‘নকল’ অস্ত্র দিয়ে সিলেটে ছিনতাই

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার
ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হতো সিলেটে উদ্ধার হওয়া নকল আগ্নেয়াস্ত্র। আর এসব অস্ত্র রাখা হতো নিরাপদ স্থান মার্কেটে। ব্যবসার আড়ালে সংরক্ষণে থাকা এসব আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা সিলেট নগর দাপিয়ে বেড়াতো। সিলেটে সম্প্রতি কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত এসব নকল অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এখন পুলিশ খুঁজছে এসব অস্ত্র ব্যবহারকারীকে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব নকল অস্ত্র দিয়ে ছিনতাইকারীরা মানুষকে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করতো।
কয়েকদিন আগে নগরীর তালতলাস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক লিলি রাণী দেবী নিজ বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছিলেন। ব্যাংকের পার্শ্ববর্তী তালতলাস্থ হোটেল সুফিয়ার কাছে আসার পর মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক গতিরোধ করে তার।
এরপর অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনিয়ে নেয় গলার স্বর্ণের চেইন। নগরীর টিলাগড় মাদানী ঈদগাহর কাছে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর কাছ থেকে হাতব্যাগ, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এর আগে নগরীর সুবিদবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম নাদেলের মেয়েও ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এর বাইরে কয়েকটি বড় ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনাও সংগঠিত হয়। সব মিলিয়ে ছিনতাই হয়েছে প্রায় ১০টির মতো।
এসব ছিনতাইয়ের ঘটনার পর নগরজুড়ে ছিনতাইকারী ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অফিসগামী লোকজনই বেশি পড়েন ছিনতাইকারীদের কবলে। আর এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় টনক নড়ে সিলেট মহানগর পুলিশ প্রশাসনের। অনুসন্ধানে নামে পুলিশের কয়েকটি দল। তার ছিনতাইকারীদের গডফাদার ও দলবলের নিশানাও পায়। পায় নকল অস্ত্রের সন্ধানও। এর প্রেক্ষিতে গতকাল সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ আল-হামরা শপিং সিটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মার্কেটের নিচতলার স্মাইলি ফ্যাশন নামক দোকান থেকে ৬টি ‘নকল পিস্তল’ ও বিপুল পরিমাণ ছোরা উদ্ধার করা হয়। মহানগর পুলিশ জানিয়েছে- সমপ্রতি নগরীতে সংগঠিত ছিনতাই কাজে এসব ‘নকল অস্ত্র’ ও ছোরার ব্যবহার করেছে ছিনতাইকারীরা। সহজলভ্য হওয়ায় ছিনতাইকারীরা এগুলো দিয়ে নির্বিঘ্নে ছিনতাই করছে। এছাড়া ‘নকল অস্ত্র’ হওয়ায় এসব অস্ত্রসহ ছিনতাইকারী আটক হলেও তারা সহজে জামিনে বের হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুছা গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, যারা এসব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতো তাদেরও তথ্য মিলেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, এসব নকল অস্ত্র নিয়ে ছিনতাইকারীরা রাতের আঁধারে কিংবা ভোরে সিলেটে সক্রিয় হয়ে উঠতো। কয়েকটি ঘটনার পর পুলিশ ছিনতাই রোধে অনুসন্ধানে নামে। এরপর নকল অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের কয়েকটি টিম ছিনতাই রোধে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সিলেট নগরীর তালতলা এলাকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেল যোগে ছিনতাইকারী সকালের দিকে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতো। এরপর ছিনতাই সংঘটিত করার পর তারা চলে যায়। হেলমেট পরা থাকায় তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। কোথাও কোথাও সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও হেলমেট থাকার কারণে ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশ সক্রিয় হওয়ার পর এলাকায় হেলমেটধারী ওই সব যুবকদের দেখা মিলছে না। কখনো কখনো নগরীর মীর্জা জাঙ্গাল এলাকায় তাদের দেখা যায় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন