বিসিআইসিতে বিতর্কিত কর্মকর্তা ঘুরেফিরে লোভনীয় পদে

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৬
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এ বিতর্কিত কর্মকর্তারাই ঘুরেফিরে লোভনীয় পদ দখল করছেন। দিন কাটাচ্ছেন দাপটের সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটিতে সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ড্যাম্পিং পদে ফেলে রাখা হচ্ছে। এনিয়ে বিসিআইসিতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ভয়ে সৎ কর্মকর্তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিআইসিতে কর্মচারী প্রধান (সিওপি)-এর পদটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগ ও বদলির মতো স্পর্শকাতর বিষয় সিওপি দেখভাল করে থাকেন। টানা কয়েক বছর গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্বে ছিলেন মমতাজ বেগম।
তার দায়িত্বের সময়ে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও লিখিত অভিযোগ রয়েছে। বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে মমতাজ বেগমের দুর্নীতির অবসান চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে বিসিআইসি’র এক কর্মচারী। রিট পিটিশনকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে একই বছরের ১৪ই জুন মমতাজ বেগমের নিয়োগ কর্মকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার পরই বিসিআইসি’র বর্তমান চেয়ারম্যান তাকে সিওপি পদ থেকে বদলি করেন। এখন নতুন করে সিওপি পদে বদলি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বর্তমানে বিসিআইসি’র এমআইএস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মমতাজ বেগম। এর আগে ২০০৯ সালে মমতাজ বেগমের দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শিল্প মন্ত্রণালয় এক আদেশ জারি করে। ওই বছরের ৩১শে আগস্ট জারি করা ওই আদেশে মমতাজ বেগমকে বিসিআইসি’র প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বদলি করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশ বাস্তবায়ন না করে তাকে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরপর ২০১৬ সালের ৬ই এপ্রিল বিসিআইসি’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে জানান, মমতাজ বেগম চাকরিতে যোগদানের সময় নিয়োগ বিধি বা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ পান। সেটা নিয়োগ বিধির পরিপন্থি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিআইসি’র এমআইএস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মমতাজ বেগম মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, আপনি কে? আপনাকে তো আমি চিনি না। যাকে চিনি না তার সঙ্গে কিসের কথা? তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো কথা না বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন