমারত নির্মাণ কমিটি-১-এর সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. মনজুর হাসান বলেন, চট্টগ্রামের আবাসিক এলাকাসমূহে এমন কোনো ভবন নেই যেখানে নিচের ফ্লোরগুলোতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নেই।
তার উপর বসবাস করছে একের পর এক পরিবার। যারা সম্পূর্ণ মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি জানান, আবাসিক এলাকাসমূহের ভবনগুলোর পার্কিংয়ে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও কোচিং সেন্টারের গাড়িগুলোতে যেমন গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। তেমনি এনজিও কার্যালয়, বায়িং হাউজ, গেস্ট হাউজ, ছাত্রী হোস্টেলসমূহে সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোর যন্ত্র চালনায় বিদ্যুতের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার চলছে। এসব ভবনে গাড়ির গ্যারেজ, মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশার কারখানা পর্যন্ত রয়েছে। যেগুলো থেকে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাকলিয়া আবাসিক এলাকার একটি ভবনে গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দাদি-নাতিসহ তিনজন নিহত হয়। ২০১৭ সালে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি ভবনে আগুন লেগে দগ্ধ হয়ে দু’জন নিহত হয়। ২০১৪ সালে নগরীর পাহাড়তলি থানার এ কে খান আবাসিক এলাকায় তুলার গুদামের আগুনে একটি ভবনের চার পরিবারের ৭ জন দগ্ধ হয়। ২০১৩ সালে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটে। এভাবে বছরের পর বছর দুর্ঘটনায় প্রাণহানি লেগেই আছে।  

এসব ঘটনায় ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ জারি করে সিডিএ কর্তৃপক্ষ। ওই সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে চান্দগাঁও, মোহাম্মদপুর, মৌসুমি ও কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় অভিযানও চালায়। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে আর কোনো অভিযান চালায়নি সিডিএ। এরপর থেকে নতুন করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাড়তে থাকে এসব আবাসিক এলাকায়।      

সরজমিনে দেখা যায়, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার এক নম্বর রোডে একটি প্লটে তিনতলা ভবনজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে একটি স্কুল। একই গলিতে ২৪/এ নম্বর প্লট ও তিন নম্বর রোডের ২২/এ নম্বর প্লটের দুটি দোতলা ভবনেও চলছে ওই স্কুলের কার্যক্রম। এক নম্বর রোডের ১/সি-এর তিনতলা ভবনে চলছে হাসপাতাল, স্কুল ও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার। একই গলির ১/ই প্লটে পরিচালিত হচ্ছে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল।

দুই নম্বর রোডেও বিভিন্ন ভবনে পরিচালিত হচ্ছে স্কুল, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, এনজিও, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, হাসপাতালসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

জানা গেছে, কাতালগঞ্জ আবাসিক প্রকল্প সিডিএ বাস্তবায়িত প্রথম আবাসিক প্রকল্প। এ প্রকল্পে প্লটের সংখ্যা ৫৮টি। সমপূর্ণ আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিলেও এখানে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে ২৫-৩০টি ভবনে।

আবাসন হিসেবে গড়ে ওঠা সিডিএর প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প চান্দগাঁও আবাসিক প্রকল্প। এ আবাসিক এলাকার ৭৫৯টি ভবনের মধ্যে শতাধিক ভবনের পুরোটাই বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। পাঁচ শতাধিক ভবনে বাণিজ্যিক ও আবাসিক দুটোই।

পাঁচলাইশ আবাসিকে রয়েছে দুটি কমিউনিটি সেন্টার, পাঁচটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র ও হাসপাতাল এবং একটি ব্যাংকের শাখা। রয়েছে দোকানপাট।  

একইভাবে দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের প্রকল্প নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকায় ৩০টিরও বেশি ভবনে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে সিডিএ।

একই সোসাইটির আবাসিক প্রকল্প ও চট্টগ্রামের সবচেয়ে অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে খ্যাত খুলশীতেও সমপ্রতি আবাসিক ভবনগুলোয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ এলাকায় গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গেস্ট হাউজের সংখ্যা বেশি। এসব গেস্ট হাউজে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বেশি। এ ছাড়া এ এলাকায় বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, বায়িং হাউজ ও বিদেশি এনজিওর কার্যালয় রয়েছে।

একইভাবে সিডিএ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও দি চিটাগং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির উদ্যোগে গড়ে ওঠা নগরীর ২৮ আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে প্রচুর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যানজট ও শব্দ দূষণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছেন তারা।

চান্দগাঁও আবাসিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি আবু বকর চৌধুরী বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় আবাসিক এলাকায় বাইরের লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। ফলে বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ সালাম বলেন, সিডিএর অনুমোদন ছাড়া আবাসিক এলাকায় সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানই গড়ে তোলার বিধান নেই। ২০১৫ সালের ৪ঠা এপ্রিল মন্ত্রিসভায় আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কার্যক্রমের গতি বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সিরিয়ায় আইএস নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার দাবি

ভীতুদের দায়িত্ব ছাড়তে বললেন গয়েশ্বর

নরসিংদীতে স্কুলছাত্র নিহতের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

রাজাপুরে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১০

খালেদার মুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের মিছিল

আওয়ামী লীগ একুশের চেতনা বিরোধী: মির্জা ফখরুল

প্রেসিডেন্ট হতে চান ইভানকা, হোয়াইট হাউসের প্রত্যাখ্যান

শরণখোলায় ঘুমন্ত স্বামীকে হত্যাচেষ্টা

ঢাকা সহ ১৩ রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইন্ডিয়ান জেট এয়ারওয়েজ

চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ক্রাইস্টচার্চ: সন্তানের লাশ দাফন শেষে হার্র্টঅ্যাটাকে মায়ের মৃত্যু

বিজেপি দুই দফাতেও অর্ধেক আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি

২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাহী কমিটির সভা, দায়িত্ব নিলেন নুর-রাব্বানী

জম্মু ও কাশ্মীরে এবার নিষিদ্ধ জেকেএলএফ

তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন লোগোতে শুধুই তৃণমূল

বরিশাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ