ডাকসু নির্বাচন ১১ই মার্চ

প্রথম পাতা

মুনির হোসেন | ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৮
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ২৮ বছর পর আগামী ১১ই মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির কারখানা বলে পরিচিত ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন। গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আগামী ১১ই মার্চ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের গঠনতন্ত্রের ৮(ই) ধারা অনুযায়ী ডাকসু’র সভাপতি হিসেবে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান নির্বাচনের এই তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেন। এর আগে, বিকাল সাড়ে ৩টায় এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় ভিসি অফিস সংলগ্ন লাউঞ্জে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন বিষয়ে  হল প্রাধ্যক্ষ এবং ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে ভিসি ডাকসু নির্বাচনের এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৬ই জুন। এর আগে বৃটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে ডাকসু নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন ভিসিরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী এ সংগঠন অকার্যকর থাকার কারণে বিগত ২৮ বছর ধরে সিনেটে শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে জোরালো অবস্থানে কাউকে দেখা যায়নি। ফলে ডাকসুর নির্বাচনের জোরালো দাবি ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এ দাবিতে ইতোপূর্বে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনসহ অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় সোচ্চার হলেও শাসক দলের অনাগ্রহের কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। ডাকসু নির্বাচনের দাবি করে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের হাতে মারধরেরও শিকার হয়েছিলেন অনেকে।

আদালতের রায়: ২০১৮ সালের ১৭ই জানুয়ারি ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওইদিন একটি রুলের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চ এই রায় দেন। রায়ে ওই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তার দরকার হলে সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেও আদেশ দেয়া হয়। ২০১২ সালের ১১ই মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর ও ট্রেজারারকে ডাকসু নির্বাচনে ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশের জবাব না দেয়ায় ওই বছরই ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে একটি রিট করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ১০ই অক্টোবর হাইকোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্যানেলকে অবৈধ ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ সিনেটের মাধ্যমে ছয় মাসের মধ্যে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের নির্দেশ দেন। যেখানে সিনেট পূর্ণাঙ্গ করতে গেলে ডাকসু নির্বাচন দেয়াও আবশ্যক ছিল। কারণ সিনেটে ৫ জন ডাকসুর প্রতিনিধি থাকার আইন রয়েছে। এদিকে গত বছরের  অক্টোবরে ঢাবি কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। পরে ওই দিনই চেম্বার আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ই জানুয়ারি আপিল বিভাগ ঢাবি কর্তৃপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালতের দেয়া আদেশ প্রত্যাহার করে নেন।

ওয়ালিদ আশরাফের অনশন: ২০১৭ সালের ২৫শে নভেম্বর সন্ধ্যায় ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে একাই অনশনে বসেন ওয়ালিদ আশরাফ নামের সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক শিক্ষার্থী। তিনি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধীনে হিন্দি ভাষা শিক্ষা কোর্সের ছাত্র ছিলেন। টানা ১৫ দিন ডাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে অনশন করতে থাকা ওয়ালিদ আশরাফের অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে সিনিয়র শিক্ষকরা। অনশনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ডাকসু নির্বাচনের কোনো ঘোষণা না পেয়ে পুনরায় এপ্রিলে অনশনে বসেন ওয়ালিদ আশরাফ।

কর্তৃপক্ষের ডাকসু নির্বাচনের প্রথম ঘোষণা: এদিকে ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আদালতের দেয়া তারিখের বিষয়টি আমলে না নিয়ে ২০১৮ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ২০১৯ সালে মার্চের মধ্যে ডাকসু এবং হল সংসদ নির্বাচন দেয়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ওই বছরের ৩০শে মে’র মধ্যে সব হলে ডাকসু নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে বলেছিল সিন্ডিকেট।
পরিবেশ সংসদের সঙ্গে বৈঠক: ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসহ পরিবেশ সংসদের সদস্যভুক্ত বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরাসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভিসি ওই সভার সভাপতিত্ব করেন। এরপর পরিবেশ সংসদের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের ২১শে জানুয়ারি।

গঠনতন্ত্র সংশোধনে কমিটি গঠন: এদিকে জানুয়ারির শুরুতে ডাকসুর গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী ও আধুনিককরণে গঠনতন্ত্র সংশোধনে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে প্রধান করা হয় আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে। বাকি সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক জিনাত হুদা, অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা। এ কমিটি ৬ই জানুয়ারি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে এক সভা করে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন: ১৭ই জানুয়ারি ডাকসু নির্বাচনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমানকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। একই দিন তিনি ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করেন। এরপর ১৯ই জানুয়ারি প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার সহযোগী হিসেবে পাঁচজনকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ প্রাপ্ত পাঁচ রিটার্নিং কর্মকর্তা হলেন- মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অমল কৃষ্ণ হালদার, ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি গঠন: ১৯শে জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট ‘আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব মোকাদ্দেম এবং টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাংলাদেশের জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়

ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই সুর চড়াচ্ছে

বোনের খোঁজে দিশেহারা ভাই

বিয়ের দাওয়াত না দেয়ায় বরের উপর হামলা

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে শামছলের পরিবার

পশ্চিমবঙ্গে মাতৃভাষা দিবস সাড়ম্বরে পালিত

সরকারের অবহেলা খতিয়ে দেখবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

কেন্দ্রীয় নেতারা কেন ব্যর্থ হলেন সেই উত্তর চান প্রার্থীরা

মাকে খুঁজছে অবুঝ সানিন

যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আরেকটি ‘কিউবার মিসাইল সংকটের’ জন্য প্রস্তুত রাশিয়া

বাড়াবাড়ি করলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ

টার্গেটে বিশ্বের সব থেকে বড় বাংলা ব্লগ

সিলিন্ডার গ্যাসের বিকল্প খুঁজছি: কাদের

ডিএনএ টেস্টের জন্য রক্ত সংগ্রহ করছে সিআইডি

গ্যাস সংকটে চকবাজারের বাসিন্দারা

ইসলামিক স্টেটের ১৩ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে ইরানী গোয়েন্দারা