গ্যাস সংকটে নাভিশ্বাস

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৪৫
গ্যাসের অভাবে কেরোসিনের চুলায় রান্না। তাঁতীবাজার এলাকা থেকে ছবিটি তুলেছেন নাসির উদ্দিন
রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আর এই কারণে নগরবাসী রান্নাবান্না নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। কিছু কিছু এলাকায় গত কয়েক মাস ধরেই এ সংকট চলছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা দিনের বেলা রান্নাবান্না করেন সিলিন্ডারের গ্যাসে। আর রাতে লাইনের গ্যাসে। কোথাও কোথাও ভোর ৬টার আগেই গ্যাস চলে যায়। কোথাও 
 দুপুরে আবার কোথাও রাতে আসে। নগরীর কোথাও গ্যাসের দেখা মিললেও দু’-তিন ঘণ্টার মধ্যে আবার চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


ফলে এক বেলা রান্না করে তিন বেলা খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকেই। অনেক গৃহিণী আবার গভীর রাতে রান্নার কাজ শেষ করে রাখেন। তীব্র গ্যাস সংকটে পাড়া-মহল্লার হোটেল থেকে অনেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। সরজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গ্রাহকদের এ দুর্ভোগের চিত্র পাওয়া গেলেও কর্তৃপক্ষ বলছে এই মুহূর্তে গ্যাসের কোনো সংকট নেই। গ্যাস না থাকার কথা না। গতকাল মিরপুরের-১ নম্বরের বিভিন্ন ব্লক, রাইনখোলা, গুদারাঘাট, দারুস সালাম, লালমাটিয়া, জনতা হাউজিং, দক্ষিণ পীরের বাগ, শেওড়াপাড়ার ইকবাল রোড, মিরপুর-১৪, তালতলা, শ্যামলী, শুক্রাবাদ, ধানমণ্ডির নর্থ সার্কুলার রোড, রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট, মতিঝিলের আরামবাগ, পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, খিলগাঁওয়ের গোড়ান, লালবাগ, আজিমপুর, কামরাঙ্গীরচর, গনকটুলী, মোহাম্মদপুর, বাড্ডার কিছু কিছু এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ, চৈতি, ওয়াপদা রোড, গোয়ালটেক এলাকায় শুধু রাতের বেলা গ্যাস পাওয়া যায় বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। এ এলাকার মানুষের এখন দিনের বেলার রান্নার ভরসা সিলিন্ডার।

মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়ার গৃহিণী জেসমিন বেগম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে পরিবারের সদস্যদেরও বাসার খাবার খেতে পারছেন না বেশ কয়েকদিন ধরে।  অনেক সময় ভোর রাতেই খাবার রান্নাবান্না করতে হয়। গ্যাস বিল তো মাস শেষে ঠিকই দিতে হচ্ছে। হাজারীবাগ বাড্ডানগর পানির ট্যাংক এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী লিজা আক্তার বলেন, গ্যাস নিয়ে এখন আমাদের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে। রাত জেগে রান্না করে রাখতে হয়। দিনের বেলায় কেরোসিন তেল দিয়ে স্টোভ জ্বালিয়ে কখনওবা সিলিন্ডারের চুলায় তা গরম করে খেতে হয়। সকাল ৭টার আগেই গ্যাস চলে যায়। পুরান ঢাকার গনকটুলী এলাকার গৃহিণী বিলকিস বেগম বলেন, গ্যাসের সমস্যার কথা বলে লাভ নেই। সকালে কোনো রকম রান্নাবান্না করতে পারলেও দুপুরের পর থেকেই চুলা জ্বলে না। লালবাগের সুবল দাসের রোডের গৃহিণী পান্না বেগম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ভোররাতে উঠে রান্নাবান্না শেষ করতে হয়। গ্যাস ২টার পর আবার আস্তে আস্তে আসে।  যা দিয়ে রান্না করা কষ্ট হয়।

মিরপুরের ডি-ব্লক ৫ নম্বর রোডের ভাড়াটিয়া মো. নূরে আলম। তার বাসায় গত একবছর ধরেই দিনের বেলা গ্যাস থাকে না। শুধু রাতের বেলা গ্যাস আসে। মাঝে মধ্যে শুক্রবার দিন দিনের বেলা গ্যাস আসলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। দিনের বেলা তিনি বাইরের খাবার কিনে আনেন। তাছাড়া গ্যাস না থাকলে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডারের ব্যবস্থা রাখছেন। মানবজমিনকে নূর আলম বলেন, বাসায় দিনে গ্যাস থাকে না। এ সমস্যা তো দীর্ঘ দিনের। কবে ঠিক হবে জানি না। আমি ক্ষুদ্র ব্যবসা করি, এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে বাইরে থেকে খাবার কেনা, তারপরে সিলিন্ডারও কিনেছি এখন। গ্যাস না পাইলেও বিল দিতে হয় প্রতি মাসে। বাড়িওয়ালা গ্যাসের সমস্যা সমাধানে কোনো ধরনের যোগাযোগ করছেন বলে জানি না। গুদারাঘাটের বাসিন্দা শাহিদা বেগম। মিরপুরের বেড়িবাঁধ ঘেঁষা এ এলাকায় দিনের বেলা গ্যাস থাকে না বলে জানান।

এ কারণে তিনি রাতেই অন্য দুই বেলার খাবার রান্না করে রাখেন। তিনি বলেন, অনেক দিন থেকে এ সমস্যা লেগে আছে। শীত আসলে গ্যাস সংকট অনেক বেড়ে যায়। তবে গরমে কিছুটা কম থাকে। তবে কখনোই সম্পূর্ণ ঠিক হয় না। মিরপুর শেওড়াপাড়ার ইকবাল রোডের বাসিন্দা রেহেনা আক্তার। তিনি জানান, তার এলাকায় গ্যাসের সমস্যা অনেক পুরনো। মেট্রোরেলের কাজ শুরু হওয়ার পরে এ সমস্যা যে শুরু হয়েছে এরপরে আর ঠিক হয়নি। ধানমণ্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা রহিমা রেখা জানান, গ্যাস না থাকায় প্রায়দিন তিনি সকালে নাস্তা পর্যন্ত তৈরি করতে পারেন না। খুব ভোরে উঠে নাস্তা তৈরি করতে হয়।

উত্তরার দক্ষিণখানের বাসিন্দা খালিদ মানবজমিনকে বলেন, দক্ষিণখান এবং উত্তরখানের অনেক স্থানেই দিনে গ্যাস থাকে না, রাতে আসে। তবে ভোরে সূর্য ওঠার আগেই তা চলে যায়। এখন এলাকার লোকজনের একমাত্র ভরসা সিলিন্ডার। তিনি জানান, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত, একদিকে মানুষ গ্যাস না পেলেও বিল দিয়ে যাচ্ছে। আবার সিলিন্ডারও কিনতে হচ্ছে- এটা কেমন কথা। বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন)  প্রকৌশলী কামরুজ্জামান  মানবজমিনকে বলেন, এখন প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাস যোগ হচ্ছে।  সংকট হওয়ার কথা নয়। চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,  কোনো এলাকা থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তা সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষা করে দেখবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রংপুরেই এরশাদের সমাধি

লক্ষাধিক বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ

যে কারণে পুঁজিবাজারে পতন থামছে না

মিন্নি গ্রেপ্তার

হাসপাতালে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়

ছুরি নিয়ে কীভাবে গেল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে

সব আদালতে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে

ঘাতকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মামলা ডিবিতে

উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে

বাসর হলো না নবদম্পতির

১১ কোম্পানির দুধে সিসা ও ক্যাডমিয়াম

চীনা ডেমু ট্রেন আর কেনা হবে না

বিচারকদের নিরাপত্তা চেয়ে রিট

আসাদকে পাল্টা জবাব আরিফের

৩ মাস পর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু

বাঁচানো গেল না সার্জেন্ট কিবরিয়াকে