গোলকধাঁধায় ১৫ উপজেলা চেয়ারম্যান-মেয়র

প্রথম পাতা

বিশেষ প্রতিনিধি | ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩৩
সংসদ সদস্য হতে পদত্যাগপত্র জমা দেন ১৫ উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র। প্রথমে এদের প্রায় সবাইকেই ভোটে অযোগ্য ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ২রা ডিসেম্বরের এই আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তারা প্রার্থিতা ফিরে পান। এরপর উচ্চ  আদালত তাদের ভোটের পথ আটকে দেয়। এরপর থেকে রীতিমতো গোলকধাঁধার মধ্যে আছেন এসব জনপ্রতিনিধি। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। কারণ তাদের উপজেলা চেয়ারম্যান বা মেয়র পদটি আছে কিনা ওই বিষয়টি নিয়ে তারা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। আগের দায়িত্ব কেউ ফিরে পাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন ১২ জন। এদের মধ্যে ১০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দুইজন পৌর মেয়র। তিনজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। পদত্যাগী কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগপত্রের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না তারা। পদ হারানো উপজেলা চেয়ারম্যানরা জানেন না তারা আর জনপ্রতিনিধি আছেন কিনা। কেউ কেউ তাদের পদ ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় বেশকিছু কাজ আটকে আছে। এর আগে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে খন্দকার আবু আশফাক ঢাকা-১, ধামরাইয়ের উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে তমিজ উদ্দিন আহমেদ ঢাকা-২০ আসনে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন তাদের মার্কা বরাদ্দ দিলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আবেদনে প্রথমে হাইকোর্ট এবং পরে আপিল বিভাগ তাদের প্রার্থিতা স্থগিত করে। একই ঘটনা ঘটেছে জামালপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম (সরিষাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান), নরসিংদী-৩ আসনের মঞ্জুর এলাহী (সদর উপজেলা চেয়ারম্যান), বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টন (গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান), জয়পুরহাট-১ আসনের ফজলুর রহমান (সদর উপজেলা চেয়ারম্যান), রাজশাহী-৬ আসনের আবু সাঈদ চাঁদ (চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান), নাটোর-৪ আসনের আব্দুল আজিজ (বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের মোসলেম উদ্দিন (আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান), ঝিনাইদহ-২ আসনের আব্দুল মজিদ (হরিণাকুণ্ডু উপজেলা চেয়ারম্যান)-এর ক্ষেত্রে। নীলফামারী-৪ আসনে ধানের শীষ পাওয়া আমজাদ হোসেন শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়তে পারেন নি সৈয়দপুর পৌর মেয়রের পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণে। দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ভোটে দাঁড়াতে পারেন নি দিনাজপুর পৌরসভার মেয়রের পদ ছাড়ার চিঠি গ্রহণ না হওয়ায়। রংপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু গঙ্গাচড়া, ময়মনসিংহ-৮ আসনের বিদ্রোহী মাহমুদ হাসান সুমন ঈশ্বরগঞ্জ এবং পিরোজপুর-৩ আসনের বিদ্রোহী আশরাফুর রহমান মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার চিঠি দিয়েই জাতীয় নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন নি। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা চেয়ারম্যানরা পদত্যাগপত্র দিলেও সেটি এখনো গৃহীত হয়নি। তবে বিষয়টি উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না। পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রদের প্রত্যাশা, সহসাই এ বিষয়ে সরকার একটি সিদ্ধান্ত নেবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন