কিশোরগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তি

যেভাবে সহপাঠীকে হত্যা করে তিন কিশোর

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৩
কিশোরগঞ্জে মেয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আউলিয়াপাড়া এলাকার আব্দুল গণি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান জয় (১৬) খুন হয়েছিল। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন (১৫) এবং তার দুই সহযোগী রিয়েল (১৬) ও তারেক (১৫) এই 
কিলিং মিশনে অংশ নেয়। পুলিশের অভিযানে তিন কিশোরই গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা দশম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল বারী তাঁর খাসকামরায় ১৬৪ ধারায় সাব্বির হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি গ্রহণ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আহসান হাবীব আদালতে সাব্বির হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাব্বির হোসেন তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মেহেদী হাসান জয় হত্যাকাণ্ডের বিশদ বিবরণ দিয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সাব্বির এবং অন্য দুই আসামি রিয়েল ও তারেক তিনজনকেই টঙ্গীর কিশোর সংশোধনালয়ে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আহসান হাবীব জানান, গত ৮ই জানুয়ারি সকাল সোয়া ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আউলিয়াপাড়া এলাকার আব্দুল গণি কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত মেহেদী হাসান জয় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি আতকাপাড়া গ্রামের মো. কাঞ্চন মিয়ার ছেলে। ঘটনার আগের দিন ৭ই জানুয়ারি দুপুরের দিকে আউলিয়াপাড়া এলাকায় এক মেয়েকে বাবু নামে এক তরুণের সাথে পেয়ে মেহেদী হাসান জয় বাবুকে থাপ্পড় মারে। মেরাজ নামে আরেক তরুণ এর প্রতিবাদ জানালে তাকেও থাপ্পড় মারে জয়। এ সময় সাব্বির জোরে জয়কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে জয় ক্ষিপ্ত হয়ে সাব্বিরকেও থাপ্পড় মারে। এর জের ধরে মেহেদী হাসান জয়কে ‘শায়েস্তা’ করতে পরের দিন ৮ই জানুয়ারি সকালে সাব্বির তার দুই সহযোগী রিয়েল ও তারেককে নিয়ে স্কুলে যায়। স্কুলে গিয়ে জয়কে ডেকে এনে তারা কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক এখলাস উদ্দিন তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে রিয়েলের হাতে থাকা চাকুর আঘাতে এখলাস উদ্দিনের নাকের নিচের অনেকটা অংশ কেটে যায়। রিয়েল ও তারেক দু’জনে মিলে মেহেদী হাসান জয়কে ধরে রাখে এবং সাব্বির সজোরে জয়ের বুকে ধারালো চাকু ঢুকিয়ে দিয়ে তারা দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করে। এতে ঘটনাস্থলেই জয়ের মৃত্যু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আহসান হাবীব জানান, মেহেদী হাসান জয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা মো. কাঞ্চন মিয়া বাদী হয়ে ঘটনার দিনই (৮ই জানুয়ারি) তিন কিশোর ঘাতককে আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ওইদিনই অভিযান চালিয়ে তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে গত ১৪ই জানুয়ারি বাকি দুই আসামি সাব্বির ও রিয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত ২১শে জানুয়ারি আদালত থেকে তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। গত ৭ই ফেব্রুয়ারি তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়। রিমান্ড শেষে তাদের শনিবার আদালতে পাঠালে সাব্বির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রংপুরেই এরশাদের সমাধি

লক্ষাধিক বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ

যে কারণে পুঁজিবাজারে পতন থামছে না

মিন্নি গ্রেপ্তার

হাসপাতালে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়

ছুরি নিয়ে কীভাবে গেল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে

সব আদালতে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে

ঘাতকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মামলা ডিবিতে

উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে

বাসর হলো না নবদম্পতির

১১ কোম্পানির দুধে সিসা ও ক্যাডমিয়াম

চীনা ডেমু ট্রেন আর কেনা হবে না

বিচারকদের নিরাপত্তা চেয়ে রিট

আসাদকে পাল্টা জবাব আরিফের

৩ মাস পর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু

বাঁচানো গেল না সার্জেন্ট কিবরিয়াকে