মানহীন ৫ কোম্পানির পানি

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০৯
বাজারে থাকা ৫টি কোম্পানির বোতল ও জারের পানি মানহীন ও খাওয়ার অনুপযোগী বলে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বোতল ও জারে পানি উৎপাদনকারী ১৫টি কোম্পানির নমুনা পরীক্ষা করে এ তথ্য জানানো হয়েছে হাইকোর্টে। মানহীন ও পান অনুপযোগী পাঁচটি কোম্পানি হলো- ইয়ামি ইয়ামি, এক্যুয়া মিনারেল,  সিএফবি, ওসমা ও সিনমিন।
পরে মানহীন এই পাঁচটি কোম্পানির বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএসটিআইকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া প্রতি দুই সপ্তাহে একবার বাজার থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআইকে পরীক্ষা চলমান রাখতে বলেছেন আদালত।     
সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে বিএসটিআইর জমা দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। আদালতে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি মো. মোখলেসুর রহমান। এ সময় রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন।
গত ১৪ই জানুয়ারি হাইকোর্ট বাজারে থাকা বোতলজাত খাবার পানির মান পরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশনার আলোকে প্রতিবেদন দাখিল করে বিএসটিআই।
আইনজীবী জে আর খান রবিন বলেন, ‘বিএসটিআই ১৫টি বোতল ও জারের পানি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে পাঁচটি কোম্পানির পানি মানহীন বা পান অনুপযোগী বলে উল্লেখ রয়েছে।
গত ৪ঠা জানুয়ারি থেকে ১৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত বিএসটিআই বাজার থেকে জার ও বোতলের পানির ২২টি নমুনা সংগ্রহ করে। এরমধ্যে ১৫টির নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।’
বিএসটিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮ জারি করা হয়েছে। আইনটি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তফসিলভুক্ত করা প্রক্রিয়াধীন। তফসিলভুক্ত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৪ঠা জানুয়ারি থেকে ১৭ই জানুয়ারি বিএসটিআই খোলা বাজার থেকে জার ও বোতলের পানি সংগ্রহ করে। বিএসটিআইর রাসায়নিক পরীক্ষা শাখা নমুনাও ওপর পরীক্ষা কার্যক্রম চলে। এ পরীক্ষায় ফ্রুটস অ্যান্ড ফ্লেভার লিমিটেডের ইয়ামি ইয়ামি, সিনহা বাংলাদেশ ট্রেডস লিমিটেডের ‘এক্যুয়া মিনারেল’, ক্রিস্টাল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘সিএফবি’, ওরোটেক ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজির ‘ওসমা’ ও শ্রী কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয় লিমিটেডের ‘সিনমিন’ নামের বোতলের পানি মানহীন এবং পান অনুপযোগী।’
প্রতিবেদনে বিএসটিআই আরো জানায় ‘প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ২৪টি সার্ভিলেন্স টিম পরিচালনা করে বাজারে থাকা মানহীন, অবৈধ ৩ হাজার ৯৭৯টি পানির জার জব্দ ও ধ্বংস করে। মানহীন পানি অবৈধভাবে বাজারজাত করায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ২৪টি মামলাও করা হয়েছে।’
২০১৮ সালের ৩রা ডিসেম্বর বাজারে বেআইনিভাবে বোতলজাত খাবার পানির সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে বিএসটিআই ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি আদালতের আদেশের পর বিএসটিআই কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছিল।    
এ ছাড়াও প্লাস্টিক বোতল ও জারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে সরকারের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং প্লাস্টিক বোতল ও জারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। খাদ্য সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সাতজনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গত ২২শে মে একটি দৈনিকে ‘প্রতারণার নাম বোতলজাত পানি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এ প্রতিবেদন সংযুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাম্মী আক্তার রিট আবেদনটি দায়ের করেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন