ডাকসু নির্বাচন

প্রার্থীর চেয়ে পরিবেশ নিয়েই আলোচনা বেশি

শেষের পাতা

মুনির হোসেন | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর চেয়ে পরিবেশ নিয়েই আলোচনা হচ্ছে বেশি। ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী ১৯শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে মনোনয়ন ফরম বিতরণ।

২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে ছাত্র সংগঠনগুলোও। নিজ নিজ পরিসরে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রচার-প্রচারণার কৌশল, নির্বাচনের সর্বশেষ পরিবেশ, প্যানেল এসবই গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৯ বছর পর মধুর ক্যান্টিনে শুরু হয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান। তবে এটা কত দিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। এদিকে আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে নিজেদের প্যানেল ঠিক করার চেয়েও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ভাবাচ্ছে একমাত্র ছাত্রলীগ ছাড়া ছাত্র সংগঠনগুলোকে।
অবশ্য ছাত্রলীগও নির্বাচনী মাঠে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো সর্বশেষ থাকবে কি না সে সংশয়ের মধ্যে রয়েছে। ছাত্রদলসহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো হলে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের অভিযোগ তুলে হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে এখনো অনড় রয়েছে। এ দাবিতে আগামীকাল পর্যন্ত প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো।

দাবি আদায় না হলে ওইদিন ভিসির কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। অবশ্য ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এমন পরিস্থিতি প্রয়োজনে ভোট বয়কটেরও ঘোষণা দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এই দাবিতে একই অবস্থানে রয়েছে ছাত্রদলও। এমন পরিস্থিতি অর্থবহ নির্বাচন নিয়েও ভাবাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ এখনো পর্যন্ত তৈরি হয়েছে বলে আমাদের মনে হয় না। মধুর ক্যান্টিনে সব ছাত্র সংগঠন বসতে পারলেও আমাদের মনে হয় এটি পরিকল্পিত। ছাত্রলীগ মধুতে ছাত্রদলকে বসতে দিয়েছে একদিকে অন্যদিকে স্লোগান দিচ্ছে ছাত্রদলের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও। এটাকে সহাবস্থান বলা যায় না। আর হলগুলোতে তো সহাবস্থানের ছিটেফোটাও নেই। সেখানে বিরোধী মতাদর্শের কাউকে পেলেই মেরে হল ছাড়া করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের অন্যতম দাবি ছিল সহাবস্থান। কিন্তু সহাবস্থান বলতে এ নয় যে, সব ছাত্র সংগঠনের মধুতে বসে চা খাওয়া। সহাবস্থান বলতে আমরা বুঝিয়েছি সব শিক্ষার্থীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, হলগুলোতে যেখানে এখনো ছাত্রলীগের বিরোধী মতাদর্শের কেউ প্রবেশ করতে পারে না।

তাহলে হলে ভোটকেন্দ্র হলে সেখানে কী অবস্থা তৈরি হতে পারে তা এখনই অনুমেয়। তাই আমরা দাবি জানিয়েছি হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র করার। হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। তাই আমরা এখনো এ দাবিতে অনড় রয়েছি। অন্যথায় আগামী ১৮ তারিখ আমাদের আল্টিমেটাম শেষ হলে আমরা ভিসি কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। সেক্ষেত্রে আমরা নির্বাচনও বয়কট করতে পারি। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী বলেন, আমরা মধুর ক্যান্টিনে যাওয়া শুরু করেছি। কিন্তু এখনো হলে যেতে পারছি না। তাই সহাবস্থানও পুরোপুরি তৈরি হয়েছে বলে আমরা মনে করি না। তবে আমরা আশাবাদী প্রশাসন হলেও মধুর ক্যান্টিনের মতো পরিবেশ তৈরি করবে। তিনি বলেন, যেখানে আমরা এখনো হলগুলোতে যেতে পারছি না, সেখানে হলে ভোটকেন্দ্র হলে কীভাবে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ থাকবে। তাই আমরা চাই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা কমিটিগুলো পুনঃগঠন করা হোক। আর নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে তিন মাস পিছিয়ে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হোক। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, হলগুলোতে বর্তমানে বিন্দুমাত্রও সহাবস্থান নেই।

এ অবস্থা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থি। তিনি বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন দেখেছি। নিজের ভোট অন্যজন দিয়ে দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে এমন কারচুপি হলে, ডাকসু তো কোনো ব্যাপারই না। বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষমতাসীনদের দখলে। যার কারণে প্রার্থীদের মধ্যেই একধরনের শঙ্কা কাজ করছে। এজন্যই আমরা বলছি, প্রশাসন যদি আমাদের বলেন, হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র করবো এবং ডাকসুকে কার্যকর করো, তাহলে সবার মাঝে একধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকতো। কিন্তু সেই উৎসাহ-উদ্দীপনা ভোটার বা প্রার্থীদের মধ্যে নেই। যার কারণে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আগ্রহের জায়গাটা অনেক কম। নুর বলেন, আমরা চাচ্ছি সকল ছাত্রসংগঠন যেন ক্যাম্পাসে সহাবস্থান করার নিশ্চয়তা গ্রহণ করে প্রশাসন। অবাদে প্রচার-প্রচারণাও যেন চালাতে পারে।

বর্তমানে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন আসছে, প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু এসব নিয়ে তেমন খুশি হওয়ার কারণ নেই। বিষয়টা অনেকটা লোক দেখানো। দুই দিন দেখে সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে বলার কোনো কারণ নাই। দেখতে হবে এই অবস্থানটা কত দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। এদিকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে খোদ ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও। তারাও এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। সংগঠনটির শীর্ষ এক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজ সংগঠনের অবস্থা নিয়ে এমনটাই জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নেতা বলেন, আসলে ডাকসু নির্বাচন সর্বশেষ হবে কি না তা নিয়ে আমাদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। তবে আমরা এখনো আশাবাদী। প্রশাসনও কী করছে,  বোঝা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে বামজোট ও ছাত্রদল হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ভোট পেছানোর দাবি করছে। বামরা ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করবে বলছে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন কিছুটা শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও বাম ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রদল ভোটকেন্দ্র বাইরে না আনলে নির্বাচন বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যদি তারা নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। যা ডাকসুর ইতিহাসকে কুলষিত করবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিউজিল্যান্ডে জাতীয় স্মরণসভা শুক্রবার

বাজিতপুর উপজেলার তিন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত

ফেসবুক লাইভে আহ্বান, পৌঁছামাত্রই গুলি

সন্ত্রাসী ব্রেনটনের আদ্যোপান্ত

সোমবার থেকে অনশনে যাচ্ছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা

বরিশালে ভোটারশূণ্য কেন্দ্র, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অলস সময়

মিরপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন, খোকসায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রত্যাহার

‘মন্ত্রিপরিষদে অভ্যুত্থান পরিকল্পনা’, তেরেসা মের বিপদসঙ্কেত!

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা

গুম-খুনের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনও জড়িত: রিজভী

সিলেটের সেই বাসচালক আটক

নৌকায় সিল, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আটক, ভোট বর্জন দুই প্রার্থীর

‘পাকিস্তানের প্রস্তাবকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়’

সিলেটের মোড়ে মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

ইভিএমেও সাড়া নেই ভোটারদের, আড়াই ঘন্টা বিকল

গাংনীতে দু’প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৭