বনখেকো ওসমান গনির সাজা আপিলেও বহাল

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৯
‘বনখেকো’ খ্যাত সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গনিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ১২ বছরের সাজার রায় বহাল রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ওসমান গনির করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনমুতি চেয়ে আবেদন) মঙ্গলবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে ওসমান গনির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন। দুদকের পক্ষে ছিলেন মো. খুরশিদ আলম খান। এর আগে ২০১৫ সালের ১৫ই ডিসেম্বর ওসমান গনিকে  এ মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া ১২ বছরের সাজা বহালের রায় দেন বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিট টু আপিল করলে গতকাল তা বহাল থাকে। আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, আসামি ওসমান গনির করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে বিশেষ আদালতের দেয়া রায় বহাল থাকলো। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় জরুরি অবস্থার শাসনামলে ২০০৮ সালের ৫ই জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ওসমান গনিকে ১২ বছর ও তার স্ত্রী মোহসিনারা গনিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আদালত ওসমান গনির নামে থাকা এক কোটি ৮০ লাখ ও স্ত্রীর নামে থাকা দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ২৭০ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন যা বহাল থাকে হাইকোর্টে।
দুদক ২০০৭ সালের ১৬ই জুন ওসমান গনিকে তার সম্পত্তির হিসাব জমা দেয়ার নোটিশ দেয়। ওসমান গনি ২৬শে জুলাই তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জমা দেন। হিসাব বিবরণীতে তিনি স্ত্রী মোহসিনারা ও তার নামে তিন কোটি ৭০ লাখ ১৫ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ ২৯০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আছে বলে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৪৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৬ টাকার এফডিআরসহ (স্থায়ী আমানত) মোট এক কোটি ৫৬ লাখ ৭৬ হাজার ১৯১ টাকা জমা ছিল। বাসায় আসবাবপত্র দেখানো হয়েছে চার লাখ ৫৫ হাজার ৪শ’ টাকার। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য দেখানো হয় ৭ লাখ পাঁচ হাজার ৬শ’ টাকা। পরে যৌথবাহিনী ওসমান গনির উত্তরার সরকারি বাসভবনে অভিযান চালিয়ে চালের ড্রাম, বালিশ ও তোষকের ভেতর থেকে এক কোটি ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৬শ’ টাকা উদ্ধার করে। তারা ৪১ লাখ ১১ হাজার ৫শ’ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্রের সন্ধানও পায়। এরপরই ওসমান গনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাসা থেকে ওসমান গনির নামে দুটি পাসপোর্ট পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখার লকার থেকে ২৯০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ২০ ভরি অলঙ্কারের বৈধ কাগজপত্র ছিল। দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, ওসমান গনি এক কোটি দুই লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৪ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত (অবৈধ) সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৪ টাকা। ২০০৭ সালের ২৬শে জুলাই দুদক ওসমান গনি ও তার স্ত্রী মোহসিনারা গনির বিরুদ্ধে উত্তরা থানায় মামলা করে। দুদকের সহকারী পরিচালক আখতার হামিদ ভূঁইয়া ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরেক মায়ের

ওরা যাবে কোথায়?

জয়শঙ্কর ঢাকায়

বঙ্গবন্ধু হত্যায় আওয়ামী লীগ নেতারাই জড়িত

২ ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

দেড় মাসে স্বর্ণের দাম বাড়লো ৫ বার

মশক নিধনকর্মীদের দেখা মেলে কম

২০২৩ সালের মধ্যে সব প্রাথমিকে ‘স্কুল মিল’

চট্টগ্রামে কিশোরী ধর্ষণ, ভণ্ডপীর গ্রেপ্তার

গারো তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

কাঁচা চামড়া বেচা-কেনা শুরু

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার পুনর্বাসন করবে- ওবায়দুল কাদের

গ্রাহক নয়, উবার পাঠাওকে ৫% ভ্যাট দিতে হবে- এনবিআর

ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতে রেলওয়ের ব্যর্থতায় হাইকোর্টের রুল

পারভেজ পুলিশি রিমান্ডে

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সারা দেশে র‌্যালি করবে বিএনপি