সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৪৫
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, দুর্ঘটনা ও যানজট এবং সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে  দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। যারা সড়ক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কীভাবে কাজ করা যায় সে ব্যাপারে রিপোর্ট  দেবে। আগামী ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে রিপোর্ট প্রদান করতে হবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- সাবেক এলজিআইডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, ঢাকা সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, ওসমান আলী, ব্র্যাকের প্রতিনিধি, ট্রাক কাভার্ডভ্যানের দুইজন প্রতিনিধি, বিআরটিএ’র সদস্য, ডিআইজি হাইওয়ে, ডিআইজি অপারেশন, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ সদস্য ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। অন্য আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগে কাজ করবে। সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কিছু সুপারিশ এসেছে। এ ছাড়া কিছু সংশোধনের দাবিও ছিল। এ ছাড়া এই আইনের প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সঙ্গতি রাখা যায় সে ব্যাপারে আইন সংশ্লিষ্ট বিষয় খতিয়ে দেখবেন তারা। কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ভবনে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় এ দুই কমিটি গঠন করা হয়। সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দুর্ঘটনাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। গত সাত বছর ধরে আমরা দফায় দফায় এ বিষয় আলোচনা করেছি। কীভাবে সড়ক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরানো যায়। কিন্তু লক্ষ্য নিয়ে যতটা আমরা কাজ করছি, কিন্তু ততটা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তুলনামূলকভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগে অনেক ধীরগতি। আমরা আজকে অন্য কোনো বিষয় বাদ দিয়ে কীভাবে এটা বাস্তবায়ন করা যায় সেদিকে গুরুত্ব দিয়েছি। কাজের লক্ষ্য ঠিক করেছি। আমরা দুটি কমিটি করেছি। তাদের কাজের কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছি এবং সময়সীমা ঠিক করে দিয়েছি।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থার ঢাকাকে বিশ্বের মধ্যে প্রথম যানজটের শহর ঘোষণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকাল কত ধরনের কত রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এটা জানতে হবে। টিআইবি’র তো একটা রিপোর্ট বের হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বাংলাদেশকে খাটো করার জন্য, ছোট করার জন্য একটি সিন্ডিকেটও কাজ করছে।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, যদি উন্নয়নের কথা বলা হয় তাহলে বাংলাদেশে যেটা হচ্ছে সেটা শত বছরের মধ্যে নজিরবিহীন। এখন যা হচ্ছে, মেট্রোরেল, কর্ণফুলীতে টানেল হচ্ছে, আজকে ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক হচ্ছে, মেরিন ড্রাইভ হয়েছে। এটা একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই দেশে উন্নতি হয়েছে। তাই এখন আমাদের যে কাজটা হচ্ছে তা হলো সড়কে এবং পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরানো। এর আগে টার্মিনালে টার্মিনালে যে সব খুনোখুনি হতো এখন সেসব নাই। এটা অন্তত বলতে পারি। আজকের মিটিংয়ের লক্ষ্য বেশি নয়। কমিটিগুলো ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট, সুপারিশ দিলে তার ওপর আমরা কাজ করবো। আমরা সবার সহযোগিতা চাই, বিশেষজ্ঞদের মতামত চাই।

জনসংখ্যার তুলনায় ঢাকার রাস্তায় সে পরিমাণ গণপরিবহন নাই সে বিষয়ে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো সেটা মাঝখানে থমকে গেছে। মেয়র আনিসুল হক কিছু কাজ শুরু করেছিলেন। পরে আমরা দক্ষিণের মেয়রকে নিয়ে আবার কাজ শুরু করেছিলাম। কীভাবে বড় বড় বাস নামানো যায় সেটা চিন্তা করছি। বিআরটিসি’র বহরেও আরো একাধিক বাস যোগ হচ্ছে। প্রাইভেট উদ্যোগকেও আমরা উৎসাহিত করবো। প্রয়োজনে ব্যাংক লোনসহ সব ধরনের সহযোগিতা করবো।

সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরাতে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারমধ্যে বিশেষজ্ঞরা যেসব মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দায়ী করে আসছেন তাদেরও রাখা হয়েছে এবং তারা কতটুকু কাজ করতে পারবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কমিটি কাজ করুক। তারপরে দেখা যাবে। তাদের রিপোর্ট আসুক, বাস্তবায়নে যাক,তারপরে দেখা যাবে।

ঢাকা শহরে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে ও সড়কে গাড়ি বাড়ছে সে পরিমাণে সড়ক নেই এ বিষয়ে কাদের জানান, সড়ক তৈরি হচ্ছে। নতুন করে তো সড়ক তৈরি করা যাবে না। যা আছে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কীভাবে তাকে একটি শৃঙ্খলায় আনা যায়- সেটাই করা হচ্ছে। আমার বিশ্বাস এই সংকটও সকলের সমন্বিত চেষ্টায় কাটিয়ে উঠতে পারবো।

সভায় সেতুমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী, সচিব, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

z Ahmed

২০১৯-০২-১৮ ০৯:২৫:৫২

Very good. Right person right job.

আপনার মতামত দিন

মোদিকে হাসিনার ফোন

অসন্তোষ ‘কমেছে’ ২০ দলে

যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ইউএনও’র মামলা

মমতার দুর্গেও বিজেপির হানা

ফল মেনে নিয়ে পদত্যাগের ইঙ্গিত রাহুলের

রাষ্ট্র মেরামতে সুজনের ১৮ প্রস্তাব

আতঙ্কের জনপদ ‘শাহপরাণ থানা’

আঞ্জুমানের ভবন নির্মাণে সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোর প্রতি সালমান এফ রহমানের আহ্বান

‘হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন’

জমে উঠেছে ঈদ বাজার

মোদিকে বিএনপি’র অভিনন্দন

রাজশাহী বিমানবন্দরে পিস্তল ও গুলি জব্দ

গাড়ি পাচ্ছেন সংসদের উপ-সচিবরা: বাজেট ৬ কোটি টাকা

গোপন ভোটাভুটিতে নির্বাচিত হবেন শীর্ষ ৫ নেতা

কর্মকর্তাদের সতর্ক করে সব মিশন প্রধানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি

নেহরু ও ইন্দিরার পর পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদি