রূপসায় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৯ জন মাঠে

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবের এক ঘোষণার পর থেকেই রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থনকারীদের প্রচার-প্রচারণা। অনেকেই তাদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন ও দোয়া চাচ্ছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন চায়ের দোকানে আড্ডায় উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মুখে শুরু হয়েছে আলাপ-আলোচনা। এতে আওয়ামী লীগের ৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সরব হলেও চুপচাপ রয়েছে বিএনপি জোট। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জেলাসহ কেন্দ্রে লবিং শুরু করে দিয়েছেন। শুরু করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়। নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে অনেকে গণসংযোগও শুরু করেছেন।
আওয়ামী লীগ থেকে রূপসা উপজলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন-বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর শেখ, জেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাসেম ডাবলু, বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ সরদার ফেরদাউস রহমান, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও আইচগাতি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, টিএসবি ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গির শেখ, খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ, নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল (মিনা কামাল)।
মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, কয়েকবার ঘাটভোগ ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। উপজেলার মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে ২০০৯ সালে নির্বাচিত করেছেন। জনগণের ভালোবাসায় এখনো আছি, ভবিষ্যতে থাকবো। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো।
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী ছাত্র রাজনীতি থেকে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দু-সময় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করে দলকে সু-সংগঠিত করেছেন। উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে তিনি জানান। এছাড়া প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালে এমপি মনোনয়ন সংগ্রহ করছিলেন। তার বিশ্বাস দল তাকে মনোনয়ন দেবে।
সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর শেখ বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণের আহ্বানে আমি ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছিলাম। দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণের ভালবাসায় এবারও উপজেলা নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছি। আশা করি দলীয় নেতা কর্মী ও জনগণের সমর্থনের কারণে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিবেন। জনগণের ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে রূপসাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।
খুলনা জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও আইচগাতি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলাম। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৯ জেলা কৃষকলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। দলের দুর্দিনে রাজপথে ছিলাম, এখনো আছি এবং যত দিন বেঁচে থাকবো দলের জন্য কাজ করে যাবো। তাই দল আমাকে সকল কাজের মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দিবে বলে আশাবাদী।
রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাসেম ডাবলু ১৯৮৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সাথে রাজনীতি করে আসছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, দলের জন্য আমার পরিবারের অনেকেই হারিয়েছি। দলের নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয় দেবে।
টিএসবি ইউনিয়নের সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গির শেখ বলেন, নির্বাচনে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছি। আমি সুনামের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। জনগণের সঙ্গে মিলে মিশে আছি। সবাইকে নিয়ে উপজেলার উন্নয়ন করতে চাই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার হাতে হাত রেখে সুখী সমৃদ্ধ উপজেলা গড়ে তুলবো। বিগত দিন থেকে বর্তমানে দলের লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি। আমি আশাবাদী দল সব দিক বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দেবে।
অপরদিকে বিএনপি জোটের কোনো প্রার্থীই মাঠে নেই। বিগত নির্বাচনে বিএনপি নেতা মনিরুল হাসান বাপ্পী প্রার্থী ছিলেন। এবার তিনি নির্বাচন করবেন না বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি’র এক শীর্ষ নেতা জানান, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করা মানেই বোকামি। জনগণ ভোট দিলেও সে ভোট ছিনিয়ে নেয়া হবে। প্রার্থী হলেই মামলা-হয়রানি হবে। নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হবে। তার চেয়ে নির্বাচন থেকে দূরে থাকা ভালো। যে কারণে বিএনপি জোটের কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘নিজের সঙ্গে যুদ্ধে জিতেছি’

রেকর্ড ম্যান সাকিব

এই লিটনকেই দেখতে চায় বাংলাদেশ

মারা গেলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরসি

বিরোধিতার মুখে ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

লাল-সবুজের ‘ফেরিওয়ালা’ বিলেতি নারী

‘যে’ কারণে রুবেল নয়, লিটন

স্বরূপে মোস্তাফিজ, ফর্ম জারি সাইফুদ্দিনের

ভাগ্নেকে ফিরে পেতে সোহেল তাজের সংবাদ সম্মেলন

বছরে বিশ্বজুড়ে আড়াই কোটি শরণার্থী পাড়ি দেন ২শ’ কোটি কিলোমিটার পথ

দুশ্চিন্তায় সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা

‘গণপিটুনির ভয়ে পলাতক ছিলেন’

ব্যাংকে টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই

‘রোল মডেল’ হতে চায় সিলেট বিএনপি

ভুল করেই পাসপোর্ট সঙ্গে নেননি পাইলট ফজল

দেশে ফিরতে রাজি ভূমধ্যসাগরে আটকা ৬৪ বাংলাদেশি