অটিজম

শরীর ও মন

প্রনব কর্মকার | ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশে বর্তমানে অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। ২০১৮ সালে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে আসে। তবে, এসব শিশুর জন্য নেই শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে আরো উদ্যোগ নেয়া হবে। কিন্তু অটিস্টিক শিশুদের জন্য কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, সবার আগে প্রয়োজন অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

অটিজম কোনো বংশগত বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মানসিক সমস্যা। এ সমস্যাকে ইংরেজিতে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বলে। অটিজমকে সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অটিজমের লক্ষণগুলো একদম শৈশব থেকেই, সাধারণত তিন বছর থেকে প্রকাশ পেতে থাকে।
অটিজমে আক্রান্তরা সামাজিক আচরণে দুর্বল হয়। পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম সক্ষম হয়। মানসিক সীমাবদ্ধতা ও একই কাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়। এই রোগে আক্রান্ত শিশু কারো সঙ্গেই, সে সমবয়সী হোক কিংবা অন্য যেকোনো বয়সী কারো সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না। এরা অনেকেই আকার ইঙ্গিতে কথা বলতে পছন্দ করে। এ ধরনের শিশু আপন মনে থাকতে পছন্দ করে। নিজের ইচ্ছের মতো চলে।

যখন যা করতে ইচ্ছে হয় তা করতে না পারলে এদের খিঁচুনি ভাব হয়। এরা কারো চোখের দিকে তাকায় না। কারো সঙ্গে নিজের ব্যবহারের জিনিস পত্র শেয়ার করতে চায় না। কারো দিকে তাকিয়ে হাসে না কিংবা আদর করলেও ততটা সাড়া দেয় না। অনেকে আবার আদর ও পছন্দ করে না। সাধারণভাবে অটিস্টিক শিশুরা একই কথা বারবার বলে এবং একই কাজ বার বার করতে পছন্দ করে।

কেন হয় অটিজম:
জন্ম থেকেই শিশুরা অটিজমে আক্রান্ত থাকে। তাদের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তিন বছর পর থেকে। বড় হতে হতে অটিজম ভালো হয়ে যায়। অটিজমের কারণে শিশুরা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার কারণে অনেকেরই অকাল মৃত্যু হয় বা অনেকেই বড় হলে ও অস্বাভাবিকতা নিয়ে বড় হয়। অটিজম কেন হয় তার সঠিক কারণ আজ পর্যন্ত উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞানী এবং ডাক্তারদের ধারণা ক্রোমোজম নম্বর ৭-এর অস্বাভাবিকতার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক আছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনোবিকাশের প্রতিবন্ধকতার কারণ, মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক জৈব রাসায়নিক কার্যকলাপ, মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক গঠন, বংশগতির অস্বাভাবিকতা প্রভৃতির কথা বলে থাকেন। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের সুষ্ঠু পরিচর্চার অভাবেও অটিজম হতে পারে।

লক্ষণ:
অটিজমের লক্ষণগুলো সঠিকভাবে জানার মাধ্যমে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখতে পাওয়া যায় সেগুলো হলো-
অটিস্টিক শিশুদের ঘুম সম্পর্কিত কিছু সমস্যা থাকে। ঘুম স্বাভাবিক না হওয়ার কারণে তাদের মনোযোগ ও কাজের সক্ষমতা কমে যায় এবং আচার আচরণে সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়। অনেক শিশুর সঠিক সময়ে কথা বলতে সমস্যা হয়। মূলত ১৮ মাস থেকে ২ বছর সময়ের মধ্যে এটা বোঝা যায়। অনেক অটিস্টিক শিশুর মাঝে অল্প মাত্রায় হলেও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতা লক্ষ্য করা যায়। অনেক শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয় না। অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশু দেখা, শোনা, গন্ধ, স্বাদ অথবা স্পর্শের প্রতি অতি সংবেদনশীল অথবা প্রতিক্রিয়াহীন থাকতে পারে। সাধারণত অটিস্টিক শিশুদের প্রতি চারজনে একজনের খিঁচুনি সমস্যা হতে পারে। অটিজম থাকা শিশুদের মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ সব শিশুর বিষণœতা, উদ্বিগ্নতা ও মনোযোগে ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। অটিস্টিক শিশুদের প্রায়ই হজমের অসুবিধা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের গ্যাস, বমি ইত্যাদি হতে পারে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অসীম ক্ষমতার মালিক হবেন মিশরের প্রেসিডেন্ট!

‘বাংলাদেশ দৈবক্রমে সৃষ্টি হয়নি’

পবিত্র লাইলাতুল বরাত আজ

দল গোছাতে ব্যস্ত বিএনপি

অন্যদেশ থেকে লোক এনে প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল

ফেরদৌস-নূরের পর...

মোকাব্বির খানকে শোকজ

ভাই নেই, তাই থেমে গেছে নেহার পড়াশোনা

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগেই সফল হবো

৮ বছরেও বিচার হয়নি

প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাই সফরে যাচ্ছেন আজ

অনুমতি পেলেই সিঙ্গাপুরে নেয়া হবে সুবীর নন্দীকে

‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ ছাড়া বহুতল ভবন ব্যবহার করা যাবে না

পোশাক শিল্পের অবদান বাড়লেও পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক

‘চীনের বিআরআই উদ্যোগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় ঢাকা’

নুসরাত হত্যা ধামাচাপা দিতে অর্থ লেনদেন হয়েছে: সিআইডি