নয়াপল্টনে গাড়িতে আগুন দেয়া সেই যুবক গ্রেপ্তার

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৯
গত ১৪ই নভেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া সেই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম ওয়াসিম। গতকাল পল্লবীর বিহারি ক্যাম্প এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, ওয়াসিম বিএনপির সমর্থক। তবে কোন পদে রয়েছেন তা তদন্ত করা হচ্ছে।

আবদুল বাতেন বলেন, গত ১৪ই নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হলে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দুপুরের দিকে একটি বড় আকারের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর আক্রমণ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় পরে পল্টন থানায় তিনটি মামলা হয়। মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের এলাকা থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ প্রকাশ্য ও গোপনে তদন্ত করে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীকে শনাক্ত করা হয়। ওয়াসিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে জানিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা মাথায় হেলমেট পরে এ নৈরাজ্য তৈরি করেছে।
এর পরপর তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যারা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী। ওয়াসিমসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াসিম গাড়িতে অগ্নিসংযোগে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের এ অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বিএনপির বড় কোনো নেতা জড়িত রয়েছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১৪ই নভেম্বর বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসার সময় হাজারখানেক নেতা-কর্মীর মিছিল পুরো রাস্তা আটকে দেয়। মিছিলটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি লেন চালু করার চেষ্টায় পুলিশ লাঠিপেটা করলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খুব দ্রুত মারমুখী হয়ে ওঠেন। তাদের লক্ষ্য করে পুলিশ প্রচুর কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ছররা গুলি ছোড়ে। গুলি-কাঁদানে গ্যাসের শেলের দ্রুম দ্রুম শব্দ, গ্যাসের ধোঁয়া, নেতা-কর্মীদের হইচই, ধর ধর চিৎকার, মানুষের ছোটাছুটি, হুড়মুড় করে দোকানের ঝাঁপ নামানোর শব্দ- সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কিছু যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দেড় ঘণ্টার সংঘর্ষে ২৩ পুলিশ সদস্য এবং অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন বলে দাবি উভয় পক্ষের।

এ ঘটনার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সংঘর্ষের জন্য বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, বিএনপির আরেক নেতা আখতারুজ্জামান ও নবীউল্লাহ দায়ী। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে পুলিশ তিনটি মামলা করেছে। অন্যদিকে বিএনপির এই নেতার অভিযোগ ছিল, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওইদিন গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত ছিল।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গ্রামবাসীর ওপর হামলার অভিযোগে ভারতে এক কর্নেল ও ৪০ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

চকবাজারে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবক নিহত

রাখাইন ও চিন রাজ্যে ইন্টারনেট সংযোগ পুনঃস্থাপনে জাতিসংঘ ও সিপিজের আহ্বান

বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির সমর্থককে গুলি করে হত্যা

ইরানকে বিরত রাখতে সবকিছু করবে ইসরাইল

কলকাতায় গ্রেপ্তার ৪ জেএমবি জঙ্গী

ভারতে পিটিয়ে মুসলিম যুবক হত্যায় গ্রেপ্তার ৫

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ, উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান নিরাপত্তা পরিষদের

ফেনীতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতী নিহত

সাকিবের জন্য কোনো বিশেষণই যেন যথেষ্ট নয়

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩ মানবপাচারকারী নিহত

‘এই বিষয়ে এখন আর কোনো জটিলতা নেই’

আমাদের হারকিউলিস

আরেকটি মাইলফলকে মুশফিক

বিশ্বকাপে অন্যন্য এক রেকর্ড সাকিবের

এক ম্যাচে সাকিবের এত রেকর্ড !