মানবজমিনকে রিজভী

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের তৃণমূলে আগ্রহ নেই

প্রথম পাতা

কাফি কামাল | ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৩
আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই, বরং অনীহা বিএনপির তৃণমূলে। জাতীয় নির্বাচনে চরম কারচুপির পর দলীয় সরকারের অধীনে এখন কোনো নির্বাচনেই তাদের আগ্রহ নেই। বরং নির্মোহভাবে সার্বিক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি  ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চাইছে তারা। সরকারের তরফে নানামুখী প্রোপাগান্ডা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বের ভেতরেও ঐক্য ধরে রাখতে চাইছে ২০দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে অনিয়মের ঘটনা ও অনিয়মের কৌশলগুলোর তথ্য সংগ্রহের। উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীসহ নানা মহলের সঙ্গে একটি জাতীয় সংলাপের। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেশের নানা জেলায় সফর করছেন নেতারা। সার্বিকভাবে ধীরে-সুস্থে কিন্তু দূরদর্শিতার সঙ্গে নেয়া হচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপ।
দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আগামী মার্চে পাঁচ দফায় উপজেলা নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোভাব কি- এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, বিগত এক দশক ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় নির্বাচনসহ একাধিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। কখনও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সেখানে ক্ষমতাসীনরা কিভাবে অনিয়ম করে তা দেশের নতুন প্রজন্ম ও বিদেশিদের সামনে প্রমাণ করতে আবার কখনও আন্দোলনের অংশ হিসেবে এসব নির্বাচনে অংশ নেয়া হয়েছে। বারবার ক্ষমতাসীনদের অনিয়মের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে, প্রমাণ হয়েছে।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দল। এ নিয়ে নানামহলে নানা কথাও ছিল। কিন্তু এবার ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেয়ায় অতীতের বর্জনের ব্যাপারে যে প্রশ্নগুলো ছিল তা সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে খোদ দলের তৃণমূলেই তেমন কোনো আগ্রহ নেই। রিজভী বলেন, এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরামে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম ও জোটের নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে ঐক্য হয়েছে সেটা পুরোপুরি অটুট আছে। আগামীতে এ সম্পর্ক আরো জমাটবদ্ধ ও ঐক্য ইস্পাত কঠিন হবে। যদিও সরকারের লোকজন ও তাদের আনুকূল্যভোগীরা নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা করছে। গণমাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ও রাজনীতি নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর, একপেশে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে গঠিত এ ঐক্য কোন অপপ্রচার, প্রোপাগান্ডা ও বিভ্রান্তিতে নষ্ট হবে না। ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতের ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের অস্বস্তি ও জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোটবদ্ধ রাজনীতির ব্যাপারে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের রাজনৈতিক ঐক্য হয়েছে। সেখানে জামায়াত নেই। আবার জামায়াতসহ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট রয়েছে। এখানে স্বতন্ত্র দল ও স্বতন্ত্র জোটের রাজনীতি অব্যাহত আছে। সর্বোপরি, সরকারের প্রোপাগান্ডা ও অপচেষ্টা ঐক্যের বিরুদ্ধে প্রভাব ফেলতে পারবে না।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কি করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রথমত, সারা দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসনওয়ারী বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার-হয়রানি, হত্যা, নির্বাচনে অনিয়মের নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা পেয়ে সারা দেশ থেকে সংশ্লিষ্টরা প্রতিদিনই এসব তথ্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে হত্যা ও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত, বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তৃতীয়ত, দলের নীতিনির্ধারক ফোরাম, জোট ও ফ্রন্টের নেতারা নিয়মিত আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করছেন। আগামীতে পর্যায়ক্রমে আরো কিছু উদ্যোগ আসবে। বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক জেলা সফরে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আপাতত এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে প্রয়োজনে এসব উদ্যোগও নিতে পারেন দলের নীতিনির্ধারক ফোরাম।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কিংবা কোন ইস্যুতে বিএনপি সহসা কোনো আন্দোলন কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে কিনা? রিজভী বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। ফলে এখন যেসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে সবই সে আন্দোলনের অংশ। তবে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচিকেন্দ্রিক আন্দোলনের ব্যাপারে এখনও দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ও ফলাফল নিয়ে কূটনীতিকদের মনোভাব ও বিএনপির উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের তরফে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ব্রিফ করা হয়েছে। কূটনীতিকরা ইতিমধ্যে তাদের মনোভাব প্রকাশ করেছেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

SM.Rafiqul Islam

২০১৯-০১-১৬ ২২:১০:১০

No Election under this CEC & Present Govt.

আপনার মতামত দিন