অসহায় ব্রিজ!

বাংলারজমিন

কামাল হোসেন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) থেকে | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রোববার
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ব্রিজ নির্মাণের দেড় বছর পার হলেও দু’পাশে মাটি ভরাটসহ সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে উপজেলার ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। নাগরপুর উপজেলা সদরে আসতে মরণফাঁদ অতিক্রম করতে হচ্ছে উপজেলা সদর ইউনিয়নের আলোকদিয়া, আন্দিবাড়ি, পানান, পাইশানা ও ভাদ্রা ইউনিয়নের কোদালিয়া, সিংদাইর, খাগুরিয়াসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলোকদিয়া, আন্দিবাড়ি, পানান, পাইশানা ও ভাদ্রা ইউনিয়নের কোদালিয়া, সিংদাইর, খাগুরিয়াসহ আশপাশের ৮-১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল ব্রিজটি।

টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের ভালকুটিয়া পাকার মাথা থেকে একটি পাকা রাস্তা ও নোয়াই নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মিত হলেও দুর্ভোগ কমেনি এলাকাবাসীর। সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় তাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ব্রিজ নির্মিত হলেও তারা ব্রিজ ব্যবহার করতে পারছে না। তার উপর পায়ে হাঁটার যে রাস্তা রয়েছে সেটিও বর্ষা মৌসুমে ছয়মাস পানিতে ডুবে থাকে। উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভালকুটিয়া থেকে আলোকদিয়া যাওয়ার পথে নোয়াই নদীর উপর ৭২.৬ মিটার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মেসার্স দাস ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ বছর পর ২০১৭ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করে।
ব্রিজটি নির্মাণের পর দু’পাশে ২০০ মিটার করে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও মাটি ভরাট করা হয়নি। চলাচলের বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ব্রিজের নিচ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী। ওই এলাকার চন্দনা আক্তার জানান, আগে ব্রিজ ছিল না, তখন নৌকায় ও কাপড় ভিজিয়ে রাস্তা পার
হয়েছি, ব্রিজ নির্মাণের পরও একই অবস্থা। আলোকদিয়া গ্রামের আলম শিকদার জানান, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন করছে ব্যাপক হারে।

কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম, অবহেলা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা বর্তমান সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিষয়টির দিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া উচিত। নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলম হোসেন জানান, এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি ছিল এ ব্রিজ। কিন্তু ব্রিজ নির্মিত হলেও এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। রাস্তা না থাকায় রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত দুরূহ হয়ে পড়েছে। মাটি ভরাটের কাজ নিয়ে এলাকাবাসী ও ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জটিলতা বাধে। তারা অন্যের জমিতে বাংলা ড্রেজার লাগিয়ে বালু তুলতে গেলে জমির মালিক বাধা দেয়। এরপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাট না করেই চলে যায়। এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুর আলম বলেন, মামলা জটিলতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। আমরা নতুন করে মাটি ভরাটের জন্য টেন্ডার আহ্বান করবো। আর পাকা রাস্তা থেকে ব্রিজ পর্যন্ত একটি রাস্তার জন্য আমরা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সিরিয়ায় আইএস নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার দাবি

ভীতুদের দায়িত্ব ছাড়তে বললেন গয়েশ্বর

নরসিংদীতে স্কুলছাত্র নিহতের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

রাজাপুরে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১০

খালেদার মুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের মিছিল

আওয়ামী লীগ একুশের চেতনা বিরোধী: মির্জা ফখরুল

প্রেসিডেন্ট হতে চান ইভানকা, হোয়াইট হাউসের প্রত্যাখ্যান

শরণখোলায় ঘুমন্ত স্বামীকে হত্যাচেষ্টা

ঢাকা সহ ১৩ রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইন্ডিয়ান জেট এয়ারওয়েজ

চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ক্রাইস্টচার্চ: সন্তানের লাশ দাফন শেষে হার্র্টঅ্যাটাকে মায়ের মৃত্যু

বিজেপি দুই দফাতেও অর্ধেক আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি

২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাহী কমিটির সভা, দায়িত্ব নিলেন নুর-রাব্বানী

জম্মু ও কাশ্মীরে এবার নিষিদ্ধ জেকেএলএফ

তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন লোগোতে শুধুই তৃণমূল

বরিশাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ